শিল্পীর জীবিকা নির্বাহের প্লাটফর্ম তৈরি করে দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব

শনিবার, ১০ জুন ২০১৭

একাধারে কবি, নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, সংগঠক, গল্পকার, উপন্যাসিক। বহুমুখী প্রতিভাধর মানুষটির নাম শুভাশিস সিনহা। ত্রিশোর্ধ এই তরুণ মণিপুরি থিয়েটারের অন্যতম প্রাণ। মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নাটক লিখেন টেলিভিশনের জন্যও। মঞ্চের ৩০টির বেশি নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার ঘোড়াগ্রামের গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশের প্রথম গ্রামীণ স্টুডিও থিয়েটার ‘নটমণ্ডপ’। স¤প্রতি ভোরের কাগজের মুখোমুখি হয়েছিলেন শুভাশিস সিনহা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহনাজ জাহান

মেলা : আপনার এ সময়ে ব্যস্ততার খবর জানতে চাই?

শুভাশিস সিনহা : আমাদের গ্রামটা তো পাহাড়ি এলাকার মাঝে। এ সময়টাতে ঝড়-বৃষ্টি খুব থাকে। তাই থিয়েটারের মহড়া করাটা কঠিন হয়ে যায়। মণিপুরি থিয়েটারের নাট্যশিল্পীদের বাড়ি আবার বিভিন্ন গ্রামে। ঝড়-বৃষ্টির সময়ে তাদের মহড়ায় আসাটা কঠিন হয়ে যায়। তাই এ সময়টাতে মহড়ার চাপ কম রাখি। নিজের লেখালেখি করি, থিয়েটার নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সাজায়।

মেলা : থিয়েটারের নতুন কোনো প্রযোজনার পরিকল্পনা আছে কি?

শুভাশিস সিনহা : আশা করছি এ বছরই নতুন নাট্য প্রযোজনা মঞ্চে নিয়ে আসতে পারবো। আমারই লেখা একাধিক নাটক নিয়ে পরিকল্পনা চলছে। সেখান থেকে কোন নাটকটি করব এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। দলের সবাই মিলে এখন পাণ্ডুলিপি পড়ছি। এ বছরই দর্শকের সামনে নতুন নাটক নিয়ে হাজির হবে মণিপুরি থিয়েটার।

মেলা : মণিপুরি থিয়েটারের বাইরে আপনাকে নির্দেশনা দিতে দেখা যায় না কেন?

শুভাশিস সিনহা : বাংলাদেশের নাট্যচর্চা এখন অনেকটাই ঢাকাকেন্দ্রিক। আর আমি থাকি মৌলভীবাজারেরে ঘোড়ামারা গ্রামে। সেখানে মণিপুরি ললিতকলা একাডেমিতে আমার নির্দেশনায় কিছু নাটক হয়েছে। ঢাকায় এসে নির্দেশনা দেয়াটা আমার জন্য কঠিন হয়ে যায়। তবে আমার অনেক দিনের ইচ্ছে আছে বিভিন্ন দলের নাট্যশিল্পীদের নিয়ে রেপার্টরি নাট্য প্রযোজনা মঞ্চে নিয়ে আসা। ঢাকার বিভিন্ন দলের অনেক নাট্যশিল্পী আমাকে নিয়মিতভাবে তাড়া দিচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই ঢাকায় একটা নাটক নির্দেশনা দেব। সেখানে কাজ করবে বিভিন্ন দলের নাট্যশিল্পীরা।

মেলা : বাংলাদেশে থিয়েটার জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হয়ে উঠেনি। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য?

শুভাশিস সিনহা : প্রতিবেশী দেশ ভারতে থিয়েটার পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। নাট্যশিল্পীরা সেখানে সরকারীভাবে বেতন পাচ্ছে। আমাদের দেশে আরো অনেক আগেই এটা হওয়া উচিত ছিল। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য এটা করা জরুরি। নাট্যশিল্পীরা যে শ্রম দেয় সেটি রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক ভিত্তি গঠনে ভূমিকা রাখে। তাই অন্যান্য পেশার মতো নাট্যশিল্পীরা বেতন পাওয়ার দাবি রাখে। শিল্পীর জীবিকা নির্বাহের প্লাটফর্ম তৈরি করে দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

মেলা : থিয়েটার নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

শুভাশিস সিনহা : আমি চাই মঞ্চনাটক হোক আরো বেশি হৃদয়গ্রাহী, সংবেদনশীল, নান্দনিক, মানুষের হৃদয় ও জীবনের সঙ্গে নাটকের ভাষাটাকে মিলিয়ে দিতে চাই। থিয়েটার নিয়ে অনেক সুদূরপ্রসারী ভাবনা রয়েছে। আমার স্বপ্ন আছে, একটি থিয়েটার স্কুল করা এবং সেটি প্রচলিত নিয়ম নীতির বাইরে। আমি চাই, গ্রামে এরকম একটি থিয়েটার স্কুল করবো যেখানে শিক্ষার্থীরা মানুষের সরল রৈখিক জীবনযাপন, চরিত্র ও প্রকৃতি অধ্যয়নের মাধ্যমে একজন আদর্শ শিল্পী হিসেবে গড়ে উঠবে। আমি প্রত্যাশা করি মানুষ মাত্রই হবে সংবেদনশীল, মানবিক গুণসম্পন্ন।

মেলা : এবার ঈদে টেলিভিশনে আপনার লেখা নাটক কি প্রচার হবে?

শুভাশিস সিনহা : টেলিভিশন নাটকের স্ক্রিপ্ট লেখাটা আমার কাজ। সেটার পর্দায় নির্মাণ করে প্রচারের ব্যবস্থা করবেন পরিচালক, প্রযোজক এবং প্রচার মাধ্যম। বেশ কয়েকজন নির্মাতা আমার কাছ থেকে স্ক্রিপ্ট নিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ নাটক নির্মাণও করেছেন। এর মধ্যে হয়তো দু’একটি নাটক ঈদে প্রচার হতে পারে।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj