নিষিদ্ধ ‘বুচনা জাল’ দেশি মাছ শিকারের নতুন ফাঁদ

শনিবার, ৮ জুলাই ২০১৭

এম. মিরাজ হোসাইন, বরিশাল থেকে : বর্ষা মৌসুমে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে দেশি প্রজাতির মাছ শিকারে হাতে বোনা জাল ও বাঁশের কঞ্চির উপকরণে তৈরি একটি বিশেষ জালের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। হাতে তৈরি এ মাছের ফাঁদটি স্থানীয় ভাষায় ‘বুচনা জাল’ নামে পরিচিত। সাধারণত যেখানে পানির প্রবাহ রয়েছে সেখানে এ বুচনা জাল পেতে খুব সহজেই দেশি মাছ শিকার করা যায়। গত কয়েকবছর থেকে বর্ষা মৌসুমে দেশি মাছ শিকারে বুচনা জালের ব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়েছে।

বরিশাল বিভাগের কাউখালী ও মঠবাড়িয়া থেকে খুচরা বিক্রেতারা বুচনা জাল পাইকারি দামে কিনে জেলার বানারীপাড়া, উজিরপুর, মুলাদী, গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, বাবুগঞ্জ, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, বাকেরগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার হাট-বাজারে বিক্রি করছেন। বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে প্রতি সপ্তাহে জেলায় কয়েক লাখ টাকার বুচনা জাল কেনাবেচা হচ্ছে। নগরীর আদালতপাড়া-সংলগ্ন এলাকার বুচনা জাল বিক্রেতা সোলায়মান মিয়া জানান, দিন দিন বাঁশের সংকট বাড়ছে। তাই এ জালের প্রচলন হওয়ায় বাঁশের তৈরি চাইয়ের ব্যবহার কমে গেছে। তা ছাড়া বুচনা জাল দিয়ে মিঠাপানিতে বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরা ও বহনকরা অতিসহজ হওয়ায় দিন দিন এ জালের চাহিদা বাড়ছে। জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র এ ৪ মাস বুচনা জাল দিয়ে মিঠা পানিতে দেশি মাছ ধরা হয়। প্রতিটি বুচনা জাল ৩০০-৪০০ টাকায় কেনা বেচা হয়। গ্রামের নি¤œআয়ের মানুষেরা বুচনা জাল দিয়ে পুরো বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে ৪০০-৫০০ টাকার মাছ ধরতে পারেন।

উজিরপুর পৌরসদরের বাসিন্দা কল্যাণ কুমার বলেন, বর্ষা মৌসুমে আগে পাড়ার ছেলেরা একত্রিত হয়ে ডোবা ও নদীতে বড়শি দিয়ে কই, শিং, মাগুর, পুঁটি, টেংরা, পাবদা, বাইন, টাকি, শোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরেছি। বড়শি যুগের পর কয়েক বছর আগেও হাতে বোনা ঝাঁকি জাল, খেপলা জাল, টানা জাল, ভেসাল, বাঁশের তৈরি চাই দিয়ে মাছ ধরা হতো। এখন সেই যুগ আর নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাছ ধরার উপকরণের জায়গা দখল করে নিয়ে বুচনা জাল। গত ২-৩ বছর ধরে এসব অঞ্চলে হাতে তৈরি বুচনা জাল দিয়ে সহজেই মাছ ধরা হচ্ছে। ওই এলাকার মৎস্যজীবী শ্যামল সরকার ও চিত্তরঞ্জন শিকদার বলেন, গত ২-৩ বছর ধরে এসব অঞ্চলে সহজে মাছ ধরার জন্য হাতে তৈরি বুচনা জাল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারেন্ট জাল ও বুচনা জালের কারণে চিরচেনা দেশি প্রজাতির মাছ আজ বিলুপ্ত হতে চলেছে।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কারেন্ট ও বুচনা জাল দিয়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এতে দেশি অনেক মাছের পোনা নষ্ট হয়। যা দেশের মিঠাপানির দেশি মৎস্য সম্পদের জন্য ক্ষতিকর। কারেন্ট ও বুচনা জাল ব্যবহার বন্ধে সবাইকে সচেতন করতে মৎস্য বিভাগ থেকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। মাছের ফাঁদ কারেন্ট ও বুচনা জাল জব্দ করতে শিগগিরই জেলার প্রতিটি হাটবাজারে অভিযান চালানো হবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj