ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড : সমৃদ্ধির মহাসোপান গড়ে তোলার প্রত্যয়

মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০১৭

কাগজ ডেস্ক : বেইজিংয়ের শীর্ষ সম্মেলনে গত রোববার দুহাজার বছরের প্রাচীন ‘সিল্ক রোড’ পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে একুশ শতকে বৈশি^ক বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণের মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেছে চীন। একদা যে পথে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে গেছে রসদবাহী উটের পাল, এখন সে পথে ওয়াগনবোঝাই পোশাক আর ইলেকট্রনিক গ্যাজেট নিয়ে দেশ থেকে দেশে ছুটে যাবে অত্যাধুনিক কার্গো ট্রেন। ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ প্রকল্প নিয়ে শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে দুদিনব্যাপী সম্মেলনের শেষ দিনে গতকাল এ মহাউদ্যোগের ভবিষ্যতের ব্যাপারে আত্মবিশ^াসী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন চীনা প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ‘শান্তি আর সমৃদ্ধির’ মহাসোপান গড়ে দেবে এ পরিকল্পনা, জানান তিনি। এদিকে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বিশ^ব্যাপী চীনের বাণিজ্যিক এবং ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

চীনা নেতা জানান, সম্মেলনে এক ধরনের মতৈক্যে উপনীত হয়েছি আমরা। মহাউদ্যোগ সফল করতে আগামী দিনে সবাই মিলে মুক্ত অর্থনীতি, বৈশ^ায়নে ভারসাম্য আনয়ন এবং বাণিজ্য উদারীকরণের পক্ষে কাজ করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে তিনি জানান, কাক্সিক্ষত সাফল্য ছুঁতে চাইলে এখনো অনেক পথ হাঁটতে হবে আমাদের।

এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার ত্রিশটির বেশি দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ‘রক্ষণশীলতা’ পরিহার করে ‘বৃহত্তর উদারতা’ এবং সহযোগিতার আহ্বান জানান। অধিবেশনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের পাশের আসনে উপবিষ্ট প্রেসিডেন্ট জিনপিং বলেন, প্রতিনিয়ত প্রবৃদ্ধি, পরস্পরনির্ভরতা এবং চ্যালেঞ্জের মুখে এক বিশে^ কোনো একটি দেশের পক্ষে এককভাবে কোনো সমস্যার সমাধান করা অসম্ভব।

এর আগে ১২৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে দেশে দেশে নতুন বন্দর, রেলওয়ে, সড়ক এবং শিল্প পার্ক গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে এশিয়া, ইউরোপ এবং আফ্রিকাকে এক বন্ধনে আবদ্ধ করার কথা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট জিনপিং। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে যেখানে ‘আমেরিকাই প্রথম’, এ এজেন্ডাকে সামনে এনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে চলেছেন, চীন সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে মুক্তবাণিজ্যের অগ্রদূত হিসেবে। এদিকে চীনের মহাউদ্যোগকে সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে রাশিয়া। সে দেশের বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড উদ্যোগের মধ্য দিয়ে মস্কোর কাঁধে বন্দুক রেখেই মধ্য এশিয়ার নিজেদের প্রভাব নিশ্চিত করতে সমর্থ হবে বেইজিং। যদিও সম্মেলনে উপস্থিতির মাধ্যমে চীনা উদ্যোগে সমর্থন প্রদান এবং এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন।

সম্মেলনে তিনি বলেন, আধুনিক সময়ের উন্নয়নের জন্য এখানে যেসব কথা বলা হয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। এ কারণেই কেবল সমর্থন দেয়া নয়; বরং সহযোগী চীন এবং আরো যারা যোগ দেবেন এ উদ্যোগের সঙ্গে, তাদের সবাইকে নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি স্তরে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে আগ্রহী রাশিয়া। সাবেক সোভিয়েত ব্লুক থেকে আরো যেসব নেতা এতে অংশ নেন তারা হলেন উজবেক প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজায়েভ, কাজাক প্রেসিডেন্ট নূর সুলতান নাজারবায়েভ, কিরগিজ প্রেসিডেন্ট আলমাজবেক আতামবায়েভ এবং বেলারুশ প্রেসিডেন্ট আলিকসান্দার লুকাশেঙ্কা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ আর সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ভুচিকও যোগ দেন এ শীর্ষ সম্মেলনে। পশ্চিমা নেতাদের মাঝে ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি তাদের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধি প্রেরণ করে। যুক্তরাষ্ট্র থেকেও হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয় এতে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj