স্বল্পদক্ষ কর্মী : ট্রাম্প প্রশাসনের তালিকা থেকে বাদ হাইতি

শনিবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৮

কাগজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্পদক্ষ কর্মী নেয়ার তালিকা থেকে হাইতিকে বাদ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে উত্তর আমেরিকার এ দেশটির নাগরিকরা আর যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-টুএ ও এইচ-টুবি ভিসায় আবেদন করতে পারবেন না। বুধবার এক ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) হাইতিকে এ ধরনের ভিসার আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকা থেকে বাদ দেয় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

হাইতির সঙ্গে বেলিজ ও সামোয়াকেও তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। যদিও এখনো ৮০টির মতো দেশের কম দক্ষ নাগরিকরা কৃষি ও অন্যান্য খাতে কাজ করতে স্বল্পকালীন সময়ের জন্য এইচ-টুএ ও এইচ-টুবি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবেন।

২০১০ সালে প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের পর হাইতির কিছু নাগরিককে এসব ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার পথ সুগম করেছিল ওবামা প্রশাসন। কাজের বিনিময়ে পাওয়া অর্থ হাইতিতে পাঠিয়ে তারা দেশটির পুনর্গঠনে কিছুটা ভূমিকাও রাখতে পারবে, এমনটাই ছিল তৎকালীন মার্কিন প্রশাসনের ভাবনা। ওভাল অফিসে একদল সাংসদের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হাইতি ও আফ্রিকার দেশগুলোকে ‘অত্যন্ত নোংরা জায়গা’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন, গণমাধ্যমে এমন প্রচারের সপ্তাহখানেকের মধ্যে ডিএইচএস স্বল্পদক্ষ কর্মী নেয়ার তালিকা থেকে হাইতিকে বাদ দিল। ট্রাম্প অবশ্য আফ্রিকার দেশগুলোকে ‘নোংরা জায়গা’ বলার কথা অস্বীকার করেছেন। বুধবার রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হাইতির নাগরিকদের প্রশংসাও করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি তাদের ভালোবাসি। সেখানে চমৎকার উষ্ণতা আছে; এবং তারা বেশ পরিশ্রমীও। একইদিন এক ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, এইচ-টুএ ও এইচ-টুবি ভিসা জালিয়াতি ও অতি মাত্রায় অপব্যবহার এবং মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় হাইতির নাগরিকদের এ ভিসার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হলো। ডিএইচএসের গতবছরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা হাইতির নাগরিকদের ৪০ শতাংশই মেয়াদ শেষের পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। মানবপাচারের ঝুঁকি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে অব্যাহতি দেয়া নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার আদেশ না শোনায় বেলিজ ও সামোয়াকেও স্বল্পদক্ষ কর্মী নেয়ার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে ডিএইচএস জানিয়েছে। রয়টার্স বলছে, ভিসার অপব্যবহারের কথা বলে হাইতিকে তালিকা থেকে বাদ দিলেও ২০১২ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় প্রবেশ করা হাইতিয়ানের সংখ্যা অত্যন্ত নগন্য। ভূমিকম্পে দুই লাখের বেশি নিহত এবং প্রচুর ক্ষয়ক্ষতির পর ওবামা প্রশাসন ওই বছর থেকে উত্তর আমেরিকার দেশটির কিছু নাগরিককে এইচ-টুএ ও এইচ-টুবি ভিসা দিয়েছিল।

২০১৬ সালে কৃষিখাতে কাজ করার জন্য এইচ-টুএ ভিসায় হাইতির ৬৫ নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল বলে ডিএইচএসের গত বছরের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ২০১৭-র মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত একই ভিসায় দেশটির ৫৪ জন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিলেন।

ডিএইচএস জানায়, ২০১৬ সালে এইচ-টুবি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা হাইতির নাগরিকের সংখ্যা ‘শূন্যের চেয়ে বেশি ছিল, কিন্তু প্রতিবেদনে উল্লেখ করার মতো নয়’। সমালোচকরা বলছেন, ভূমিকম্পের পর দেশটির পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখা হাইতির নাগরিকদের ভিসা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ‘বাজে নজির’ স্থাপন করল ট্রাম্প প্রশাসন। তারা হাইতির জনগণের জন্য অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে হিতকর ভিসা বন্ধ করে দিল। যদিও বেশি মানুষ এ সুযোগ পেত না; কিন্তু যারা পেত তারা পরিবর্তনে বিরাট ভূমিকা রাখছিল, বলেন ভার্জিনিয়াভিত্তিক একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সারাহ উইলিয়ামস।

তাদের প্রতিষ্ঠান হাইতির নাগরিকদের এইচ-টুএ ও এইচ-টুবি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসত।

যেসব প্রতিষ্ঠানে হাইতির নাগরিকরা কাজ করেছেন, তারাও ট্রাম্প প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। হাইতিয়ানরা পরিশ্রমী বলেও মন্তব্য করেছেন সেসব প্রতিষ্ঠান। ট্রাম্প প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ওয়াশিংটনের হাইতি দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। হাইতিতে থাকা মার্কিন কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj