একুশের আন্দোলনে ভাষিক জাতীয়তা ও রাজনীতি : আহমদ রফিক

মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

ভাষা আন্দোলনকে সাধারণ বিচারে সাংস্কৃতিক আন্দোলন বলা হয়ে থাকে, হয়তো এ কারণে যে আন্দোলনের বিষয় ভাষা। ভাষার অধিকার দাবি। কিন্তু এ দাবির তাৎপর্য বিচার করতে গেলে আন্দোলনের রাজনৈতিক চরিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাতে এমনও মনে হতে পারে যে ভাষা আন্দোলন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন হওয়ার কারণে এর রাজনৈতিক চরিত্রই প্রধান। অবিভক্ত ভারতে-বঙ্গে আর্থসামাজিক দিক থেকে প্রতিবেশী সম্প্রদায়ের তুলনায় পশ্চাদপদ বাঙালি মুসলমান প্রতিযোগিতাহীন স্বতন্ত্রভূখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে অন্ধ একাট্টা সমর্থন জানিয়ে ছিল যে কারণে রক্তস্রোতে দেশভাগ, বঙ্গবিভাগ। কিন্তু তা সত্ত্বেও আশা পূর্ণ হয়নি বাঙালি মুসলমানের। উর্দুভাষী, অবাঙালি রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠে পাকিস্তানের হর্তাকর্তা বিধাতা। ঘটনাক্রমে তারা বাংলা ভাষা ও বাঙালিকে বিজাতীয় ভাবতেও অবজ্ঞা করতে অভ্যস্ত। রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে এ বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পবিত্র ভূমি পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে তারা নারাজ।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান থেকে মুসলিম লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা সবাই নানা উপলক্ষে ঘুরে ফিরে বারবার বাঙালিদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এ বিষয়ে একই রকম চড়া সুর ছিল পাকিস্তানের স্থপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কণ্ঠে। পূর্ববঙ্গের ভাষানুরাগী মানুষ অবাক হয়ে লক্ষ্য করেছে যে বাঙালি মুসলমান রাজনীতিক- খাজা নাজিমুদ্দিন, নুরুল আমিন থেকে তমিজুদ্দিন খান বা ফজলুর রহমান সবারই রাষ্ট্রভাষা বিষয়ে এক রা। এমনকি বাঙালি সাহিত্যিক হবীবুল্লা বাহারও উর্দু রাষ্ট্রভাষার পক্ষে। ব্যতিক্রম কংগ্রেস পার্টির সদস্যরা।

বাঙালি মুসলমান, শিক্ষিত মুসলমান হঠাৎ করেই উপলব্ধি করে যে আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য আবারো তাদের লড়াইয়ে নামতে হবে, তাও মাতৃভাষা বাংলার দাবি নিয়ে। কারণ রাষ্ট্রভাষা উর্দু হলে পাকিস্তানে বাঙালি মাত্রেই রাষ্ট্রিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক সবদিক থেকে উর্দু ভাষীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়বে।

দুই.

বিষয়টা খুব স্পষ্ট। তবু বাঙালি মুসলমানের একাংশ শুরুতে বৃহৎ অংশ ধর্মীয় রক্ষণশীলতার প্রভাবে সে সত্য উপলব্ধি করতে বা মানতে রাজি ছিল না। গোলাম মোস্তফার মতো বাঙলা ভাষার কবি, মুজিবর রহমান খাঁর মতো সাংবাদিক, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসাইনের মতো ইংরেজি ভাষার অধ্যাপকের বোধে সহজ রাজনৈতিক এ সত্যটা ধরা দেয়নি। কেন দেয়নি তা বোঝা কঠিন। একই কথা খাটে মওলানা আকরম খাঁ সম্পর্কেও। সম্ভবত জাতীয় স্বার্থের চেয়ে ধর্মীয় আবেগ বা অন্ধ পাকিস্তানপ্রীতি তাদের কাছে বড় হয়ে উঠেছিল। অন্ধ আবেগের কারণে তারা বুঝতে চাননি যে মুসলমানের ধর্মীয় ভাষা উর্দু নয়, আরবি। উভয়ের মধ্যে কিছু মিল সত্ত্বেও অমিলও সত্য এবং উর্দু সেনাছাউনির কথকতার ভাষা। উর্দুর দাবির মূল গায়েন ভারত থেকে আগত উর্দুভাষী শীর্ষ মুসলিম লীগ নেতারা এবং তাদের সমর্থক উর্দুভাষী মোহাজেররা। অবশ্য সেই সঙ্গে পাঞ্জাবি সামরিক বা বেসামরিক শিক্ষিত ও উচ্চশ্রেণি। এরা পাঞ্জাবি ভাষা ছাড়াও উর্দু বলতে সড়গড়। এটা এক ধরনের ভাষিক আধিপত্যবাদ যা বহুভাষী বহুজাতিসত্তার ভারতেও দেখা গেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইংরেজি সাম্রাজ্যবাদের একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা ছিল ফরাসি ও জার্মানিদের চোখের বিষ বা বলা যায় খুবই অপছন্দের।

তবে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বিষয়টা, সমস্যাটা ভিন্ন। প্রথমত, উর্দু পাকিস্তানের চার প্রদেশের কোনোটিরই ভূমিপুত্রদের ভাষা নয়। উর্দু পাকিস্তানে বহিরাগতদের ভাষা। দ্বিতীয়ত, বাংলা গোটা পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু জনগণের ভাষা, ভাষিক বিচারে উন্নত এবং সাহিত্য সংস্কৃতি-সমৃদ্ধ ভাষা। আন্তর্জাতিক মহলে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির গুণে স্বীকৃত ভাষা। একে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঝেড়ে ফেলার পক্ষে কোনো যুক্তি দাঁড়ায় না।

বরং জনগরিষ্ঠতার বিচারে বাংলা পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দাবি করতে পারে। কোনো কোনো বাঙালি লেখক তেমন দাবি করেছেন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষিত বাঙালি ছাত্র-অছাত্র আপন ঔদার্যে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নেয়ার দাবি জানিয়েছে। কিন্তু পাক আধিপত্যবাদী শাসকশ্রেণি সেই যুক্তিসঙ্গত দাবি মানতে রাজি ছিল না।

তাই রাজনীতি সচেতন ভাষাপ্রেমী ছাত্র সমাজ, তরুণ ও যুব সমাজের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি উঠেছে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ ‘রাজবন্দীদের মুক্তি চাই’ ‘সর্বস্তরে বাংলা চালু কর’। স্লোগান তিনটির তাৎপর্য অনুধাবন করলে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে এসব উচ্চারণের পেছনে রয়েছে একটি জাতিসত্তার নানাবিধ অধিকার নিশ্চিত করা, সমাজের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত করা, সর্বোপরি জনগণের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এসব প্রাপ্তির জন্যই তো বাঙালি মুসলমানের পাকিস্তান চাওয়া, পাকিস্তানের পক্ষে একচেটিয়া ভোট দেয়া। এ নির্জলা সত্য পাকিস্তানি শাসকদের উপলব্ধিতে ছিল না। তাই তারা পূর্ববঙ্গকে শাসন-শোষণ করার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক নীতিই সত্য হিসেবে গ্রহণ করে।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার এ দাবির বহুমাত্রিক চরিত্র উপলব্ধি করে হোক অথবা নিছক মাতৃভাষা প্রেমে হোক অথবা এ দ্বিবিধ কারণের সমন্বিতবোধে হোক বাঙালি তরুণ ও যুব সমাজই রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম পথে নামে, তাদের পেছনে শুরুতে সামান্য সংখ্যক নানা স্তরের শিক্ষিত বাঙালি শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক বা অন্য পেশাজীবী মানুষ।

সামগ্রিক বিচারে তাই বলা চলে যে, মূলত রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি সামনে রেখে ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হলেও এর মূল চরিত্র রাজনৈতিক, সামাজিক এবং জাতিস্বার্থভিত্তিক। সে রাজনীতি বলা বাহুল্য, পূর্ব বাংলার জনগোষ্ঠীকে ঘিরে, সেই জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক-সামাজিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে। এ আন্দোলনে রাজনৈতিক উপাদানই বরং অপেক্ষাকৃত বেশি।

তিন.

ভাষা আন্দোলনের চরিত্র বিবেচনায় দুএকজন ভাষা আন্দোলন বিষয়ক লেখক এমন দাবি করেছেন যে, এ আন্দোলন নিছক রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি সমন্বিত আন্দোলন; এতে বাঙালি জাতি চেতনার কোনো প্রকাশ নেই। থাকলে স্বাধীন বাংলার পক্ষে স্লোগান উঠত। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো স্লোগান ভাষা আন্দোলনে, মিছিলে শোনা যায়নি।

এ যুক্তি তথ্যগতভাবে স্বীকার্য হলেও তত্ত্বগতভাবে অনেকটাই অতিশয়োক্তি। পূর্বোক্ত তিনটি স্লোগানের অন্তর্নিহিত রাজনৈতিক আকাক্সক্ষা বা তাত্তি¡ক সত্য বিচারে বরং ভিন্ন সত্যই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে স্পষ্ট, নিহিত জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের দাবিতে। সেক্ষেত্রে স্বাধীন বাংলার দাবি উচ্চারণ ছিল এক অসম্ভব ব্যাপার। তাই কৌশলগত কারণে পূর্বোক্ত তিন স্লোগান।

এর মূল কারণ পাকিস্তানে স্বৈরাচারী রক্ষণশীল, ফ্যাসিস্ট দমনীতির শাসন ব্যবস্থা যা একাত্তরের বর্বরতায় নগ্নরূপে প্রকাশ পেয়েছিল। বিভাগ-পূর্ব কালের পাকিস্তান আন্দোলন নিয়ে এমন সম্ভাবনা বাঙালি মুসলমানের মাথায় ছিল না। ক্রমাগত প্রচারে বাঙালি মুসলমান ধর্মীয় সত্তা ও জাতিসত্তাকে একাকার করে ফেলেছিল, বিশেষত উন্নত প্রবিবেশী সম্প্রদায়ের উচ্চমন্যতা, রক্ষণশীলতা ও ধর্মীয় শোভিনিজমের কারণে এবং প্রতিক্রিয়ায়।

কিন্তু অকুস্থল স্বাপ্নিক ভুবন পাকিস্তানে পৌঁছে বাস্তব ঘটনার আঘাতে ধীরে ধীরে তাদের বোধোদয় ঘটতে থাকে। সেই চেতনার প্রথম প্রকাশ ছাত্র যুব সমাজে, যে কথা ইতোপূর্বে প্রাসঙ্গিক কারণে একাধিকবার বলা হয়েছে। স্বভাবতই এমন এক হিংস্র শাসন ব্যবস্থায় স্বাধীন বাংলার উচ্চারণ সম্ভব ছিল না এবং এমন উচ্চারণের পক্ষে বাস্তব রাজনৈতিক-সামাজিক পটভূমি তখন তৈরি হয়নি। তখনকার পরিবেশে গণতান্ত্রিক অধিকারের স্লোগানই বাস্তবসম্মত ছিল। কিন্তু তাতেও ঘটে বিপদ।

লক্ষ্য করার বিষয় যে ভাষা আন্দোলনের নম্র স্লোগানই পাকিস্তানি শাসকশ্রেণির চোখে বিপজ্জনক ও অসহ্য মনে হয়েছিল। তাই ভাষা আন্দোলন দমন করতে বাঙালি রাজনীতিক নুরুল আমিন হিংস্র সন্ত্রাসী নীতি গ্রহণ করে। আর বিচ্ছিন্নতার ও ভারতীয় সংযুক্তির অপপ্রচারও কম ছিল না। বরং তাদের অভ্যাসে পরিণত হয় ভারতবিরোধী, ধর্মভিত্তিক অপপ্রচার যেখানে কমিউনিস্ট পার্টি আক্রমণের অন্যতম প্রধান টার্গেট। সেই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক প্রচারও হয়ে ওঠে হাতিয়ার, চেষ্টা চলে সাম্প্রদাকি দাঙ্গা সংঘটনের।

আটচল্লিশ মার্চে সংঘটিত ভাষা আন্দোলনের পর শাসকশ্রেণি ঠিকই পরিবেশ তাদের অনুক‚লে রাখতে একাধিকবার দাঙ্গার আয়োজন করে। একুশের পরিবেশগত কারণে তা সম্ভব না হলেও ১৯৫৪-তে সীমাবদ্ধ বৃত্তে, যেমন আদমজী জুট মিলে ও চন্দ্রঘোনা কাগজকলে বাঙালি-বিহারি শ্রমিক দাঙ্গা ঠিকই ঘটাতে পেরেছিল। শাসকশ্রেণির চিরাচরিত পন্থায়।

কিন্তু বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন আপন গুণে ও পরিবেশ সহায়তায় পূর্বোক্ত আগল ভেঙে দিয়ে এক অসাধ্য সাধন করতে পেরেছিল। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও প্রগতিশীলতার পক্ষে বাঁকফেরা পরিবর্তন ঘটায়, যা একই সঙ্গে সাহিত্য-সংস্কৃতি ও রাজনীতিকে ইতিবাচকতায় প্রভাবিত করে। জাতীয়তাবাদী চেতনারও উন্মেষ ঘটায় যা ধীরে সুস্থে বিকশিত হতে থাকে পঞ্চাশ থেকে ষাটের দশক জুড়ে। মনে রাখতে হবে যে ষাটের দশকে জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রকাশকালেও স্বাধীনতার স্লোগান ওঠেনি, উঠেছে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি। স্বৈরাচারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে- ষাটের দশকের শোষণলগ্ন থেকে সত্তর-একাত্তরে পৌঁছে তবেই এক দফার পক্ষে রাজপথে স্লোগান ওঠে।

তাই ভাষা আন্দোলনে এমন স্লোগানের প্রত্যাশা কোনো বিচারেই বাস্তবসম্মত ছিল না। যা ছিল তার চেয়েও কিছুটা বেশি রাজনৈতিক আকাক্সক্ষার প্রকাশ পেয়েছে একুশের স্লোগানগুলোতে, বিশেষ করে সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের তাৎপর্যময় দাবির উচ্চারণে এবং কোনো কোনো প্রচারপত্রে, কমিউনিস্ট পার্টির প্রচারপত্রে পাকিস্তানের সব প্রাদেশিক ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার অঙ্গীভূত করার দাবিতে প্রকাশ পেয়েছে প্রতিটি জাতিসত্তার আত্মনিয়ন্ত্রণের গণতান্ত্রিক অধিকারের বিষয়টি। তাই এমন সিদ্ধান্ত সঠিক যে আপাত বিচারে ভাষা আন্দোলন মূলত রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সংঘটিত হলেও তাতে উপস্থিত ছিল বাঙালি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক-সামাজিক স্বার্থের উপাদান এবং প্রচ্ছন্নভাবে হলেও বাঙালি জাতীয়তাবোধ তথা বাঙালিত্বের চেতনা। আর সর্বস্তরে বাংলা প্রচলনের দাবির পেছনে ছিল সর্বজনীন স্বার্থ তথা নিম্নবর্গীয় জনস্বার্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি যা প্রগতি রাজনীতির অন্তর্ভুক্ত। এ দাবির সর্বজনীন অর্থনৈতিক-সামাজিক গুরুত্বের বিষয়টি এ পর্যন্ত কমই আলোচিত হয়েছে।

তাই নিশ্চিতই বলা চলে যে ভাষা আন্দোলন, বিশেষত একুশের আন্দোলনে রয়েছে ভাষিক জাতীয়তা ও রাজনীতির সম্পর্ক ও প্রভাব। তাই একুশের মিছিলে বাংলা ভাষিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যক্ষ স্লোগান উচ্চারিত না হলেও ওই আন্দোলনে বাঙালিত্ব তথা জাতীয়তাবোধ যে উপস্থিত ছিল একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

অন্তত আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট ছাত্র-যুব সমাজের একাংশে তা যে নিশ্চিত ছিল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে সে সম্বন্ধে বলা যায়। একুশের এই রাজনৈতিক তাৎপর্য পরবর্তী পর্যায়ে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করেছে- অবশেষে পরিণামে অর্জিত ভাষিক জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ। অবশ্য জাতিরাষ্ট্রের শুদ্ধতা নানা স্বৈরাচারের রাজনৈতিক আঘাতে যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে, একথা সত্য।

২৫ বছর পূর্তি : বিশেষ আয়োজন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj