সাবেকদের ভাবনায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার, ১ জুন ২০১৭

রকিবুল হাসান : চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ দল অবশ্যই ভালো খেলবে। ট্রফি জিতারও সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা তো গত দুই তিন বছর ধরে দেশে কিংবা দেশের বাইরে বাংলাদেশের পারফর্মেন্স দেখছি। যে ফলাফল তারা শ্রীলঙ্কা কিংবা ত্রিদেশীয় সিরিজে করেছে তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। বাংলাদেশ তুলনামূলক শক্তিশালী গ্রুপে রয়েছে। আমাদের দল যেভাবে খেলছে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেই ভালো ফল আমরা পাব। প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক না কেন- বাংলাদেশকে সমীহ করতেই হবে। কত দূর পর্যন্ত আমরা যেতে পারব স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে সেমিফাইনালে খেলতে বাংলাদেশ দলেকে তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জিততে হবে। আমি মনে করি, টাইগারদের দুটি ম্যাচে জেতার শক্তি-সামর্থ্য রয়েছে।

সোহাগ গাজী : বর্তমানে এশিয়ার ভেতরে-বাইরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অবস্থান খুবই শক্তিশালী। আমি যখন জাতীয় দলে ছিলাম তখন টপঅর্ডারে একটু সমস্যা ছিল। কিন্তু আমরা সেই সমস্যাটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। তামিম-সৌম্য-ইমরুল-সাব্বির এরা কেউ না কেউ ভালো করছে। তা ছাড়া আগে আমরা চাইতাম সম্মানজনক অবস্থান। আমাদের জয়ের প্রত্যাশা থাকত ২০ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে আমরা জয়ের প্রত্যাশা করি ৬০ শতাংশ। দল যে ফর্মে আছে তাতে ভালো ফলাফল আসবে এটাই স্বাভাবিক। একজন বাংলাদেশি হিসেবে, একজন ক্রিকেটার হিসেবে আমি চাই আমার দল ফাইনালের মঞ্চে লড়াই করুক।

মোহাম্মদ আশরাফুল : বাংলাদেশ কঠিন গ্রুপে। সেটা বিষয় না। ইংল্যান্ডে ওদের উইকেটে হারানো হয়ত কিছুটা কঠিন হবে কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজে বা পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে যেভাবে নৈপুণ্য দেখিয়েছে তাতে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডকে হারানো সম্ভব। সিনিয়ররা (তামিম, সাকিব, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ) যদি দায়িত্ব নিয়ে খেলে দু একটা সেঞ্চুরি আদায় করতে পারে তাহলে বাংলাদেশ সহজেই যে কোনো শক্তিশালী দলকেই হারানোর সক্ষমতা রাখে। গ্রুপ পর্বে দুটি ম্যাচ জিতলেই তো সেমিতে পদার্পণ করবে কিন্তু আমি চাই আরো একধাপ সামনে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।

জুনায়েদ সিদ্দিকী : ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডকে যেভাবে হারিয়েছে এবং প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা ভালো করেছে তাতে আমার কাছে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ দল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসরে ভালো করবে এটাই স্বাভাবিক। দলের খেলার ধারাবাহিকতা যদি বজায় রাখতে পারে তাহলে যে কোনো শক্তিশালী টিমের জন্যই হুমকি হবে টাইগাররা। বাংলাদেশ কিন্তু আগের মতো দুর্বল টিম না। বিশ্বের শক্তিশালী দলগুলো সমীহ করতে বাধ্য হয়। নিউজিল্যান্ডকে তো হারালাম, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডকে হারানোর অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। কোনো মেজর দুর্ঘটনা না ঘটলে সহজেই সেমিতে উঠবে বাংলাদেশ।

শাহরিয়ার নাফিস : প্রায় দশ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ খেলছে। এজন্যই একটু বেশিই আশা করছি। আমাদের ব্যাটিংয়ে উন্নতি হয়েছে। তামিম-সৌম্য ভালো করছে। মূল পর্বের পূর্বে আমাদের প্রস্তুতিও ভালো। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করেছি। আমার মতে আসরটা বাংলাদেশ দলের জন্য কঠিন হবে, যেহেতু আমাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী। যদিও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসরে কোনো দলকেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। ব্যাটিংয়ে তামিম-সাব্বির-মাহমুদউল্লাহরা ভালো করে আর বোলিংয়ে মোস্তাফিজ-মাশরাফি, আমরা ভালো কিছুর আশাবাদী। দল আর কিছু করুক আর না করুক প্রথম রাউন্ডের বাধা খুব সহজেই টপকাবে। পরের গল্পটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

জিয়াউর রহমান : বাংলাদেশ টিম কিন্তু এখন আর আগের ভাঙাচুরা টিম নেই। যে কোনো শক্তিশালী টিমকে রুখে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। সম্প্রতি যেভাবে ফলাফল করছে, তাতে টিমের সঙ্গে গোটা দেশের ক্রিকেট ভক্তরা ভালো ফলাফলের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। ত্রিদেশীয় সিরিজে আমাদের দল ভালো করেছে।

:: রুমি সরকার

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-২০১৭'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj