মায়া হয়ে মনীষার ফিরে আসা

শনিবার, ১০ জুন ২০১৭

সুমাইয়া সামিয়া : প্রায় বছর পাঁচেক বাদে পর্দায় ফিরেছেন বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। গত ২ জুন শুরু হয়েছে তার নতুন ইনিংস! এই দিনই রিলিজ করেছে তার অভিনীত ছবি ‘ডিয়ার মায়া’। মায়া যে তার অভিনীত অসম্ভব প্রিয় চরিত্রগুলোর একটি, বারবার বলেছেন সে কথা। গল্পটি মায়া নামের এক মহিলাকে ঘিরেই। তাকে দুষ্টু-দুষ্টু সব চিঠি পাঠায় দুই বালিকা। ঘটনায় বড় বাঁক আসে, যখন মায়া নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। ছবিটি পরিচালনা করেছেন সুনয়না ভাটনগর। সুনয়নার অন্য একটি পরিচয়, তিনি ইমতিয়াজ আলির বেশ কয়েকটি ছবিতে সহযোগী ছিলেন। ছবির ট্রেলার লঞ্চে এসে মনীষা তার ক্যামেরার মুখোমুখি হওয়া নিয়ে অদ্ভুত সব কথা শুনিয়েছিলেন, কতবার আমি শট দিয়েছি, সেটা কথা নয়। প্রত্যেক বার একই কাণ্ড ঘটে। পেটটা কেমন করে, অসম্ভব নার্ভাস লাগে। ‘বম্বে’, ‘দিল সে’, ‘খামোসি’র মতো ছবি যার ক্যারিয়ার গ্রাফে তার মুখে এমন কথা! এই ছবি করার সময়ও প্রত্যেক শটের পর তিনি নাকি ভেবে গিয়েছেন, ঠিক হলো তো, না কি ভুল! আসলে ছবিতে এত কিছু অদল-বদল হয়েছে, সেগুলো ঠিকঠাকভাবে আমায় অ্যাডজাস্ট করে যেতে হয়েছে, ভয়টা আরো ছিল সেখানে, অকপট মনীষা। তবে সে যা-ই হোক, শিওর সেঞ্চুরিটা মাঠে ফেলে ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নে ফিরতে দেখলে যেমন লাগে, ‘ডিয়ার মায়া’ দেখে অনেকটা তেমনই হয়েছে বলে লেখা হয়েছে ভারতের সংবাদ মাধ্যম ‘আনন্দবাজার’-এ।

এক দিকে মায়ার নিস্তরঙ্গ হারানো যৌবনের দমবন্ধ করা কোলাজ, অন্যদিকে সাইন কার্ভের মতো নিখুঁত তরঙ্গে ভাসা উচ্ছল কিশোর-কিশোরীর খাট্টা-মিঠা চলাফেরা। এই দুই মেরুর অদ্ভুত যোগাযোগই হঠাৎ ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাচ্ছে গল্পের বাঁক।

পাহাড়িয়া সিমলার ছোট্ট জনপদে দুর্গসদৃশ রহস্যময় বাড়ি। সেখানেই বাস বিগতযৌবনা মায়া (মনীষা কৈরালা), তার পরিচারিকা, পোষ্য দুই বৃহদাকার গ্রেট ডেন সারমেয়, আর অসংখ্য খাঁচাবন্দি পাখি।

মায়া কুড়ি বছর ঘরবন্দি। জীবন সম্পর্কে বীতস্পৃহ। শৈশবে পিতৃহারা। মা পরিত্যক্ত। সম্পত্তিলোভী চাচার অবিচারের শিকার। বিবাহ-বঞ্চিতা। চলাফেরায় সে কখনো বিদেহী আত্মার মতো। কখনো অপ্রকৃতিস্থ মনোরোগী যেমন। কালো পোশাক। পেটের আড়ালে গোঁজা চাকু। ঢোকা গাল। চোখের কোণে কালি। মাথায় ঘোমটা। শূন্য দৃষ্টি। ঘরের নিভু নিভু আলোয় মাটিতে বসে মায়া পুতুল বানায়। কালো কালো পোশাকের মাটির পুতুল। অন্যদিকে কনভেন্টে পড়া দুই কিশোরী এনা (মাদিহা ইমাম), ইরা (শ্রেয়া চৌধুরী)। তাদের বন্ধুবান্ধব। বাবা-মা।

এনা-ইরাদের জীবনে লুকিয়ে রাখা ট্যাটু আছে, পাহাড়ি পথের সাইকেল আছে। প্রেম, বন্ধুত্ব, ফ্লার্ট আছে। চড়া রসের গল্প, ম্যামের শাসন, বাড়ির সোহাগ-বকুনি সব আছে। গল্প গড়ায় প্রথমে দুই আলাদা ধারায়। আবার মোহনায় এসে মেলেও, যখন এনা আর ইরা মায়াবশত তাদের পড়শি মায়াদিদির মলিন জীবনে রঙ লাগাতে ভুয়ো প্রেমিকের নামে চিঠি পাঠাতে থাকে। অস্বচ্ছ কাচের আড়ালে ঢিমে হলুদ আলোয় প্রথম দেখা মায়া ফসিল হয়ে যেতে যেতেও কেমন জাদুবলে প্রাণ পেতে থাকে, এই চিঠিগুলো পড়ে। তার ধূলিমলিন দেয়াল, সার সার ছবি টাঙানো আধিভৌতিক ঘরের এক কোণে রাখা কালো কালো পুতুলগুলোর গায়েও তখন রঙের পোঁচ ওঠে। প্রেমের অদৃশ্য কুহকিনী ডাকে মায়া ধীরে ধীরে জাগতে থাকে। সে রঙিন হয়। ঘর ছেড়ে বেরোয়। ক্রমে তার ভীরু চাউনির ভার সরে যায়।

এনা-ইরাও পড়শি দিদির এমন মায়াবী বদলে উৎসাহ পেয়ে উপর্যুপরি চিঠি পাঠাতেই থাকে। শেষে অতি উৎসাহী ইরা দুটি কাণ্ড করে বসে। পরিণতি? ঘরবাড়ি আসবাব বেচে মায়ার দিল্লি পাড়ি দেয়া। ইরা-এনার বন্ধুত্ব বিচ্ছেদ। মেয়েকে ‘বেপথু’ হয়ে যাওয়া থেকে আগলাতে এনাকে তার বাবা-মা’র সিমলা ছাড়া করে দিল্লিরই বোর্ডিং স্কুলে পাঠিয়ে দেয়া। ছায়াঘেরা, রহস্যাবৃত মায়ার জীবনে যত আলো পড়তে থাকল, ততই যেন সরে সরে যেতে থাকে কাহিনীর মায়াময়তা।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj