সাঈদীর রায় থেকে বাদ দেয়া হলো প্রসিকিউশনের ব্যর্থতা

মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০১৭

কাগজ প্রতিবেদক : মানবতাবিরোধী অপরাধী জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় থেকে প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার ব্যর্থতা বাদ দেয়ার আবেদন মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ।

গতকাল সোমবার আপিল বিভাগ সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড বহাল রেখে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা রিভিউ আবেদন এবং খালাস চেয়ে করা সাঈদীর রিভিউ আবেদন খারিজ করেন। এ সময় আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও তদন্ত কর্মকর্তাদের ব্যর্থতার বিষয়টি বাদ দেয়ার নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপিতে সাঈদীর রায় মৃত্যুদণ্ড না হয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড হওয়ার পেছনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও তদন্ত কর্মকর্তাদের ব্যর্থতার বিষয়টি উঠে এসেছিল। পরবর্তীতে সেটি রায়ে উল্লেখ না রাখার আবেদন জানানো হয় আইনজীবী এ এম আমিনউদ্দিন এর মাধ্যমে। সে আবেদন গ্রহণ করেন আপিল বিভাগ।

এর আগে শুনানিকালে আপিল বিভাগ অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনার গিনেজ বুকে ওঠা উচিত। এত সময় ধরে সরকারকে কেউ সার্ভ করেন নাই। শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল ফাঁসির আবেদন জানালে আপিল বিভাগ তাকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, একবার যাবজ্জীবন হলে ফাঁসি হয় দেখেছেন? এর উত্তরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এ কেসে হওয়া উচিত। তিনি শুনানিকালে বারবার ‘ফাঁসি চাই’ বলায় প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি কেবল সরকারের আইনজীবী নন, রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা। এমন সাবমিশন চাই না। অপরাধী শাস্তি পাবে, আদালত বিবেচনা করবে অপরাধের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা কতটুকু। প্রসিকিউশনের আইনজীবীরা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভায় যাওয়ার সমালোচনা করে প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, প্রসিকিউশন পাবলিক সার্ভেন্ট হয়েও এ রাজনৈতিক সংগঠনের সভায় গিয়ে পেশাগত অসদাচরণ করেছেন।

পরে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন পঁাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ট্রাইব্যুনালের দেয়া আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় বহাল রাখেন। এর আগে রোববারও দুপক্ষের রিভিউ আপিলের শুনানি হয়। বেঞ্চের অন্য চার বিচারপতি হলেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসাইন হায়দার। আদালতে সাঈদীর পক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। পরে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পঁাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj