টালিগঞ্জের নুসরত জাহান

শনিবার, ১০ জুন ২০১৭

মেলা ডেস্ক : প্রথম ছবি ২০১১। তারপর আবার ২০১৩ সাল। মাঝের সময়টা তার কাছে ‘কালো দিন’। যদিও সেটাকে নিজের ‘ভবিতব্য’ বলে মনে করেন নুসরত জাহান। বিশ্বাস করেন, জীবনে ওঠা-পড়া থাকেই। তবে তার ক্যারিয়ারে এখন শুধুই ওঠা। সেই উত্থানও যেন রহস্যময়! পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণ-কাণ্ডের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে গিয়েছিল। প্রধান অভিযুক্ত কাদেরের বান্ধবী ছিলেন তিনি। যদিও ততদিনে রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় ‘শত্রু’ করে নুসরত পরিচিত। সেই পরিচিতিকে ছাপিয়ে গেল পার্ক স্ট্রিটের ঘটনা। পুলিশে ছুঁলে আঠেরো ঘা…অথচ নুসরত কিন্তু ‘সামলে’ নিয়েছিলেন। ক্যারিয়ারের সিঁড়িগুলো টপকাতে কতটা কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল? কাজ ভালো না করলে কেউ পাত্তা দেয় না। হার্ডওয়ার্কের কোনো বিকল্প হয় না, বললেন নুসরত। অনেকের মতে তার প্লাস পয়েন্ট মিষ্টি ব্যবহার আর পিআর ক্ষমতা। আরে, খামোকা কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবই বা কেন? এত ছোট একটা ইন্ডাস্ট্রি তো!

যাকে একটা সময় পুলিশি জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল সেই মেয়ে এখন ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম প্রথম। সরকারি মহলেও তিনি সমান স্বাগত। নির্বাচনী প্রচারেও তাকে দেখা যায়। ‘মেহনত’ আছে মানছেন নুসরত নিজেও। তবে খারাপ সময়ের কথাগুলো আর মনে করতে চান না। দেখুন, ওঠার সময়টা মেনে নিতে পারলে পড়ার সময়টাও মানতে হবে, আত্মবিশ্বাসী গলায় জবাব এল।

আত্মবিশ্বাসের জোরেই হয়তো দু’বছর নিজের মতো করে লড়াই করে গিয়েছেন। প্রথমে তাকে কেউ কাজ দিতেও চায়নি। ২০১৩ সালে এসকে মুভিজ তাকে দিয়ে ফের ছবি করায়। যাদের হাত ধরে নুসরত ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলেন। কিন্তু হাতে কাজ না থাকার সময়টায় ডিপ্রেসড হয়ে যাননি? কাজ না থাকলে খারাপ তো লাগবেই। কিন্তু সেই সময় আমার কিছু করার ছিল না। এ রকম ফেজ তো আসতেই পারে জীবনে, প্রত্যয়ী জবাব। সেই খারাপ ফেজ কাটতে সময় লেগেছিল। টলিউডে পায়ের তলার মাটি শক্ত হতে আরো দু’বছর লেগে গিয়েছিল। ঠিকঠাক হিসাব করলে নুসরতের প্রত্যাবর্তন ২০১৫ সালে। বড় প্রযোজনার ‘ছত্রছায়া’য় এসে। সেটাই কি তার জীবনে টার্নিং পয়েন্ট? আমার কাছে সেভাবে কোনো টার্নিং পয়েন্ট কিন্তু নেই। যে রকম পরিস্থিতি এসেছে সেই মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বললেন, আমি রেটিংয়ে মোটেও বিশ্বাস করি না। ভালো কাজ করলে লোকে ঠিক নজর করবে। আমি দু’রকমের ছবিতেই অভিনয় করেছি। এই বিভাজনটা আপনাদের কাছে হয়তো গুরুত্বপূর্ণ। আমি সব ছবিতে একই এফর্ট দিয়ে থাকি। ইন্ডাস্ট্রিতে তার কোনো গডফাদার নেই? হেসে বললেন, আমি ডেস্টিনি চাইল্ড। কোনো গডফাদার নেই। জীবন যে দিকে নিয়ে যাবে সে দিকে যাব। নিজের সাফল্যের জন্য কাউকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাই না। তা হলে শুধুই কি ভাগ্য? সাফল্যের পেছনে আর কোনো গল্প নেই বলছেন? না, শুধু ভাগ্যের দোহাই দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। পরিশ্রমও করতে হবে। ২৭ বছরের মধ্যে নিজের টাকায় ফ্ল্যাট, গাড়ি কিনতে পেরেছি। অ্যাই অ্যাম হ্যাপি, জবাব তার। ফ্ল্যাট-গাড়ি গিয়েছে, ইন্ডাস্ট্রির সিংহাসনটাও হাতে এল বলে, তা হলে কি এবার সেটল করার কথা ভাবছেন? খোলসা করে বলে দিই, আমি মনের মানুষ পেয়ে গিয়েছি। কিন্তু সেটল করার কথা এখনই ভাবছি না।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj