সৌদির শিয়া এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত ১

শনিবার, ১৩ মে ২০১৭

কাগজ ডেস্ক : সৌদি আরবের আল কাতিফ প্রদেশের আওয়ামিয়া শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে একজন নিহত হয়েছে। গত বুধবার ভোরে কর্তৃপক্ষের উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী শহরের দেয়াল অংশ ঘেরা আল মুসাবারা এলাকা বুলডোজার দিয়ে ভাঙতে গেলে সশস্ত্র ব্যক্তিরা বাধা দেয় বলে স্থানীয় সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এক ফেরারি আসামি নিহত হয় বলে প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে।

আওয়ামিয়ার দেয়াল ঘেরা পুরনো ওই শিয়া অধ্যুষিত অংশটিতে শিয়া জঙ্গিরা লুকিয়ে আছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, ভোরে নিরাপত্তা বাহিনী বুলডোজার নিয়ে মুসাবারায় প্রবেশ করে, তারা বুলডোজার নিয়ে এলাকাটি ভেঙে ফেলতে শুরু করলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ বেধে যায়, এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়।

আন্দোলনকারীরা ইন্টারনেটে মুসাবারায় দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি বুলডোজারের ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেছে।

এসব পোস্টে গাড়িতে আগুন জ্বলতে ও দেয়ালে অসংখ্য বুলেটের দাগ দেখা যায়।

অনলাইন সংবাদপত্র মিরাত আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সাঁজোয়া যানে থাকা নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকায় মেডিকেল কর্মীদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে এসব ছবি বা মিরাত আল জাজিরার প্রতিবেদনের সত্যাসত্য নির্ধারণ সম্ভব হয়নি।

নিজেদের ফেসবুক পেইজে মিরাত আল জাজিরা বলেছে, সৌদি সেনাবাহিনীর গুলিতে এক নাগরিক শহীদ হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, পাশাপাশি এক ভারতীয় নাগরিকও নিহত হয়েছেন।

পরবর্তীতে আরেক বিবৃতিতে এক আন্দোলনকারী নিহত ব্যক্তিকে দেশত্যাগী বাংলাদেশি বলে বর্ণনা করেছে।

বিষয়টি নিয়ে মন্তব্যের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সৌদি কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি।

সৌদি আরবের মূল ধারার সংবাদপত্র আল হায়াত বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী শ্রমিকরা আল মুসাবারা এলাকা ভাঙতে শুরু করলে বন্দুকধারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এক ফেরারি আসামি নিহত হয়।

আল হায়াতের প্রতিবেদনটিতে নিহত ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় দেয়া হয়নি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আল মুসাবারা নামের ওই শহরটি ২০০ বছরেরও বেশি পুরনো। এর রাস্তাগুলো সরু। এলাকাটি শিয়া জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার একটি স্থানে পরিণত হয়েছে।

এসব জঙ্গিরা খনিজ তেল সমৃদ্ধ কাতিফে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে এলাকাটিতে লুকিয়ে থাকছে। গ্রেপ্তার করতে গেলে তারা এলাকাটির সরু গলির সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে।

তাই তুর্কি অটোম্যান আমলে নির্মিত এলাকাটি ভেঙে নতুন করে গড়তে চাইছে কর্তৃপক্ষ। এ কাজের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। কিন্তু ক্ষতিপূরণ নিয়ে এলাকা ভাঙতে দিতে অস্বীকার করেছে স্থানীয়রা।

অনেকদিন ধরেই আওয়ামিয়া শহরটি সৌদি আরবের সুন্নি নেতৃত্বাধীন সরকার ও বৈষ্যমের অভিযোগকারী শিয়াদের মধ্যে দ্ব›েদ্বর অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এক বছর আগে দাঙ্গা উস্কে দেয়ার অভিযোগে নিমর আল নিমর নামের প্রখ্যাত এক শিয়াপন্থী ধর্মীয় নেতাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার পর থেকে উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পায়।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj