হেমন্তের হিম

শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭

** হুমায়রা নাসরীন নীনা **

একটু একটু পড়ছে নাকি হেমন্তের হিম?

ক’দিন পর উঠবে বাজারে কচি সবুজ শিম।

মাঠে থাকবে ছেয়ে কচি কচি মটরশুঁটি,

শীতের কুয়াশা যে হিম বুলাবে মুঠি মুঠি।

কচি তাজা লাউ, টমেটো আর ফুলকপি,

হাসি মুখে ভরবে কৃষক তার স্বপ্নের ঝাঁপি।

স্মিত হেসে কৃষাণী বানাবে হরেক রকম পিঠে,

আহারে কত সুখ! কি মিঠে দিন, কি মিঠে!

সন্ধ্যায় রস মামা খেজুর গাছে বাঁধবে হাঁড়ি,

ভোরে খেজুরের রস নিয়ে যাবে বাড়ি-বাড়ি।

শীতের শাল আর মাফলার গায়ে মাস্টার মশাই

কুয়াশা কেটে কেটে চালাবেন সাইকেল আর

পথে হরেন দা’র সাথে বিনিময় করে কুশল,

তারপর হাসি মুখে বলবেন মাস্টার মশাই,

“বেলা হয়ে এল, এবার তবে ইশকুলেতে যাই।”

কুয়াশার সকালে সদর রাস্তায় চলবে শিশুর দল,

বলবে, “ওরে, সবাই মিলে চল, তোরা ইশকুলেতে চল।”

কি আনন্দ চারিদিকে, কি যে মধুর শীত!

সন্ধ্যায় বসবে গানের আসর, জমবে গীত।

পালা গান, কুয়াশা, খেজুরের রস আর পিঠে,

সবকিছু মিলেমিশে শীত হোত মিঠে।

তবে এ আমাদের ছেলেবেলাকার গল্প,

এখন যে শীত আসে অল্প-বড় অল্প।

এখন সারা বছর টমেটো, লাউ, শিম, মটর পাই,

কিন্তু ছেলেবেলাকার সেই স্বাদ আজ আর নাই।

কৃষকের নাই আর সেই প্রশান্তি ভরা মন,

ঋণের ভারে জর্জরিত তার কষ্টের জীবন।

আগুন তাপানো সেই যে মধুর শৈশবের শীত,

রক মিউজিকে তলিয়ে গেছে পালাগানের গীত।

তবু আজো যে আমি শীতের অপেক্ষায় থাকি,

স্বপন ঘোরে আজো পায়ে শিশির কণা মাখি।

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj