লাল-সবুজের পোশাক

রবিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭

বাঙালি সংস্কৃতির সবগুলো শাখাতেই রয়েছে বিজয় দিবসের আকণ্ঠ প্রভাব। যে প্রভাবের স্পর্শ ফ্যাশন ধারাকেও করেছে উজ্জীবিত। তাইতো দিবস কেন্দ্রিক ফ্যাশন ক্যালেন্ডারে ১৬ ডিসেম্বর বিশেষ একটি দিন। লিখেছেন সুমাইয়া আহমেদ

পোশাক একটি চলমান ক্যানভাসের মতো কাজ করে। আর দেশকে ভালোবেসে পতাকা বা প্রিয় রঙকে সম্মান জানানোতে জুড়ি নেই পোশাকি ভাষার। তাই খুব সহজেই মনের ভাষা তুলে ধরা যায় এখানে। সে জন্য লাল-সবুজের পোশাক দেশকে সম্মান জানানোর একটি সহজ উপায় বলা যায়। দেশের মানুষের এই আবেগ মাথায় রেখেই প্রতি বছর দেশি ফ্যাশন হাউসগুলো বিজয় দিবস সামনে রেখে নিয়ে আসে লাল-সবুজের রকমারি ডিজাইন।

ছোট থেকে শুরু করে দেশের বয়স্কদের পোশাক, অনুষঙ্গের বড় জায়গা দখল করে আছে পতাকা মোটিফ। পতাকার মোটিফ তাই বড় আকারেই রয়ে গেছে বিজয় দিবসের পোশাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্লোগান, কবিতা, শহীদদের স্মৃতি নিয়ে করা হয় ডিজাইন।

তাঁত, সিল্ক, হাফসিল্ক বা জামদানির মধ্যে বেশি ফুটে ওঠে এমন রঙ। আরামদায়ক এবং সহজে বহন করা যায় বলে কামিজের জনপ্রিয়তা এ দেশে ব্যাপক। আর কামিজ, ফতুয়া বা টপসে অনেক আগে থেকেই দেখা যায় বিজয়ের রঙের ছাপ। এক কথায় লাল-সবুজের কামিজের তুলনা হয় না। আর চলতি ট্রেন্ড এবং মোটিফের মধ্যেই দেখা যায় এমন রঙের পোশাক। ব্যবহৃত হয় সময়ের প্যাটার্ন ও কাটছাঁট। সবুজের মধ্যে ফুটে ওঠে বিভিন্ন অর্থবোধক প্রিন্ট। সঙ্গে লাল ওড়না।

পাঞ্জাবি বাঙালি ছেলেদের ঐতিহ্যবাহী এবং প্রিয় পোশাক। আর চলতি ফ্যাশনে পাঞ্জাবিতে দেখা যায় প্রিন্ট, কাটওয়াক ডিজাইন। মুলত: কিছু ছকে বাঁধা মোটিফ আর ডিজাইনেই চলছে দিবসভিত্তিক ফ্যাশনের সবকিছু।

শাড়ির রঙ ও ডিজাইনে রয়েছে বিচিত্রতা
লাল-সবুজ রঙকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে পোশাকে। সবুজ শাড়ি লাল পাড় অথবা লাল শাড়িতে সবুজ ডিজাইন করা হয়েছে। শাড়ির ক্যানভাসে টিয়া রঙের কাজ করা হয়েছে। সুতি কাপড়ে ব্লুক, কাটওয়াক, স্ক্রিনপ্রিন্ট, বাটিক, হাতের কাজ, কারচুপির কাজ এবং অ্যামব্রয়ডারি করা হয়েছে। আর মোটিফ হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে স্মৃতিসৌধের ডিজাইন, স্বাধীনতার কথা এবং কবিতার পঙ্ক্তি। শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে ব্লুাউজটাও হতে পারে লাল-সবুজ। লং হাতা পরতে পারেন। অনেক স্টাইলিশ লাগবে। কিছু শাড়িতে ব্যবহার হচ্ছে টাইডাই বা এপ্লিলিকের কাজও। তবে শাড়িতে বাড়তি হিসাবে লাল সবুজের উত্তরীয় পড়লেও মন্দ লাগবে না।

পাঞ্জাবির কাটিংয়ে ভিন্নতা
পাঞ্জাবির ডিজাইন ও রঙে পাবেন বৈচিত্র্যের ছোঁয়া। কাটিংয়েও রয়েছে ভিন্নতা। লং, সেমি লং পাঞ্জাবি ও ফতুয়ার ডিজাইনে এবং কাটিংয়ে রয়েছে লাল-সবুজের আমেজ। সবুজ পাঞ্জাবির ওপর লাল ব্লুকের কাজ, সুতার কাজ এবং আমব্রয়ডারির কাজ করা হয়েছে। আবার লাল একরঙা পাঞ্জাবির ওপর সবুজ রঙের ডিজাইন চোখে পড়ার মতোই।

ডিজাইন ভিন্নতায় সালোয়ার-কামিজ
সালোয়ার-কামিজের ওপর সুতার কাজ করা হয়েছে। আর রঙ হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে গাঢ় সবুজ, টিয়া রঙ, হালকা সবুজ ও লাল রঙকে। লঙ কামিজের সামনের অংশে জুড়ে দেয়া হয়েছে হালকা কুচি। যা কামিজের কাটিংয়ে ভিন্নতা এনেছে। আর চুড়িদারের সঙ্গে এসব কামিজ দেখতেও লাগে বেশ। ওড়নার জন্য বেছে নেয়া হয়েছে লাল অথবা সবুজ যে কোনো একটি রঙকে।

একরঙা ওড়না পুরো কামিজকে আরো স্টাইলিশ করে তুলেছে। পাশাপাশি সুতি কাপড়ে ব্লুক ও স্ক্রিণ প্রিন্টের কাজ এখন দিবস ভিত্তিক পোশাকে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

মেকআপটা হওয়া চাই হালকা
হেয়ারোবিক্স ব্রাইডালের বিউটি এক্সপার্ট তানজীমা শারমিন মিউনি বলেন, লাল-সবুজ পোশাক যেহেতু অনেক গাঢ় রঙ, তাই মেকআপটা হওয়া চাই খুবই সাধারণ। হালকা বেইজ মেকআপ করে চোখে কাজল বা আইলাইনার লাগাতে পারেন। ঠোঁটের জন্য হালকা লিপস্টিক বেছে নিন। আর চোখে আইশ্যাডো না দেয়াই ভালো।

ব্লুাশন হালকা ব্রাউন হলে ভালো হয়। আর কপালে পরতে পারেন লাল একটা বড় টিপ। তবে ছোট চুল হলে ছেড়ে দিতে পারেন। অথবা সামনে হালকা পাফ করে পেছনের চুলটা ছেড়ে দিতে পারেন।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj