ব্যাপক ধূলিঝড়ের কবলে বেইজিং ও চীনের উত্তরাঞ্চল

শনিবার, ৬ মে ২০১৭

কাগজ ডেস্ক : চীনের দূষণকবলিত রাজধানী বেইজিং ও দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলো মরুভূমি থেকে উড়ে আসা ব্যাপক ধূলিঝড়ের কবলে পড়েছে। এতে বায়ুদূষণে জর্জরিত চীন বায়ুর মান সংক্রান্ত আরেকটি সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বেইজিংয়ে দেশটির সরকার ঘোষিত বায়ুদূষণের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিত সীমার চেয়ে অনেক উপরে অবস্থান করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বাইরের কাজকর্ম এড়িয়ে যাওয়ার এবং বয়স্ক ও শিশুদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেশী দেশ মঙ্গোলিয়া ও চীনের অন্তঃমঙ্গোলিয়া স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মরুভূমি থেকে উড়ে আসা ধুলা বেইজিং ও এর আশপাশের এলাকাকে ঢেকে দিচ্ছে। বেইজিংয়ের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ছিল প্রতি ঘন মিটারে ৫০০ মাইক্রোগ্রাম, এটি নিঃশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশে সক্ষম ক্ষুদ্র কণার দূষণের পরিমাপ বোঝায়। ডব্লিউএইচওর ঘোষিত সর্বোচ্চ নিরাপদ মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ২৫ মাইক্রোগ্রাম। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বেইজিংয়ে এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে এবং সারাদিনই দৃষ্টিসীমা লক্ষণীয়ভাবে কম থাকবে। বুধবার শেষ বিকেলের দিকে ধূলিঝড়টি বেইজিংয়ের দিকে এগোতে শুরু করে এবং রাতের মধ্যে পুরো শহরকে ঢেকে ফেলে বলে নগর কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

চীনের দূর পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ শিনজিয়াং থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হেইলোংজিয়াং প্রদেশ পর্যন্ত বিশাল একটি এলাকা ধূলিঝড়টিতে বিভিন্ন মাত্রায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে অন্তঃমঙ্গোলিয়ার পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক বলে জানা গেছে। চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোতে তাপের জন্য এখনো প্রধানত কয়লার ওপর নির্ভর করা হয় বলে শীতকালে ওই এলাকাগুলোতে বায়ুদূষণের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। নগরায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মরুভূমির সীমা বৃদ্ধি পাওয়ায় ধূলিঝড় বায়ুদূষণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গাছপালা লাগিয়ে ও কয়লাভিত্তিক শিল্পকারখানা বন্ধ করে দিয়ে বা সেগুলোর রূপান্তর ঘটিয়ে বায়ুদূষণ সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj