ভোটের রোডম্যাপ তৈরিতে ব্যস্ত ইসি : বাস্তবায়নে ৪ কমিটি

মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০১৭

কাগজ প্রতিবেদক : আগামী ২০১৮ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিতব্য একাদশতম জাতীয় নির্বাচনের যে রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন।

মনোনয়ন জমাদানে কেউ বাধা প্রদান ঠেকাতে অনলাইনে মনোনয়ন জমা ও অভিযোগ জানানোর সুযোগ তৈরি করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশন সচিব মোহম্মদ আবদুল্লাহ। তিনি আরও জানান নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব নিয়ন্ত্রনেও প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তদারকির জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি মনিটরিং টিম গঠন করার প্রস্তবনাও রয়েছে। প্রয়োজনে শাস্তিরও সুপারিশ করা হবে।

গতকাল সোমবার তিনি আরও জানান, এসবসহ নির্বাচনী ব্যয় তদারকি এবং ভোট ব্যবস্থাপনা নিয়ে একগুচ্ছ প্রস্তাব এনেছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রার্থীদের অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সুযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে জাতীয় নির্বাচনেও একই প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

অপরদিকে গত রোববার কমিশনের কাছে রোডমাপের যে খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে ভোট-ব্যবস্থাপনা ও তদারকিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সহায়তা নিয়ে আরো একগুচ্ছ সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান।

গতকাল সোমবার তিনি বলেন, এ বিষয়ক অন্তত ৬টি সুপারিশ রয়েছে। এর মধ্যে অনলাইন মনোনয়নপত্র জমা, অভিযোগ নিতে বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার, ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা, ভোটারদের তথ্য সরবরাহ এবং ব্যয় তদারকির বিষয়গুলোও রয়েছে। আগামী ২৩ মে নির্বাচন কমিশনের সভায় এ রোডম্যাপ অনুমোদনের জন্য তোলা হবে বলে মোখলেসুর রহমান জানান। রোডম্যাপে রাজধানীর গুলিস্তান, মৌচাক, শাহবাগ, ফার্মগেইটের মতো গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ডিজিটাল মনিটরে ফল প্রকাশ করারও সুপারিশ করা হয়েছে।

রোডম্যাপ অনুয়ায়ী কাজ সম্পন্নের জন্য ইসির চার কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান।

এ সময় তিনি বলেন, কমিশনের আগামী দিনের কাজগুলো ধরে চার নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে চারটি কমিটি করা হয়েছে। নির্বাচনী আইন সংস্কার, সীমানা পুনর্বিন্যাস, ইসি কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে এসব কমিটি কাজ করবে। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এর তদারকি করবেন।

ইসি সচিব জানান, রোডম্যাপে কমপক্ষে সাতটি বিষয় অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে, নির্বাচনী আইনের সংস্কার, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা ও মুদ্রণসহ ভোটকেন্দ্র এবং ইভিএমের জন্য প্রস্তুতি।

আর আগামী ২৩ মে এ রোডম্যাপ চূড়ান্ত হবে বলে জানান ইসি সচিব মো. আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, এটি ফলো করে আমরা কাজ এগোতে চাই। এখনো প্রায় ১৮ মাস বাকি রয়েছে জাতীয় নির্বাচনের। আশা করি এ রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ হলে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj