চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সফল সাত অধিনায়ক

বৃহস্পতিবার, ১ জুন ২০১৭

শুরু হতে যাচ্ছে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসর। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পরেই এ প্রতিযোগিতার গুরুত্ব। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সফল সাত অধিনায়ক যাদের নেতৃত্বে শিরোপা ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছিল শীর্ষ দলগুলো।

হেনসি ক্রোনিয়ে : ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আসরে সেরা অধিনায়ক হেনসি ক্রোনিয়ে যার নেতৃত্বে ফাইনাল ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির সর্বকালের সেরা ১১ জন ব্যক্তির মধ্যে হেনসি একজন। ২০০২ সালে বিমান দুর্ঘটনার কবলে অকালে মৃত্যুমুখে পতিত হন। কিন্তু প্রোটিয়াদের ক্রিকেট ইতিহাসে তার অবদান অসামান্য। গোটা ক্যারিয়ারে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩৮ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার মধ্যে ২৭টি জয় ছিনিয়ে এনেছেন তিনি। ১৩৮টি ওয়ানডে ম্যাচের মধ্যে জয় পেয়েছেন ৯৯টিতে। অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড রয়েছে তার। গ্র্যাম স্মিথের সর্বোচ্চ ১৪৯টি ওয়ানডে ক্রিকেটে নেতৃত্বের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন হেনসি।

স্টিফেন পল ফ্লেমিং : ২০০০ সালে কেনিয়ায় আয়োজিত দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসরে গাঙ্গুলীর নেতৃত্বাধীন ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল নিউজিল্যান্ড। এই টুর্নামেন্টে কিউইদের নেতৃত্বে ছিলেন স্টিফেন পল ফ্লেমিং। ঐতিহাসিক ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করতে নেমে গাঙ্গুলীর ১১৭ ও টেন্ডুলকারের ৬৯ রানের ওপর ভর করে ২৬৫ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেয়। জবাবে মাত্র দুই বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে নোঙর করে ফ্লেমিংবাহিনী। ভারতের বিপক্ষে ১৯৯৪ সালে অভিষিক্ত টেস্টে ৯৬ রানের ইনিংসের সুবাদে ম্যাচ সেরা হন। দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টেস্টের দলপতি পল ফ্লেমিং ১১১টি ম্যাচে নেতৃত্ব দেন। শেন ওয়ার্নের চোখে বিশ্বের সেরা অধিনায়ক তিনি। ২০০৭ সালে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে সেমিফাইনালে পরিবহনে চড়িয়েছিলেন। সেই আসরে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৫৩ রান আদায় করেন।

সনাৎ জয়সুরিয়া : লঙ্কান ক্রিকেটে যে কয়জন ক্রিকেটার মর্যাদার সর্বোচ্চ আসনে নিজেদের তুলে ধরেছেন তাদের একজন সনাৎ জয়সুরিয়া। ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশের পর প্রায় দুই দশক ধরে আলো ছড়িয়েছেন এই অলরাউন্ডার। ক্যারিয়ারে ৪০ বছর বয়সেও ব্যাট চালিয়েছেন নব্য তরুণদের মতো। ২০০২ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল ম্যাচ দুটি বৃষ্টির জন্য পরিত্যক্ত হলে ভারতের সঙ্গে শিরোপা ভাগ করে নেয় শ্রীলঙ্কা। সেই সময় দলের নেতৃত্বে ছিলেন জয়সুরিয়া। নামের পাশে রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য রেকর্ড। টেস্ট ক্রিকেটে ১৪টি এবং ওয়ানডেতে ২৮টি সেঞ্চুরি রয়েছে তার। দুই ফর্মেটে যথাক্রমে ৩১টি ও ৬৮টি হাফসেঞ্চুরি রয়েছে তার।

সৌরভ গাঙ্গুলী : ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে পর পর দুবার ২০০০ ও ২০০২ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে দাঁড় করিয়েছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী। প্রথমবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে রানার্সআপ হলেও পরের বার শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বৃষ্টির কল্যাণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে ভারত প্রথমবারের মতো যৌথভাবে শিরোপা জয়ের স্বাদ উপভোগ করে। ব্যাটিংয়ে অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্য তিনি গড অব দ্য অফ সাইড নামে পরিচিতি লাভ করেন। বর্তমানে বেঙ্গল ক্রিকেট এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে ৪৯টি টেস্টে ২১ জয় ১৫ ড্র করেছে ভারত। ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৪৬টি ম্যাচে দলপতির ভূমিকা পালন করেছেন যার মধ্যে জয় ছিল ৭৬টি। এই ফর্মেটের খেলায় ২২টি শতক ও ৭৬টি অর্ধশতক নিজের নামের পাশে লিখিয়েছেন তিনি।

ব্রায়ান লারা : সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিকেট বিশ্বে সমধিক পরিচিত সাবেক ক্যারিবিয়ান তারকা ব্রায়ান লারা। ২০০৪ সালে লন্ডনে আয়োজিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসরের ফাইনালে তার নেতৃত্বে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপার আনন্দ উপভোগ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পরের বছরও সুযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে দলকে ফাইনালে তুলেছিল। কিন্তু শেষ লড়াইয়ে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বে থাকা অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে হেরে রানার্সআপ হয়। উইন্ডিজ কিংবদন্তি তার ক্যারিয়ারে একের পর এক রেকর্ডে নিজেকে ভাসিয়েছেন। অভিষেক ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৭৭ রানের ইনিংস খেলেন যা অজিদের বিপক্ষে কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রান। টেস্ট ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে এক ইনিংসে ৪০০ রানে অপরাজিত থাকার রেকর্ড রয়েছে তার। ১৩১টি টেস্টে ৩৪টি সেঞ্চুরি ও ৪৮টি হাফসেঞ্চুরি আদায় করেছেন তিনি।

রিকি পন্টিং : বিশ্ব ক্রিকেটের একজন সফল অধিনায়কের নাম রিকি পন্টিং। নেতৃত্বে তার জুড়ি খুঁজে পাওয়া ভার। তার একক নেতৃত্বে দুবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শিরোপা জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপে ২০০৩ ও ২০০৭ সালে তার পরিচালনায় ট্রফি দখল করে অজিরা। ২০১১ সালে অবসরের পূর্বে ১৬৮টি টেস্ট, ৩৭৫টি ওয়ানডে এবং ২৮৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। টেস্ট ও ওয়ানডে দুই ফর্মেটে আলাদাভাবে ১৩ হাজারেরও বেশি রানের মালিক তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে ৪১টি সেঞ্চুরি ও ৬২টি অর্ধশতক রয়েছে তার। ওয়ানডেতে ৩০টি শতক ও ৮২টি অর্ধশতক আদায় করেছেন অজি অধিনায়ক। গোটা ক্যারিয়ারে ৭৭টি টেস্ট, ২২৯টি ওয়ানডে এবং ১৭টি বিশ ওভারের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

মাহেন্দ্র সিং ধোনি : ভারতীয় দলের কিংবদন্তি ও সফল এক অধিনায়কের নাম মাহেন্দ্র সিং ধোনি। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ছাড়াও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গত আসরের ফাইনালে ধোনির নেতৃত্বেই ইংল্যান্ডকে ৫ রানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তোলে ভারত। দলকে চৌকস নেতৃত্ব দিয়ে ট্রফি আদায় করলেও ফাইনালে ব্যাট হাতে রানের দেখা পাননি ভারতীয় অধিনায়ক। কোহলির ৪৩, জাদেজা ৩৩ ও শিখর ধাওয়ানের ৩১ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১২৯ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে ৮ উইকেটে ১২৪ রানেই থেমে যায় ইংল্যান্ডের ইনিংস। ২০০৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত তার নেতৃত্বে ৬০ টেস্টে ২৭ জয় ও ১৮ হার ও ১৫ ম্যাচ ড্র করে ভারত। ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৯৯টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ১১০টি জয়ের রেকর্ড রয়েছে ধোনির।

:: সালাউদ্দিন কাদের

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-২০১৭'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj