আইন-শৃঙ্খলা : বেড়েছে সামাজিক অপরাধ

রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭

আজিজুর রহমান :: বিদায়ী বছর ছিল ঘটনাবহুল। বিশেষ করে জঙ্গি আস্ফালন রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ছিল উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া অপহরণ, ধর্ষণ, খুন, চুরি ছিনতাই ও ডাকতির ঘটনাও ছিল আলোচনায়। তবে সামাজিক অপরাধ হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি উল্টোপথে ভিআইপি যান চলাচল ও মন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারি প্রশাসনিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রশংসা কুড়ায়।

নব্য জেএমবির গুলশান হামলার পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শুরু হয় জঙ্গিবিরোধী অভিযান। একেক করে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় দেশের বেশ কয়েকটি জঙ্গি আস্তানা। ২০১৭ সালেও সে অভিযান অব্যাহত থাকে। এ বছরের আলোচিত কিছু জঙ্গি অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সফল অভিযানের বিষয়টি তুলে ধরা হলো। বছরের বড় ধরনের জঙ্গিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জেএমবি আস্তানা ছায়ানীড়ে অপারেশন অ্যাসল্ট ১৬ নামে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, শক্তিশালী বোমা এবং তা তৈরির সরঞ্জাম ও গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। ১৬ মার্চ সীতাকুণ্ডের দুটি জঙ্গি আস্তানায় শ্বাসরূদ্ধকর অভিযান সফল হয়। ছায়ানীড়ে মূল অপারেশন চলে ভোর ৬টা ২০ থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। অপারেশনে ওই বাড়িতে আটকে পড়া ২০ জনকে উদ্ধার করা হয়। আত্মঘাতী হামলায় নিহত হয় এক নারীসহ ৫ জঙ্গি। রাজধানীর আশকোনায় র‌্যাব নির্মাণাধীন কার্যালয়ে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে গত ১৭ মার্চ। হামলায় র‌্যাবের ২ সদস্য আহত হন। প্রাণ যায় হামলাকারীরও। পরবর্তী সময়ে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, র‌্যাবের অস্থায়ী ব্যারাকে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত জঙ্গির নাম জুয়েল রানা। তার বাড়ি ফরিদপুরে। আশকোনায় র‌্যাব ক্যাম্পে আত্মঘাতী হামলার একদিন পরই ১৮ মার্চ রাজধানীর খিলগাঁও নন্দীপাড়ার শেখের জায়গা নামক স্থানে র‌্যাবের চেকপোস্টে হামলার ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হন। র‌্যাবের গুলিতে হামলাকারী নিহত হন। আশকোনায় র‌্যাব ক্যাম্প ও খিলগাঁওয়ে র‌্যাব চেকপোস্টে আত্মঘাতী হামলার ৭ দিনের মাথায় ২৪ মার্চ শাহজালাল বিমানবন্দরের সামনে চেকপোস্টে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় হামলাকারী। ২৪ মার্চ রাতেই সিলেটের শিববাড়ির আতিয়া মহলে জঙ্গি আস্তানা ঘিরে ফেলে পুলিশ। নিচতলার দুটি ফ্ল্যাটে জঙ্গি অবস্থান করছে নিশ্চিত হওয়ার পর পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। পাঁচতলা বাড়িটির প্রতিটি তলায় ছয়টি করে মোট ৩০টি ফ্ল্যাট। ঘটনার সময় ২৮টি ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস করছিল। পরে ২৪ মার্চ ঘটনাস্থলে সোয়াট আসে। তবে বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে সেনাবাহিনীর সহায়তা কামনা করা হয়। এরপর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোরা অভিযান শুরু করে। পরে ৭৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। জঙ্গিদের বিস্ফোরণে আতিয়া মহলে ভবনটি পুরো নড়বড়ে হয়ে পড়ে। অপারেশন টোয়াইলাইট ২৮ মার্চ সমাপ্ত ঘোষণা করেন সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি আনোয়ারুল মোমেন। জঙ্গি আস্তানায় প্যারা কমান্ডো দলের অভিযানের মধ্যেই ২৪ মার্চ রাতে ভবনের অদূরে দুটি বোমা বিস্ফোরণে ২ পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জন নিহত হন। বিস্ফোরণে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ গুরুতর আহত হন। চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। সিলেটের আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর অপারেশন টোয়াইলাইট শেষ হওয়ার ৬ ঘণ্টার মাথায় ২৮ মার্চ গভীর রাতে পাশের জেলা মৌলভীবাজারে দুটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মেলে। সেখানে অভিযান শুরু করে সোয়াট ও কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। অপারেশন হিট ব্যাক নামের দুই দিনের অভিযানে নারী ও শিশুসহ ৮ জন নিহত হয়। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ী এলাকার গন্ধমতী বড় কবরস্থানের পাশে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানার খোঁজ পেয়ে ৩১ মার্চ অভিযান শুরু করে পুলিশ, র‌্যাব ও সিটিটিসি ইউনিট। অভিযান শেষে জানা গেছে, তিনতলা বাড়ির জঙ্গি আস্তানায় পাওয়া তিনটি ১০ কেজি ওজনের বোমা, ৬টি হ্যান্ড গ্রেনেড ও দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট নিষ্ক্রিয় করে বোমা বিশেষজ্ঞ ইউনিট। জঙ্গিরা ১১টি বিস্ফোরণ ঘটায়। গত ২২ এপ্রিল ঝিনাইদহের সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের ঠনঠনেপাড়ায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওইদিন সকাল সোয়া ৯টা থেকে শুরু হওয়া অভিযান শেষ হয় দুপুর ২টায়। অভিযানে বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক ভর্তি ২০টি ড্রাম, একটি সেভেন পয়েন্ট সিক্স বোরের পিস্তল, একটা ম্যাগাজিন, ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। ৫টি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়। গত ৭ মে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বজরাপুর হঠাৎপাড়া গ্রামে জঙ্গি আস্তানায় ঘিরে রাখে পুলিশের সিটিটিসি ইউনিট। অভিযান চলাকালে আত্মঘাতী হামলায় দুই জঙ্গি নিহত হয়। অভিযানে সিসিটিসির এডিসি এস এম নাজমুল ইসলাম, এসআই মহসিন আলী এবং মজিবুর রহমান আহত হন। এ ঘটনায় ওই বাড়ির মালিক জহুরুল ইসলাম, তার ছেলে জসিম উদ্দিন, ভাড়াটিয়া আলমগীর হোসেনসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ। গত ১৬ মে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা গ্রামে দুটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় র‌্যাব। পরদিন সকালে ওই আস্তানা ঘেরাও করে দ্বিতীয় দিনের অভিযান শুরু হয়। অভিযানে ওই দুই আস্তানার ৫ স্থান থেকে দুটি সুইসাইড ভেস্ট, ৫টি শক্তিশালী বোমা, ১৮টি ডিনামাইট স্টিক, বোমা তৈরির ১৮৬টি পিভিসি সার্কিট, ৪ ড্রাম রাসায়নিক দ্রব্য ও একটি অ্যান্টিমাইন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সেলিম হোসেন (৪০) ও প্রান্ত বিশ্বাস (১৭) নামের দুই ব্যক্তিকে ওই গ্রামের ওহাব বিশ্বাসের বাড়ির পাশ থেকে আটক করে র‌্যাব। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী এই বাড়ি দুটিতে অভিযান চালানো হয়। গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা ছিল নব্য জেএমবির। পুলিশের যৌথ টিমের অগাস্ট বাইট অভিযানে সেই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই ঘটনায় পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে আত্মঘাতী হয়ে মারা যায় জঙ্গি সাইফুল ইসলাম নিলয়। মামলার তদন্তকালে বের হয়ে আসে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থ সরবরাহকারীর আকরাম হোসেন খান নিলয়ের নাম। তিনি নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা। ওই আত্মঘাতী হামলার পেছনে অর্থ যোগানোর অভিযোগে গুলশান থেকে একই পরিবারের আবু তুরাব খান (৫৬), তার স্ত্রী সাদিয়া হোসনা লাকী (৪৬) ও মেয়ে তাজরীন খানম শুভকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আবু তুরাব খান ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে হামলার সিদ্ধান্তে মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থ সরবরাহকারী নব্য জেএমবির নেতা আকরাম হোসেন খান নিলয়ের বাবা। নিলয়ের মাধ্যমেই পুরো পরিবারটি নব্য জেএমবির বায়াত গ্রহণ করে বলেও জানায় পুলিশ। এ ছাড়া দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এছাড়া গত ১২ মাসে ৭৮৭ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে নারী ৩১৬ জন, শিশু ধর্ষণের শিকার হয় ৩২৭ জন, গণধর্ষণের শিকার হয় ১১৬ এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ২৮ জনকে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।

বনানীতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণ- রাজধানীর বনানীতে গত ২৮ মার্চ একটি হোটেলে আয়োজিত জন্মদিনের পার্টিতে আমন্ত্রণ জানিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ২ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী। বনানীর রেইনট্রি নামের হোটেলে ধর্ষণের অভিযোগে আপন জুয়েলার্সের একজন মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার দুই বন্ধুসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ২ তরুণী। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর পুলিশের কাছে গেলে পুলিশ শুরুতে মামলাটি নিতে চায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়, সাফাত আহমেদ এবং নাঈম আশরাফই সরাসরি ধর্ষণে অংশ নিয়েছিল। বাকি ৩ জন সহযোগিতা করেছে। বর্তমানে মামলাটির বিচার চলছে।

চলন্ত বাসে মেধাবী ছাত্রী রুপা ধর্ষণ- গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে ছোঁয়া পরিবহনের শ্রমিকরা আইন বিভাগের মেধাবী ছাত্রী রুপা খাতুনকে ধর্ষণ করে। পরে রুপার ঘাড় মটকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। মধুপুর থানার পুলিশ ওই রাতেই লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করে। একইসঙ্গে ওই থানার পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা করে। এরপর ২৮ আগস্ট মধুপুর থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে রুপাকে শনাক্ত করেন তার ভাই হাফিজুর রহমান। পরে পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), বাসের তত্ত্বাবধায়ক সফর আলী (৫৫) এবং বাসচালকের সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) গ্রেপ্তার করে। পুলিশের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা রুপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়।

সিদ্দিকুরের চোখে টিয়ারশেল পড়ে অন্ধ- শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে গত ২০ জুলাই সকালে নীতিমালা প্রণয়নসহ সাত দফা দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৭টি কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পুলিশ ওই মানববন্ধনে বাধা দিলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এক পর্যায়ে টিয়ারশেল ছুড়লে সেটির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমানের দুই চোখ। সিদ্দিকুর রহমানকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তী সময় সরকারের পক্ষ থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেয়া হয়। কিন্তু চোখ আর ভালো হয়নি সিদ্দিকুরের। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাকে এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে চাকরিতে নিয়োগ দেন। এখন অন্ধ সিদ্দিকুর সেখানেই মানিয়ে চলার চেষ্টা করছেন।

বিচার না পেয়ে বাবা-মেয়ের আত্মহত্যা- গত ২৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুরে শিশু মেয়েসহ চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন এক বাবা। শিশু মেয়ে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পরের বিচার না পাওয়ায় নির্যাতনের শিকার হওয়ায় বাবা-মেয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনায় ৩০ এপ্রিল রাজধানীর কমলাপুর জিআরপি থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন নিহত হযরত আলীর স্ত্রী হালিমা বেগম। ২৭ মে মামলার প্রধান আসামি মো. ফারুককে (৩০) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। এর আগে আরো ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ছিনতাইকারীর থাবায় সাড়ে ৫ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু- গত ১৮ ডিসেম্বর ভোরে শরীয়তপুর থেকে লঞ্চযোগে ঢাকায় আসার পর রিকশাযোগে দয়াগঞ্জ হয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন এক পরিবার। ওই সময় মা আকলিমা তার সাড়ে ৫ মাস বয়সী শিশু সন্তান আরাফাত সঙ্গে ছিল। ছিনতাইকারীরা আকলিমার ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টান দিলে চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে আহত হয় শিশু আরাফাত। পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

চলতি বছরে পুলিশের নথিতে প্রতি মাসে গড়ে ১৫ হাজার অপরাধের ঘটনা লিপিবদ্ধ হলেও প্রকৃত পরিসংখ্যান আরো কয়েকগুণ বেশি। পুলিশ সদর দপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী গত সেপ্টম্বর মাসে সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৫০৬টি। বিভিন্ন ঘটনায় সারা দেশে খুন হয়েছেন ২৯৭ জন। এক মাত্র হত্যাকাণ্ড বা খুনের ঘটনা ছাড়া অন্যান্য অপরাধের প্রকৃত চিত্রই পুলিশের পরিসংখ্যানে পাওয়া যায় না। আবার অস্বাভাবিক বা অপমৃত্যুর ঘটনা পড়ে হত্যা মামলায় রূপ নিলেও সেসব পরিসংখ্যানের বাইরে চলে যায়। এ ছাড়া নারী নির্যাতন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, প্রতারণা, চুরি ও ছিনতাইয়ের অধিকাংশ ঘটনাতেই মামলা হয় না। চুরি আর ছিনতাইয়ের ৮০ ভাগ ঘটনা লিপিবিদ্ধ হয় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে। সামাজিকতা আর পুলিশি হয়রানির কারণে অনেকেই এড়িয়ে যান ধর্ষণের ঘটনাও। ফলে অনেক মামলাযোগ্য অপরাধই থানায় এজাহার না হয়ে জিডি হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। আর সেগুলো পুলিশের অপরাধ পরিসংখ্যানেও উঠে আসে না।

বিদায় ২০১৭ : স্বাগত ২০১৮'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj