এনবিআরের প্রাক-বাজেট আলোচনা : নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে সময় চান ব্যবসায়ীরা

শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০১৭

কাগজ প্রতিবেদক : আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে উল্লেখ করে সেবা খাতের ব্যবসায়ীরা নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে আরো সময় চেয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় রাজস্ব ভবন সম্মেলনকক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে হোটেল, রেস্তোরাঁ, গেস্টহাউসসহ বিভিন্ন সেবাখাতের ব্যবসায়ী নেতারা এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

দাবি-দাওয়ার অধিকাংশই ছিল মূসক অব্যাহতি কিংবা হ্রাস করা সংক্রান্ত। আলোচনা সভায় বাংলাদেশ সিকিউরিটি সার্ভিসেস কোম্পানিজ ওনার্স এসোসিয়েশন কর অবকাশ সুবিধার দাবি জানায়। প্রাক বাজেট আলোচনায় সংগঠনগুলোর নেতারা এবং এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হবে। এ সময় তিনি আরো বলেন, আমরা কেউ একে অপরের প্রতিপক্ষ নই। আমরা একত্রিত হয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করব। এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্বিগন না হওয়ার পরামর্শ দেন। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা উদ্বিগ্ন হবেন না। অনলাইন ব্যবস্থাপনায় এ আইন বাস্তবায়নের ফলে ছোট ব্যবসায়ীরা বেশি লাভবান হবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ঠিকমতো ভ্যাট পরিশোধ করলে ছোট ব্যবসায়ীরা যে উপকরণ কর রেয়াত পাবেন, তাতে তাদের প্রদেয় মোট ভ্যাটের পরিমাণ ১৫ শতাংশ থেকে অনেক কমে আসবে।

নজিবুর রহমান বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেট ভিন্ন আঙ্গিকে তৈরি হচ্ছে। এবার রাজস্ব বাজেটে সকল অংশীজনের মতামত অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রের পাশাপাশি আমরা এবার তৃণমূলের কথাও শুনছি।

নতুন ভ্যাট আইনে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা উপকৃতই হবেন বলে মনে করেন এনবিআর সদস্য জাহাঙ্গির হোসেন। তিনি বলেন, বছরে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের জন্য কোনো কর দিতে হবে না। আর ৩০ লাখ ১ টাকা থেকে শুরু করে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক লেনদেনের জন্য মাত্র ৩ শতাংশ টার্নওভার কর দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, নতুন আইন হলে পণ্যের সঙ্গে আলাদা করে মূসক থাকবে না। এটি পণ্যের মূল্যের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। আর ব্যবসায়ী যতটুকু মূল্য সংযোজন করবে, তার ওপর ১৫ শতাংশ মূসক দিতে হবে। বাকিটা তারা রেয়াত পাবেন। প্রকৃতপক্ষে আড়াই থেকে তিন শতাংশ মূসক দিতে হবে।

আলোচনায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পরিচালক আবু নাসের বলেন, নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও সমাধান হয়নি। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে দেশে অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে আরো কিছু সময় বাড়িয়ে দেয়া উচিত। ব্যবসায়ীদের যেন আবার রাস্তায় নামতে না হয়, সে বিষয়ে ভেবে দেখা উচিত। এবার রাস্তায় নামলে আমাদের করার কিছু থাকবে না। তিনি বলেন, সুন্দর পরিবেশে আপনারা এর বাস্তবায়ন করুন। এ আইন বাস্তবায়ন নিয়ে যাতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের কোন ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়, এ বিষয়ে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে সাধারণ হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার (ইসিআর) মেশিন বসানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম সরকার রবিন ছোট রেস্তোরাগুলোতে বিক্রয়ের ওপর ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেন। সংগঠনটির পক্ষে খন্দকার রুহুল আমিন বলেন, রাজস্ব আদায়ে এনবিআরকে আগে হয়রানিমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রামে কিছু অভিজাত মিষ্টির দোকান ছাড়া সারা দেশে সব দই-মিষ্টির দোকানের ক্ষেত্রে সেবার বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থের ২০ শতাংশের ওপর ভ্যাট দাবি করছি।

কুরিয়ারের ক্ষেত্রে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৪ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে কুরিয়ার সার্ভিসেস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সিএসএবি)। অসম প্রতিযোগিতা নিরসনে প্যাকেজ ভ্যাট করার প্রস্তাব করেন বাংলাদেশ সুপার মার্কেট ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি নিয়াজ রহিম। একই সঙ্গে খাদ্য সংরক্ষণের যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোসহ বাড়িভাড়া ভ্যাটমুক্ত রাখার দাবি জানান তিনি।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj