চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ম্যাচ পরিচালনা করবেন যারা

বৃহস্পতিবার, ১ জুন ২০১৭

আগামী ১ জুন ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ৮ম আসর। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পর সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন এ টুর্নামেন্টে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৮ দল অংশগ্রহণ করবে। ১ জুন উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে শুরু হওয়া এ টুর্নামেন্ট শেষ হবে ১৮ জুন ফাইনালের মধ্য দিয়ে। পুরো টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো পরিচালনা করার জন্য ১২ সদস্যের এলিট আম্পায়ারিং প্যানেলের নাম ঘোষণা করেছে আইসিসি। এর পাশাপাশি থাকছে আরো ৩ জন ম্যাচ রেফারি। আমাদের এবারের আয়োজন এ ১২ জন ম্যাচ পরিচালনাকারী এবং ৩ জন ম্যাচ রেফারিকে নিয়ে-

১. আলীম দার (পাকিস্তান) : পঞ্চমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আম্পায়ারিং করতে যাচ্ছেন ২০০৯ ও ২০১১ সালে আইসিসির ‘আম্পায়ার অব দি ইয়ার’ পুরস্কার পাওয়া আলীম দার। ৪৮ বছর বয়সী এ আম্পায়ার ২০০০ সালে ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো ম্যাচ পরিচালনা করে আম্পায়ারিং জীবন শুরু করেন।

২. ইয়ান গোল্ড (ইংল্যান্ড) : চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ৩য় বারের মতো আম্পায়ারিং করতে যাচ্ছে ইংল্যান্ডে জন্ম নেয়া ইয়ান গোল্ড। ২০০৬ সালে ওয়ানডে ক্রিকেট পরিচালনা করার মাধ্যমে তার তার আম্পায়ারিং জীবন শুরু। এরপর ২০০৭, ২০১১ এবং ২০১৫ বিশ্বকাপ ক্রিকেটেও তিনি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এখন পর্যন্ত ১১৭টি ওয়ানডে, ৬০টি টেস্ট এবং ৩৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি।

৩. কুমার ধর্মসেনা (শ্রীলঙ্কা) : শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার কুমার ধর্মসেনা এবারের আসরের মাধ্যমে ২য়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। ২০০৬ সালে সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায় জানানের পর আম্পায়ারিং করবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি। ২০০৯ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটের মাধ্যমে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পয়ারিংয়ের শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ৭৬টি ওয়ানডে, ৪৫টি টেস্ট এবং ২২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি।

৪. মারাইস ইরাসমাস (দক্ষিণ আফ্রিকা) : দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার মারাইস ইরাসমাস চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ২য়বারের মতো ম্যাচ পরিচালনা করতে যাচ্ছেন। ২০০৬ সালে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ পরিচালনা করার মাধ্যমে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ারিংয়ের শুরু। এরপর ২০০৭ ও ২০০৯ সালে যথাক্রমে ওয়ানডে ও টেস্টে আম্পায়ারিং শুরু করেন। এখন পর্যন্ত ৬৭টি ওয়ানডে, ৪৩টি টেস্ট এবং ২৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন।

৫. রিচার্ড কাটেলবারো (ইংল্যান্ড) : ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারে জন্ম নেয়া রিচার্ড কাটেলবারো এবার ২য়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা-ভারত ম্যাচের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার আম্পায়ারিং ক্যারিয়ার শুরু হয়।

৬. নাইজেল লঙ (ইংল্যান্ড) : এবার ২য়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ম্যাচ পরিচালনা করবেন ইংল্যান্ডে জন্ম নেয়া নাইজেল লঙ। ২০০৪ সালে তাকে আইসিসি আম্পায়ারিংয়ের আন্তর্জাতিক প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করে। এরপর ২০০৫ সালে টি-টোয়েন্টির মাধ্যমে তার আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পয়ারিংয়ের শুরু হয়। এখন পর্যন্ত ১০৮টি ওয়ানডে, ৪২টি টেস্ট এবং ৩২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি।

৭. ব্রুস ওক্সেনফোর্ড (অস্ট্রেলিয়া) : ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে ম্যাচ পরিচালনা শুরু করেন ব্রুস ওক্সেনফোর্ড। এরপর ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে ক্রিকেটে তিনি আম্পয়ারিংয়ের দায়িত্ব পালন করেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এবার ২য়বারের মতো ম্যাচ পরিচালনা করবেন।

৮. রড টাকার (অস্ট্রেলিয়া) : অস্ট্রেলিয়া জন্ম নেয়া রড টাকার এবারের মাধ্যমে ২য়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্টস ট্রফির ম্যাচ পরিচালনা করার দায়িত্ব পেয়েছেন। ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের মাধ্যমে তার টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ম্যাচ পরিচালনা শুরু হয়। ২০১০ সালে প্রথম টেস্ট ম্যাচ পরিচালনা করেন। এখন পর্যন্ত ৬৫টি ওয়ানডে, ৫৩টি টেস্ট এবং ৩৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

৯. রিচার্ড ইলিংয়র্থ (ইংল্যান্ড) : চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এবারই প্রথমবারের মতো আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার রিচার্ড ইলিংয়র্থ। ২০১০ সালে ইংল্যান্ড-পাকিস্তানের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্য দিয়ে তার আন্তর্জাতিক ম্যচ পরিচালনা শুরু।

১০. পল রাইফেল (অস্ট্রেলিয়া) : অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার পল রাইফেল এবারই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ম্যাচ পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন। ২০০৯ সালে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডেতে এবং ২০১২তে টেস্টে তিনি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা শুরু করেন। এখন পর্যন্ত ৪৯টি ওয়ানডে, ৩০টি টেস্ট এবং ১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন।

১১. ক্রিস গাফানি (নিউজিল্যান্ড) : চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এবারই আম্পয়ার হিসেবে হাতেখড়ি হতে যাচ্ছে ক্রিস গাফানির। ২০১০ সালে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মাধ্যমে তার আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা শুরু। এরপর ওই বছরেরই ওয়ানডেতে এবং ২০১তে টেস্ট ক্রিকেটে তার আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা শুরু। এ পর্যন্ত ৫০টি ওয়ানডে, ২০টি টি-টোয়েন্টি এবং ১৩টি টেস্ট ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

১২. সুন্দারাম রবি (ভারত) : এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে একমাত্র ভারতীয় আম্পায়ার সুন্দারাম রবি। ২০১১ সালে টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে ক্রিকেটে এবং ২০১৩ সালে টেস্ট ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা শুরু করেন তিনি। এ পর্যন্ত ২৮টি ওয়ানডে, ১৮টি টি-টোয়েন্টি এবং ২০টি টেস্ট ম্যাচ পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

ম্যাচ রেফারি

১৩. ডেভিট বুন (অস্ট্রেলিয়া) : অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার ক্রিস বুন তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করেন ১৯৯৬ সালে। এ পর্যন্ত ওয়ানডেতে ৮৮টি, টেস্টে ৪১টি এবং ৩৯টি টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৪. ক্রিস ব্রড (ইংল্যান্ড) : ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলের বর্তমান খেলোয়াড় স্টুয়ার্ট ব্রডের বাবা ক্রিস ব্রড। তিনি ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার ছিলেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এবার ৩য়বারের মতো ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন।

১৫. অ্যান্ডি পাইক্রফট (জিম্বাবুয়ে) : এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে একমাত্র জিম্বাবুইয়ান অফিসিয়াল অ্যান্ডি পাইক্রফট। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ম্যাচ রেফারি হিসেবে এটা তার ২য় আসর। তিনি জিম্বাবুয়ের সাবেক ক্রিকেটার। এ পর্যন্ত ১৩১টি ওয়ানডে, ৫৪টি টেস্ট এবং ৫৪টি টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন।

:: শোয়েব মোস্তফা

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-২০১৭'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj