টেকসই উন্নয়নের জন্য টেকসই সবুজায়ন

বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮

অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে যে, যেন না পেরেই সবাই শহরে বসবাস করছে। সবুজে যেতে না পারলে অসুস্থ হয়ে যেতে হয় যেন। কিন্তু সবুজে যেতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন কখনো কখনো। কেউ কেউ ইচ্ছা করলেও আবার যেতে পারে না ব্যস্ততার কারণে দূরের অবকাশযাপনের জায়গাগুলোতে। এদিকে গ্রাম্য এলাকাগুলোও শহর হয়ে উঠছে, নদীগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে, গাছ কেটে আলিশান বাড়ি, ফ্যাক্টরি গড়ে উঠছে, বনভূমি কেটে করা হচ্ছে বিরানভূমি। এক সময় মাটির দেখাই পাওয়া যাবে না শহরের আশপাশের মফস্বলগুলোতেও। ঢাকার অদূরে গাজীপুর ও সাভারের অবস্থাই এখন অনেকটা ইট পাথুরে। এটা সঠিক পথ হতে পারে না। শুধু নগরায়ন বলতে আমাদের মধ্যে এমন ভাবনা গড়ে উঠছে যে, এখানে সব ধরনের সুবিধা থাকবে কিন্তু সবুজ থাকবে না তা আর সঠিক ব্যাখ্যায় বলে বিবেচনায় আনা যাচ্ছে না। এত মানুষের দেশে পরিকল্পনা করে বাস্তবায়ন করা সবচেয়ে কঠিন কাজ হলেও কিছু পরিকল্পনা নিতেই হবে আমাদের সুস্থভাবে বাঁচার জন্য। আমরা যতই আধুনিক হই সবুজে আমাদের ফিরতে হবেই।

যেভাবে নগরায়নের জন্য আমরা অবকাঠামো নির্মাণ করছি তাতে এক সময় নগরায়ন ঠিকই হবে কিন্তু আমরা ইচ্ছা করলেই আবার আগের অবস্থায় অর্থাৎ গ্রাম্য সুস্থ পরিবেশে ফিরতে পারব? নগর পরিকল্পনাবিদরা শহরে গাছ লাগানোর দিকে মনোযোগী হয়েছেন। ইদানীং ছাদে বাগানকে উৎসাহিত করা হচ্ছে কিন্তু এতেই কি সবুজায়ন সবটুকু সম্ভব? আবার শুধু সবুজায়নও নয় প্রয়োজন জলাধার, প্রয়োজন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো টেকসই উন্নয়ন চিন্তা। নগরায়নের জন্য উন্নয়ন হতেই হবে তবে সবুজের প্রয়োজনীয়তাও অনেক। এখন সে প্রয়োজনীয়তাকে কাজে রূপান্তরিত করার জন্য যেসব এলাকায় এখনো পরিপূর্ণ নগরায়ন হয়নি সেসব এলাকায় ছোট্ট ছোট্ট গুচ্ছগ্রাম আকারে নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা গ্রামের আদর্শিক হিসেবে রাখার পরিকল্পনা করতে হবে। যেখানে পুরো গ্রামজুড়ে থাকবে ছোট ছোট জলাশয়, ফসলের মাঠ ও বৃক্ষরাজিতে পরিপূর্ণ। থাকবে ঔষধি গাছের বাগান, নির্দিষ্ট আলাদা ফলের বাগান ও আলাদা আলাদা ফসলের মাঠ।

অর্থাৎ শহরের কাছাকাছি এ রকম গ্রাম তৈরি করা হবে মানুষের উদ্যোমকে ফিরে পাওয়ার জন্য আদর্শিক প্রাকৃতিক জায়গা হিসেবে। এর সঙ্গে নগরে সবুজ বাড়ানোর জন্য ফ্যাক্টরির পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরিমাপের বাইরে বাড়ি করার ক্ষেত্রেও ইআইএ (এনভায়রনমেন্ট ইমপ্যাক্ট এসেসমেন্ট) রিপোর্ট বাধ্যতামূলক করা। এতে করে একটি বাড়িতে কতজন মানুষ থাকবে এবং তা থেকে কী পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হবে তা গণনা করে ওই অনুযায়ী বৃক্ষরোপণ করে বাড়ি তৈরি করা। এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি কাঠামো। পরিবেশ বাঁচানোর জন্য একটি মহল্লার পয়ঃনিষ্কাশনের ক্ষেত্রে এসটিপি স্থাপনও বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন বলে মনে করি। অন্ততপক্ষে ১ হাজার বাড়ির জন্য একটি এসটিপি নির্মাণ করা সময়োপযোগী একটি চাওয়া। এ কাজগুলো টেকসই উন্নয়ন ও মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য খুব প্রয়োজনীয়। এখন থেকে এভাবে না এগোতে পারলে এক সময় আমরা সবুজের আবহ প্রাপ্তি থেকে সম্পূর্ণ বিতাড়িত হতে বাধ্য হব। আশা করি পরিবেশ অধিদপ্তর ও এ সংক্রান্ত সবাই এ বিষয়গুলো নিয়ে নতুন করে ভেবে কাজ করবে এবং বাংলাদেশকে টেকসই উন্নয়নের পথিকৃত হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে।

সাঈদ চৌধুরী
শ্রীপুর, গাজীপুর।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj