স্বাধীনতা দিবস : পেছনে ফিরে দেখা এবং প্রাসঙ্গিক ভাবনা : অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ

রবিবার, ২৬ মার্চ ২০১৭

আজ ২৬ মার্চ, আমাদের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার সেনারা নিরীহ বাঙালির প্রতি যে বর্বর গণহত্যা চালিয়েছিল, সেই মৃত্যুর বিভীষিকা থেকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল দেশের মুক্তিপাগল বীর সন্তানরা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে অস্ত্র কাঁধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল রণাঙ্গনে। আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটেছিল বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের। ডাক এসেছিল দেশকে হানাদারের কবল থেকে মুক্ত করার। এই মার্চ মাস এলেই সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা খুবই মনে পড়ে যায়।

আমি দেখেছি- কীভাবে রক্তস্নাত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল। ২৫ মার্চ রাতে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে নিরস্ত্র বাঙালিরা যেভাবে একটি সুশৃঙ্খল অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, পৃথিবীর ইতিহাসে তার দৃষ্টান্ত বিরল। মাঝরাতেই বাবা আফাজ উদ্দিন আহাম্মদ খবর পেয়েছেন বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করার পর পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ট্যাঙ্ক নিয়ে হামলা চালিয়ে ঢাকায় অজ¯্র সাধারণ নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, বাঙালি পুলিশ হত্যা করেছে। আমরা তখন সবাই বিচলিত- কী হচ্ছে। অনেকে আবার হাউ-মাউ করে কাঁদছে। কারণ আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন ঢাকায় থাকে। তাদের কী অবস্থা। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পাক বাহিনী কী মেরে ফেলেছে, নাকি বাঁচিয়ে রেখেছে- এ নিয়ে সবাই চিন্তিত। আমি তখন দেখেছি, আমার এলাকায় কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলা বিজয় নগর গ্রামে লোকজন স্বাধীনতার চেয়ে তখন বঙ্গবন্ধুর প্রয়োজনীয়তাই বেশি মনে করেছিল। বঙ্গবন্ধুর জীবিত থাকার সংবাদ জেনে একদিকে যেমন আশার আলো জ্বলে উঠেছিল তেমনি অন্যদিকে তাকে যেন হত্যা করতে না পারে সেজন্য লোকজন সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতে থাকে। অনেককে রোজা রাখতেও দেখেছি। গ্রামের মানুষগুলো বেতারের সংবাদে বিমূঢ় হয়ে উঠলো। তখনকার সময় ঘরে-ঘরে এত রেডিও টেলিভিশন ছিল না। খবরের সময় হলে সারা গ্রামের মানুষ আমার ফুফা আবদুল মজিদ মাস্টারে বাড়িতে ভিড় জমাতো খবর শোনার জন্য।

বাংলাদেশ যে মুক্তিযুদ্ধের দিকে ধাবিত হবে, সে বোধ তৈরি হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্যে দিয়ে। তার ভাষণ শোনার পর কোনো বাঙালির মনেই আর দ্বিধা রইল না। সেদিন থেকেই সারাদেশের মানুষ প্রস্তুতি নিতে থাকল স্বাধীনতার জন্য। সে ধারাবাহিকতায় ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা তাই প্রত্যাশিত ছিল। সেদিন থেকে এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে অংশ নিল মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে। পাকিস্তানের বিমাতাসুলভ বৈষম্যের সম্পর্কে যাদের কখনো কোনো ধারণা ছিল না, গ্রামের সেই খেটে খাওয়া দিন মজুর কৃষক তারাও পাকিস্তনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। মুক্তি সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অগণিত মানুষ। যারা সরাসরি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করার সুযোগ পায়নি, তারা মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার দিয়ে, আশ্রয় দিয়ে, বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছিল।

কুমিল্লার জেলার হোমনা থানার মানুষের মাঝে সেদিন আমি স্বাধীনতার যে দৃঢ়তা ও শক্তি দেখেছি তা ভাষায় লিপিবদ্ধ করে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। মার্চের ২৬ তারিখ গণহত্যা চালানোর মধ্য দিয়ে পাকসেনারা ঢাকার কর্তৃত্ব গ্রহণের পর সারাদেশে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কাজে রত হয়ে পড়ে। ২৬ শে মার্চের কায়দায় বড় বড় জেলায় ও মহকুমায় প্রবেশ করতে থাকে। এছাড়া কিছু কিছু শহর ও থানাগুলোও তাদের দখলে নিয়ে যায়। ফলশ্রæতিতে প্রতিরোধ গড়ে তুলে মুক্তিযোদ্ধারা। মে মাসের শেষ দিকে আমার বন্ধু আমিন, খুখুসহ কয়েকজন ভারত থেকে ট্রেনিং নিয়ে প্রথমে পঞ্চবটি তারপর বাতাকান্দি বাজারে মুসলিম লীগ নেতা বারেক ডাক্তারের চেম্বারে গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে বারেক ডাক্তার মারাত্মক আহত হন। আর দুইজন লোক চেম্বারের ভিতরেই মৃত্যুবরণ করে। এ হামলার ফলে হোমনাতে মুক্তিযোদ্ধারা আছে জেনে পাকবাহিনীর সেনারা আসতে পারে-এ ধারনা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা হোমনা লঞ্চঘাটের রাস্তায় গ্রেনেড পুঁতে রাখে। পাকিসেনারা অগ্রগামী হিসেবে সাধারণ জনগণকে আগে হাঁটায়, সেজন্য গ্রেনেড বিস্ফোরণে সাধারণ জনগণ আহত হয়। তারপর হোমনা থানার সিও অফিসের বাংকার করে পাকসেনারা শান্তি কমিটির সহায়তায় আশপাশের গ্রামে মেয়েদের উপর অত্যাচার, বাড়িঘর পোড়ানো, গরু-ছাগলসহ মূল্যবান দ্রবাদি লুটপাট শুরু করে।

জুলাইয়ের শেষদিকে পাকবাহিনী আামদের এলাকার জয়পুর গ্রামে তিতাস নদী দিয়ে লঞ্চযোগে প্রবেশের চেষ্টা করলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা সশস্ত্র আক্রমণ চালায়। আক্রমণে টিকতে না পেরে পাকবাহিনী দ্রুত মাছিমপুরের দিকে চলে যায়। পরবর্তীতে পাকবাহিনী জগন্নাথকান্দি মাথাভাঙ্গার হিন্দু জেলেপাড়ার প্রবেশ করে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ দেড় শতাধিক লোককে হত্যা করে। লাশগুলো নদীতে ভাসতে থাকে। মুসলিমপাড়ার দেলোয়ার মাস্টার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলে তার বাবা হোরা মিয়াকে (ডাক নাম) পাকবাহিনী গুলি করে মেরে ফেলে। একের পর এক হামলরা ফলে স্থানীয় লোকজন জীবনরক্ষার ট্রলারে করে বিক্রমপুর হতে ভারতের যাওয়া পথে হোমনার পাকবাহিনী দুইশত নারী পুরুষকে আটক করে, তাদেরকেও হত্যা করে।

জুনের দিকে মুক্তিযোদ্ধরা আমাদের গ্রামের মেম্বার শান্তি বাহিনীর সদস্য আবদুল হামিদ ডাক্তারকে মেরে ফেলার জন্য বন্দুক ধরলে বাবা উনাকে ছেড়ে দিতে বলেন। বাবা তাদেরকে বলে হামিদ ডাক্তার খুবই ভাল মানুষ। আসলেই হামিদ ডাক্তার আমাদের গ্রামের মানুষদের রক্ষা করার জন্য শান্তি কমিটিতে নাম লিখেছিলেন। বাবা ছিল আওয়ামী লীগের টিকেট ধারি নেতা এবং স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের জন্য নির্বাচনকারী। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে তার ছিল যোগাযোগ। সব সময় তাদের সহযোগিতা করতেন। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার ফলে পাকবাহিনী বাবাকে মেরে ফেলার হুমকি দিলে আমরা জুলাই মাসের প্রথম দিকে অনন্তপুর গ্রামে খালার বাসায় আশ্রয় নেই। সেপ্টেম্বরে আবার বাড়িতে ফিরে আসি।

১ অক্টোবর সকাল ১০টায় পাকসেনারা মিরশ্বিকারী ও ভবানীপুর গ্রামে বাড়িঘরে আগুন দিয়ে লুটপাট শুরু করলে ওপারচর গ্রাম থেকে মুক্তিযোদ্বারা মর্টারসেল নিক্ষেপ করে। হামলায় পাকসেনারা টিকতে না পেয়ে- হোমনা থানার ফিরে আসে। এর পরদিন রাতে ইব্রাহিম কমান্ডারের নেতৃত্বে হোমনা থানার আক্রমণ করলে বাহের খোলার খোরশেদ এবং হারুন নিহত হয়। আমার ২ ব্যাচ সিনিয়র আলী আহম্মদ (যুগ্ম-সচিব) গ্রেনেডের স্পিøন্টার আঘাতের ফলে অর্ধেকটা আঙ্গুল কেটে ফেলা হয়। এতে ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা আহত এবং ৩০ জন রাজাকার ধরা পরে।

২ নভেম্বর পাকিবাহিনী জয়পুর গ্রামে প্রবেশ করে ব্যাপক লুটপাট ও বাড়িঘর পোড়ায়। তারা গরু-ছাগল, হাঁস মুরগি জবাই করে খেয়ে বিকালের দিকে আবাইত্তা (তিতাস নদীর শাখা) নদী দিয়ে গান বোটের ছাদে উল্লাস করে যাওয়ার পথে ইব্রাহিম কমান্ডারে নেতৃত্বে মনির, কাদের, মোশারফ,তাজুল ইসলামসহ আরো অনেকে মিরাশ, শ্যামনগর ও পঞ্চবটির বট গাছের নিচে থেকে আক্রমণ করে। এতে পাকবাহিনীর অনেক সেনা মৃত্যুবরণ করে। কিন্তু একটানা যুদ্ধ করায় অনেকের গুলি শেষ হয়ে যায়। ফলে তাদের প্রতিরক্ষার অবস্থান নাজুক হয়ে পড়ে। অসীম সাহসী মনিরের গুলি ছিল। একাই সাহসিকতার সঙ্গে পাকবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ অব্যাহত রাখেন। এক পর্যায় মনির মাথার উঁচু করলে তাদের একটা গুলি তার মুখের ভিতর দিয়ে মাথায় লাগে। সাথে সাথে সে মায়া যায়। ২ দিন যুদ্ধ চলে। দ্বিতীয় দিনে ঢাকা থেকে পাকিস্তানির গানবোট এসে জীবিত ও মৃত্যু সেনাদের নিয়ে যায়।

১৫ ডিসেম্বর ফজরের নামাজের পর বাঞ্ছারামপুরের অবস্থানরত চার শতাদিক পাক বাহিনী হোমনা থানায় ঘাগুটিয়া গ্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদের মধ্যে প্রবেশ করে বাংকার করে শক্ত অবস্থান নেয়। এ খবর মুক্তিবাহিনী অবগত হলে দুই শতাদিক মুক্তিযোদ্ধা দুলালপুর চন্দ্রমনি উচ্চ বিদ্যালয়ে একত্রিত হয়ে পাক বাহিনীকে দুই দিক থেকে একদিকে রামপুর, নুরালাপুর, উত্তরে শেখ আলমের বাগ দিয়ে অন্যদিকে সাপলেজী অতিক্রম করে ছোট ঘাগুটিয়ার উত্তর দিকে থেকে অতর্কিত সাঁড়াশি আক্রমন করে । সরাসরি যুদ্ধে পাথালিয়াকান্দির অলেক মিয়া শহীদ হন এবং ১৭জন আহত হন। এর মধ্যে কমান্ডার ইব্রাহিমের উরুতে গুলি লাগে। হানাদার বাহিনীর অনেকে নিহত ও আহত হয়। যার সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। কৌশলগত কারণে মুক্তিবাহিনী পিছিয়ে তিন দিক থেকে বাংকার করে পজিশন নিয়ে পাকবাহিনীকে অবরুদ্ধ করে রাখে। সময় সময় পাকবাহিনী গুলি ছুড়লে মুক্তিবাহিনীও পাল্টা গুলি ছুড়ে অবস্থানের কথা জানান দেয়। এতে অনেক সৈন্য নিহত ও আহত হয় যা পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণকালে জানা যায়। ১৮ ডিসেম্বর ময়নামতি ক্যান্টমেন্ট থেকে মিত্র বাহিনীর তিন জন সৈন্য মুক্তিবাহিনীর সাথে এসে হানাদার বাহিনীকে ওয়ারলেসের মাধ্যমে আহবান জানান আত্মসমর্পণ করার জন্য। হানাদার বাহিনী মিত্রবাহিনী হিসাবে তাদের বিশ্বাস করেনি। যার জন্য পাকবাহিনী আত্মসমর্পনে রাজি হয়নি। পাকবাহিনী মনে করেছিল মুক্তি বাহিনীর হাতে আত্মসমর্পণ করলে তাদেরকে মেরে ফেলা হবে। ২৩ ডিসেম্বর মিত্র বাহিনীর সদস্যরা পুনরায় তিন ট্যাঙ্ক নিয়ে আসে। হানাদার বাহিনীতে পুনরায় ওয়ারলেসের মাধ্যমে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। পাকবাহিনী এতেও রাজি না হওয়ার মিত্রবাহিনী ট্যাঙ্ক থেকে গোলা বর্ষণসহ সরাসরি আক্রমণ করে। এ আক্রমণের কারণে হানাদার বাহিনীর বিশ্বাস জন্মে যে তারা মিত্র বাহিনীর লোক। মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়ে তারা ঘাগুটিয়া গ্রাম থেকে বাহির হয়ে আসে। ১৮১জন জীবিত ও আহত হানাদার সদস্য আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণের পরে অবশিষ্ট হানাদার বাহিনীর সদস্যরা ঘাগুটিয়াতেই মৃত্যু বরণ করে। আত্মসমর্পণের পর মিত্র বাহিনী পাকি সৈন্যদের ময়নামতি ক্যান্টমেন্টে নিয়ে যায়। এরপর হতে ২৩ শে ডিসেম্বরকে হোমনা মুক্ত দিবস হিসাবে উদযাপন করা হয়। উপজেলার চম্পক নগর, ঘাগুটিয়া, নিলখী বাজার, দুলাল বাজার-হোমনা সদর ও পঞ্চবটি প্রভৃতি জায়গায় সংঘটিত পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের একাধিক লড়াইয়ে ২৩ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং ২৪ জন আহত হন। তাছাড়া পাকিবাহিনী বর্তমান হোমনা ডিগ্রি কলেজের পাশে বহুসংখ্যক নারী, পুরুষ ও শিশুকে জীবন্ত কবর দেয়। গণেশ নাথের পুকুর পাড়ে কারো হাত, কারো খুলি মাটির নীচ থেকে বের হয়েছিল। এ স্থানটি বধ্যভূমি হিসেবে বিবেচনা করে স্মৃতিস্তম্ভ করা দরকার। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার মা ভাত, মাংস, ডাল প্রভূতি রান্না করে দিলে আমরা এ খাবার মাথায় করে ৪ মাইল দূরে ঘারমোড়া মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে পৌঁছে দিতাম। ক্যাম্পে আমার বন্ধু করিম, নাজিমউদ্দিনসহ অনেকের সাথে গ্রেনেড ব্যবহার ইত্যাদি নিয়ে নানা অভিজ্ঞতার কথা আলোচনা করতাম। আামদের গ্রামের মিজান, বেলাল, আউয়াল, তমিজ উদ্দিন, মতিন, হায়েত আলী ও হক মিয়া (সামসুল হক), রূপসদি-বেলানগর থেকে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিয়েছে। শুনলাম তাদের নাম নাকি মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, বিশ্বেও ছিল সাড়া জাগানো একটি ঘটনা। শুধু মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়নি। এ জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ এ পথপরিক্রমায় বঙ্গবন্ধু দুঃসাহসিক ভূমিকা পালন করেন। মৃত্যুকে তুচ্ছ ভেবে তিনি এগিয়ে গেছেন অবিচল চিত্তে। এ জন্যই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রাণপুরুষ। ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’, ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’, ‘বাঙালির স্বাধিকার’, ‘জয় বাংলা’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’- যাই বলি না কেন এগুলোর অপর নাম ‘বঙ্গবন্ধু’। লাল-সবুজের পতাকায় তিনি হয়ে আছেন চিরস্মরণীয়। আজ বিশ্বব্যাপী যেখানেই মুক্তির সংগ্রাম, সেখানেই অনুপ্রেরণা বঙ্গবন্ধু। তার নির্ভেজাল স্বদেশী চিন্তা-চেতনা থেকে তারা শিক্ষা নেন।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা লাভ ও বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মৌলিক ধারণা ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা, শোষণহীন সমাজ গঠন ও গনতান্ত্রিক মূলোবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা। যে নীতি অনুসরণ করে তার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে চলছেন। নতুন প্রজন্মকে বলছি- ইসলামের ধারণা সম্পূর্ণই নিহিত রয়েছে গঠনতন্ত্রে এবং শোষণহীন সমাজ গঠনের সকল উপাদান রয়েছে সেখানে। শুধুমাত্র সঠিকভাবে অনুধাবনের মাধ্যমে আমাদেরকে একটি বৈষম্যহীন শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন করতে হবে।

দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে ঐক্যবদ্ধভাবে আরও শক্তিশালী এবং সব ষড়যন্ত্রকারীকে প্রতিহত করব- এটাই হোক স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার।

স্বাধীনতা দিবস : বিশেষ আয়োজন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj