সেই ১৪ সাংসদ এখনো স্বতন্ত্রই আছেন

মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০১৭

কাগজ প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদের নির্বাচিত কোন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য অন্য কোনো দলে যোগ দিয়েছেন কিনা এমন কোনো তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানে না জাতীয় সংসদ সচিবালয়। স্বতন্ত্র কোনো সদস্যের সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী কোনো দলে যোগ দিতে হলে যে সাংবিধানিক নিয়ম নীতি বা প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় তাদের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সচিবালয়কে কিছু জানানোও হয়নি বলে ভোরের কাগজকে জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, আমি শুনেছি ১৪ জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু তারা এ বিষয়ে সংসদকে কিছু লিখিতভাবে জানাননি বা আবেদন করেননি। এ ছাড়া যোগ দেয়া দলের পক্ষ থেকেও সংসদ সচিবালয়কে কিছু জানান হয়নি। তাই সংসদের রীতি অনুযায়ী তারা এখনো স্বতন্ত্র এমপি। তাই আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে অংশ নিলেও সংসদে স্বতন্ত্র হিসেবেই রয়েছেন এ সব সংসদ সদস্য।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুরের সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী গত ৩ মে গণমাধ্যমকে বলেন, সংসদের ১৬ জন স্বতন্ত্র সদস্যের মধ্যে ১৪ জন সংসদে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। পরে গত ৭ মে সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকেও তারা যোগ দেন। এর একদিন পর গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজের যোগদানের কথা অস্বীকার করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা রাঙামাটির সাংসদ উষাতন তালুকদার, যার নাম ওই তালিকায় ছিল। তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগে যোগ দিইনি। আমি যে দল (পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি) থেকে নির্বাচিত হয়েছি তার প্রতি আমার নিশ্চয় দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেকারণে আমি এখনো আমার নিজ দলের এমপি হিসেবে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি। আওয়ামী লীগে যোগ দানের খবর একেবারেই ভিত্তিহীন।

এরপর গত ১২ মে ওই তালিকার ৯ জন সংসদ সদস্য গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তবে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কোনো দলে যোগ দেয়ার কোনো তথ্য তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কোনো দলে যোগ দিতে আইনগত কোনো বাধা নেই। নিয়ম হলো কোনো স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কোনো দলে যোগ দিতে চাইলে তার আবেদন এবং ওই দলের নেতার অনুমোদন প্রসঙ্গে প্রধান হুইপ স্পিকারকে জানাবেন। তার পরে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা দলে অন্তর্ভুক্ত হবেন।

বর্তমানে সংসদে আওয়ামী লীগের ২৭৬ জন এমপি, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) ৪০ জন এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টি ৭, জাসদ ৬, তরিকত ফেডারেশন ২, জাতীয় পার্টি জেপি ২, বিএনএফ ১ এবং স্বতন্ত্র এমপির সংখ্যা ১৬, যার মধ্যে ১৪ জনই আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানান হয়েছে। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের এমপির সংখ্যা হবার কথা ২৯০।

গত ৭ মে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে এ ১৪ জনের মধ্যে ১১ জন যোগ দেন। এরা হলেন গাইবান্ধা-৪ আসনের আবুল কালাম আজাদ, নওগাঁ-৩ আসনের ছলিম উদ্দীন তরফদার, কুষ্টিয়া-১ এর রেজাউল হক চৌধুরী, ঝিনাইদহ-২ এর তাহজীব আলম সিদ্দিকী, যশোর-৫ এর স্বপন ভট্টচার্য্য, ঢাকা-৭ এর হাজি মোহাম্মদ সেলিম, নরসিংদী-২ এর কামরুল আশরাফ খান, নরসিংদী-৩ এর সিরাজুল ইসলাম মিল্টন, মৌলভীবাজার-২ এর আবদুল মতিন, কুমিল্লা-৩ এর ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এবং কুমিল্লা-৪ এর রাজী মোহাম্মদ ফখরুল। এদের মধ্যে আবুল কালাম আজাদ, ছলিম তরফদার, রেজাউল করিম, স্বপন ভট্টাচার্য্য, কামরুল আশরাফ, সিরাজুল ইসলাম, আবদুল মতিন, ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন ও রাজী মোহাম্মদ ফখরুল গত ১২ মে গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে যান।

এ বিষয়ে নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, যে সব স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন তারা প্রায় প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত। তবে তারা এখনও স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবেই রয়েছেন। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সংসদীয় দলের বৈঠকেও তারা এসেছিলেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তারা এখনো দলে যোগ দেননি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহজীব আলম বলেন, টেকনিক্যালি সংসদে আমরা এখনো স্বতন্ত্র সদস্য। সংসদীয় দলে যোগ দিতে হলে যে ধরনের প্রক্রিয়া করতে হয়, সেটা আমাদের ক্ষেত্রে এখনো হয়নি। তাহজীব বলেন, আমরা সবাই একই ঘরানার রাজনীতি করি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি। বিশেষ পরিস্থিতিতে আমরা স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে নির্বাচন করেছি। আগামী নির্বাচন নিয়ে করণীয় বিষয়ে আমরা বৈঠক করেছি। আমাদের সংসদীয় দলের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল সেখানে আমরা গিয়েছিলাম।

গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। তবে সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। আমাদের নিয়ে গিয়ে সংসদীয় দলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

বিএনপিবিহীন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মোট ১৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন, যা মোট (৩০০) আসনের ৫ শতাংশেরও বেশি। এদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের নেতা। দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে নামেন তারা।

২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি দশম সংসদের যাত্রা শুরুর আগে হাজি সেলিমের নেতৃত্বে জোট গঠন করেন স্বতন্ত্র সদস্যরা। তবে জোট গঠনের পর সংসদে এ জোটের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। ওই জোট থেকে সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত কাজী রোজী, নূর জাহান বেগম ও উম্মে রাজিয়া কাজল পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকতার ভিত্তিতে এ ১৪ জন এমপি আওয়ামী লীগে যোগ দেবেন বলে জানান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুরের সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj