পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্ভাবনা তিন স্থলবন্দর

বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮

বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ সম্প্রসারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ির স্থলবন্দরের গুরুত্ব রয়েছে এবং উদ্যোগ তো আছে সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলকে ঘিরে বিশেষ পর্যটন স্পট গড়ে তোলার।

রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার ঠেগামুখ স্থলবন্দর। এটির সঙ্গে ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুংলেই জেলার এলসি স্টেশন দেমাগ্রী স্থলবন্দর সংযুক্ত। এ বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে আলু, বেগুনসহ যাবতীয় সবজি, পেঁয়াজ, রসুন, কাপড়, প্লাস্টিক সামগ্রী, বিস্কুট, মরিচ, মসলা, পানির ফিল্টার, তামাকপাতা, তৈরি পোশাক, কম্বল, চাল, ইট, সিমেন্ট, নাপ্পি-চিদল ইত্যাদি পণ্য রপ্তানির চাহিদা আছে । অন্যদিকে ভারত থেকে মরিচ, আদা, হলুদ, কাঠ, বাঁশ, কমলা ইত্যাদি আমদানি করা যেতে পারে। বর্তমানে এ পণ্যগুলো চোরাইপথে আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে। রাজস্ব হারাচ্ছে উভয় দেশ। বাংলাদেশের বরকল সীমান্তে ঠেগামুখ স্থল কাস্টমস স্টেশনের মধ্য দিয়ে দুটি শহর থেকে মালপত্র আনা-নেয়া অনেক সুবিধা ও লাভজনক। এই ভোগৌলিক নৈকট্যকে কাজে লাগিয়ে পরিবহন খরচ কমিয়ে লাভজনক ব্যবসা করা সম্ভব এবং বিশাল সুযোগ রয়েছে মিজোরাম, মনিপুর ও নাগাল্যান্ডে বাংলাদেশি পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টির।

বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম স্থলবন্দর। ঘুমধুম বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়কের সংযোগস্থল। দুদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারসহ থাইল্যান্ড, ভুটান, চীন, নেপাল, ভারত, মালয়েশিয়াসহ বহির্বিশ্বে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সৃষ্টির সম্ভাবনা এ বন্দরটি। ঘুমধুমে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কুমির প্রজনন কেন্দ্র, বনজ ফলদ বাণিজ্যিক বাগান। আছে চোখ ধাঁধানো পর্যটন স্পট। ট্রান্স-এশিয়ান রেলপথ চালু করতে মিয়ানমারের সীমান্ত ঘুমধুম পর্যন্ত ট্রেন সংযোগে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম-দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেল যোগাযোগ প্রকল্প। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্যের দ্বার আরেকধাপ উন্মোচন করতে এ স্থলবন্দরের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, ফলে বদলে যাবে মিয়ানমার লাগোয়া সীমান্ত জনপদ ঘুমধুমের চেহারাও এবং এটি হবে এশিয়ান হাইওয়ের প্রবেশ দ্বার। খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর, এটি ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরার সাবরুম স্থলবন্দরে সম্পৃক্ত। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার সঙ্গে বাণিজ্য প্রসারে চট্টগ্রাম ও ত্রিপুরার ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের আশার সঞ্চার করছে এ বন্দর। বাংলাদেশ থেকে প্রসাধনসামগ্রী, সিরামিক ও মেলামাইন পণ্য, সিমেন্ট, ইট, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, তামাকজাতীয় পণ্য, শুঁটকি মাছ প্রভৃতি ত্রিপুরা রাজ্যে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে ত্রিপুরা থেকে কাঠ, বাঁশ, পাথর, মসলা প্রভৃতি পণ্য আমদানি করা যেতে পারে।

প্রতিবেশী ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ‘সেভেন সিস্টার্স’খ্যাত রাজ্যগুলো এবং মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্যকে আরো গতিশীল ও বেগবান করতে এ তিন স্থলবন্দরের ফলে শুধু সীমান্ত এলাকার মানুষেরই উপকার হবে না, বরং ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার তিন দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি দেশে গতিশীল হবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। সৃষ্টি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। এ স্থলবন্দরগুলোর বাস্তবায়নে বদলে যাবে পর্যটন নগরী চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে চিত্র। বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে দেশের অর্থনীতিতে এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যবসায়ীদের। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আমদানি- রপ্তানি বাণিজ্যে ভারত বাংলাদেশ থেকে যেভাবে সুবিধা পাচ্ছে সেই সুবিধা বাংলাদেশকে দেয়া হচ্ছে না। এমনটি যেন কোনো ক্রমেই না হয়। সীমান্ত বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে সেটা সব দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

মুনযির আকলাম
কোরপাই, বুড়িচং, কুমিল্লা।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj