সিটিং সার্ভিস, নাকি চাঁদাবাজি?

মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল ২০১৭

ঢাকার প্রায় প্রতিটি রুটেই সিটিং সার্ভিস বাস চলাচল করছে। মূলত জ্যামের কারণে সিটিং সার্ভিস বাস আর লোকাল বাসে চলাচলের ক্ষেত্রে খুব বেশি ব্যবধান নেই। সময় একই লাগে। সিটিং সার্ভিসে নিরিবিলি বসে যাতায়াত করা যায় আর লোকালে ভিড় ঠেলে উঠতে হয় এটুকুই পার্থক্য। তবে ভাড়ার ক্ষেত্রে ঠিকই পার্থক্য দেখা যায়। আমরা উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে গুলিস্তান রুটের কথাই চিন্তা করি।

আব্দুল্লাহপুর থেকে গুলিস্তানে ৩ নম্বর সিটিং সার্ভিসের ভাড়া ৩৫ টাকা। এখন যে মানুষটি এয়ারপোর্ট থেকে বাসে উঠে বাংলামোটর নামছে তাকেও ৩৫ টাকা দিতে হচ্ছে। আবার যে আব্দুল্লাহপুর থেকে উঠে গুলিস্তান নামছে তাকেও একই ভাড়া দিতে হচ্ছে যা আইনত নীতিবহির্ভূত। আব্দুল্লাহপুর থেকে এয়ারপোর্টের সাধারণ ভাড়া সবর্নি¤œ ৫ টাকা ধরা যেতে পারে। অপর দিকে বাংলামোটর থেকে গুলিস্তানের ভাড়াও সবর্নি¤œ হারে যদি ৫ টাকাও ধরি তাহলে দেখা যাচ্ছে যে যাত্রী এয়ারপোর্ট থেকে উঠে বাংলামোটর নামছে তার কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এখানে দেখা যাচ্ছে আব্দুল্লাহপুর থেকে কোনো কোনো যাত্রী এয়ারপোর্ট নামছে এবং সেখান থেকে সেই শূন্য সিটে নতুন যাত্রী উঠিয়ে তার থেকেও পুরো ভাড়াটাই নেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলামোটরে নামা যাত্রীটি গুলিস্তান পর্যন্ত ভাড়া দিয়ে নেমে যাওয়ার পর বাংলামোটর এবং শাহবাগ থেকেও সেই সিটের বিপরীতে নতুন যাত্রী উঠিয়ে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এসব মনিটরিং করার মতো কেউ নেই। সত্যি কথা লিখতে গেলে আমাদের কলম থামিয়ে দেয়া হয়। বাস ড্রাইভার কিংবা কন্ট্রাকটররা যোগাযোগমন্ত্রীর কোনো নির্দেষই মানে না। তারা যাত্রীদের বলে যোগাযোগমন্ত্রী বললেই হবে নাকি?

সিটিং সার্ভিসে ছাত্রদের থেকেও ফুল ভাড়া নেয়া হয় এবং তথাকথিত হাফপাস নেই সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়। ঠিক একই বাসে যখন পুলিশের কেউ ওঠে তার কাছ থেকে কোনো ভাড়াই নেয়া হয় না। পুলিশের নাকি পুরোপাস আছে। পাসটা কে দিল, কেন দিল তা আমাদের জানা নেই।

সিটিং সার্ভিস বলে ছাত্রদের থেকে হাফ ভাড়াও নেয়া যাবে না অথচ সেই বাসেই পুলিশকে বিনা ভাড়ায় নেয়া যাবে কোন নিয়মে সেটাও আমাদের মাথায় ঢোকে না। নাকি মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক হয়রানি থেকে বাঁচতে এই নিয়ম তারা নিজেরাই বানিয়ে নিয়েছে। আমরা সাধারণভাবে জানি, পুলিশ চাকরি করে, মাস শেষে বেতন পায়। তারা ভাড়া দিয়ে গেলে কিংবা হাফ ভাড়া দিলেও কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ছাত্রের তো কোনো বেতন নেই, তার থেকে কেন ফুল ভাড়াই নেয়া হবে আর পুলিশ থেকে কেন কোনো ভাড়াই নেয়া হবে না তা বোধগম্য নয়। এগুলোকে যদি চাঁদাবাজি বলে অভিহিত করি তবে এ সমাজ আমাদের ধুয়ে দেবে। চাঁদাবাজিকে চাঁদাবাজি বলা যাবে না।

পুলিশের পাস কে দিয়েছে? নিশ্চই সরকার কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী? তাহলে ছাত্রদের ব্যাপারেও তো মাননীয় যোগাযোগমন্ত্রী একাধিকবার ঘোষণা দিয়েছেন অর্ধেক ভাড়া নিতে। পুলিশ পুরো মাফ পেয়ে যায় আর ছাত্ররা হাফ ভাড়াও দিতে পারে না এটাকি জবরদস্তি নয়?রাজধানী ঢাকার প্রতিটি রুটে সিটিং সার্ভিসে ভাড়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মনিটরিং করার জোর দাবি জানাচ্ছি। এভাবে প্রকাশ্যে অন্যায়ভাবে ভ্রমণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হলে সত্যিকারের সোনার বাংলা স্বপ্ন হয়ে থেকে যাবে। তাই এই ভাড়া চাঁদাবাজদের রুখে দিতে হবে এখনই।

জাজাফী

ঢাকা।

চিঠিপত্র'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj