চট্টগ্রামের প্রকাশনা শিল্প : সংকট ও সম্ভাবনা : রাশেদ রউফ

বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

বাংলাদেশের প্রান্তবর্তী জনপদের নাম চট্টগ্রাম। একে বলা হয়ে থাকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনুপম আধার। এর ভূ-খণ্ডগত অবস্থান যেমন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ, তেমনি ‘সমাজ সংস্কৃতি রাজনীতি অর্থনীতি-ধর্ম-ভাষা-সাহিত্য- সর্বক্ষেত্রে এখানকার জনগোষ্ঠীর কর্মকৃতি স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত’ এবং স্বকীয়তায় উজ্জ্বল। মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, চট্টগ্রাম সর্বাগ্রে। নানাক্ষেত্রে তাঁর এ কথার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্পেও চট্টগ্রাম পালন করেছে অগ্রণী ও অবিস্মরণীয় ভূমিকা।

একথা অনস্বীকার্য যে, চট্টগ্রামের মুদ্রণ শিল্পের বিকাশ ও অবদানের তুলনায় প্রকাশনা শিল্পের বিকাশ তেমন ঘটেনি। প্রচুর সম্ভাবনা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের প্রকাশনা শিল্প এখনো ভিত্তি তৈরির সংগ্রামে তৎপর। চট্টগ্রামের মুদ্রণশিল্প এখানকার সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে শুরু থেকেই অবদান রেখে চলেছে। ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে কলকাতায় প্রকাশিত ‘বিভাকর’ পত্রিকার সম্পাদক চট্টগ্রামের অধিবাসী শরচ্চন্দ্র দাশ ও তাঁর ভাই নবীনচন্দ্র দাশ সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশের উদ্দেশ্যে জয়নগর এলাকায় বসির উল্লাহ চৌধুরীর বাড়িতে শারদযন্ত্র নামে প্রথম মুদ্রণালয় বা ছাপাখানার পত্তন করেন। ১৮৮২ কিংবা ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে এই প্রেস থেকেই প্রকাশিত হয়েছে ব্রাহ্ম সমাজের প্রথম পাক্ষিক পত্রিকা ‘সংশোধনী’। পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন কাশীশ্বর গুপ্ত। বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে চন্দ্রশেখর প্রেস, সংশোধনী প্রেস, মিন্টো প্রেস ও পাঞ্চজন্য প্রেসসহ বেশ কয়েকটি প্রেস চট্টগ্রামে স্থাপিত হয়। পাঞ্চজন্য প্রেস থেকেই বের হয় স্বরাজ ও অসহযোগ আন্দোলনের মুখপত্র ‘পাঞ্চজন্য’। এরপর স্থাপিত হয় সুনীতি প্রেস, মডার্ন প্রিন্টিং কোং লি, চিটাগাং প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং হাউস, প্রবর্তক প্রেসসহ বেশ কয়েকটি প্রেস। সুনীতি প্রেস থেকে প্রকাশিত হয় প্রথম মুসলিম সম্পাদিত পাক্ষিক পত্রিকা ‘সুনীতি’। এর সম্পাদক ছিলেন খান বাহাদুর আমান আলী। উল্লিখিত প্রেসগুলো ব্রিটিশ আমলে সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ভূমিকা পালন করেছিল। অনেক পত্র-পত্রিকার উৎসস্থল ছিল এই ছাপাখানাগুলো।

সাতচল্লিশ পরবর্তী চট্টগ্রামেও মুদ্রণশিল্প বড় ভূমিকা পালন করেছে। মহান ভাষা আন্দোলনে কোহিনুর ইলেকট্রিক প্রেসের অবদান অপরিসীম। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় গুলি করে ছাত্রহত্যার প্রতিবাদে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামও উত্তাল ছিল। মাতৃভাষার দাবিতে শহীদের আত্মদান চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর রেখাপাত করেছিল। কবি মাহবুবউল আলম চৌধুরী ছিলেন তখন অসুস্থ, জ্বরে আক্রান্ত। ঢাকায় গুলিবর্ষণের সংবাদটি শুনে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি রচনা করেন একুশের প্রথম কবিতা ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’। কবিতাটি রাতারাতি ছাপিয়ে কোহিনুর ইলেকট্রিক প্রেসের ম্যানেজার, কম্পোজিটার ও মেশিনম্যানরা জনগণের ক্ষোভের বাস্তব রূপ দেন। তাঁদের উদ্যোগে ও কায়িক পরিশ্রমে প্রকাশিত এই পুস্তিকাই একুশের প্রথম সংকলন। কোহিনুর ইলেকট্রিক প্রেসের স্বত্বাধিকারী আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারের অসীম সাহস ও আন্তরিকতায় এটি প্রকাশিত হয়। প্রেসের ম্যানেজার দবির আহমদ চৌধুরী বিশ্বস্ত দু’জন কম্পোজিটর ও মেশিনম্যানদের সহযোগিতায় ভোর রাতেই পুস্তিকাটি ছেপে বের করে দেন। এটির প্রকাশক ছিলেন কামাল উদ্দীন আহমদ। পাকিস্তান সরকার পুস্তিকাটি নিষিদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি কোহিনুর ইলেকট্রিক প্রেস বন্ধ করার আদেশ দেয়। ২৩ ফেব্র“য়ারি প্রেসের স্বত্বাধিকারী আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ আসে। তখন ম্যানেজার দবির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রকাশনার সব দায়-দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিলে আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ারের পরিবর্তে তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়। বিচারে দবির উদ্দিন চৌধুরীর ছয় বছর সশ্রম কারাদণ্ড হলেও নানা চেষ্টা তদবিরের পর তিনি ছ’মাস কারাবাসের পর মুক্তি পান।

কোহিনুর ইলেকট্রিক প্রেসের পর চট্টগ্রামে অনেক প্রেস স্থাপিত হয়। যেগুলো পরবর্তী সময়ে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে বড় ভূমিকা পালন করে। তন্মধ্যে রয়েছে ক্রিসেন্ট প্রেস, আর্ট প্রেস, সিগনেট প্রেস, চন্দ্রনাথ প্রেস প্রভৃতি। পঞ্চাশের দশকে গ্রন্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রেখেছে আর্ট প্রেস। মুদ্রণ ব্যবসার সঙ্গে প্রকাশনাকে যুক্ত করে এটিকে শিল্পে রূপদানের প্রথম প্রচেষ্টা চলে আর্ট প্রেসের। ‘বইঘর’ নামে প্রকাশনা সংস্থার সূচনা এখান থেকেই। বই আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিশের মধ্যে পড়ে না। কিন্তু অন্যান্য ব্যবসার মতো বইয়ের প্রকাশনা ব্যবসায় পুঁজি বিনিয়োগ করতে হয় মোটা অঙ্কের। প্রাকৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা দেশের যে কোন বিপর্যয়ে সবার আগে বইকেনা বন্ধ হয়ে যায়। তাই বই ব্যবসায় বা প্রকাশনা শিল্পে ঝুঁকি বেশি। এই ঝুঁকি মাথায় নিয়ে বইঘর তাদের প্রকাশনা কাজ শুরু করে। বাংলা সাহিত্যের বরেণ্য লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশ করে জাতীয় ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখে এই প্রকাশনা সংস্থা। বইয়ের গুণগত মান ও প্রকাশনা মান এতো উন্নত ছিলো যে, তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে উভয় বাংলায়। বইঘর চট্টগ্রামের প্রকাশনা সংস্থা হলেও এটি চট্টগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয়ভাবে কাজ করার জন্য উদ্যোগী ছিল। ফলে চট্টগ্রামে অবস্থানরত লেখকদের বই (কয়েকজন ছাড়া) এ প্রকাশনা সংস্থা থেকে তেমন বের হয় নি। সাহিত্যিক ফাহমিদা আমিনের এক স্মৃতিকথায় আমরা এর চিত্র পাই। তিনি লিখেছেন,

আমার লেখালেখি জীবনের প্রথমদিকে চট্টগ্রামে যে একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান বই প্রকাশনাকে ব্যবসা হিসেবে নিয়েছিল, সেই বইঘরও প্রতিষ্ঠিত লেখকদের দিকেই নজর দিতো। আমার মনে আছে আমার কিশোর উপন্যাস (আত্মজীবনী ভিত্তিক) ‘প্রজাপতি রঙ ছড়ায়’- এর পাণ্ডুলিপি নিয়ে দু’বছর আমি ‘বইঘরে’ ধর্ণা দিয়ে পড়ে থেকেছি। শেষকালে ঢাকার শিল্পতরু থেকে বইটি ছাপা হয়েছে। নওরোজ সাহিত্য সংসদ থেকে ছাপা হয়েছে আমার ‘মোটামুটি সংবাদ’। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি চট্টগ্রামের লেখক-লেখিকাদের ঢাকা থেকে বই ছাপানো বড়ই দিকদারি। ‘বইঘর’ ছাড়া সেখানে কিছু নামসর্বস্ব ভাসমান প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ছিল। যেমন আমার আরও বই ছাপা হয়েছে হিমা প্রকাশনী থেকে। বেগম মুশতারী শফীর বই ছাপা হয়েছে প্রিয়ম প্রকাশনী থেকে। খোঁজ করলে এগুলোর অস্তিত্ব মিলবে না। ডানা প্রকাশনী, দোলনা প্রকাশনীরও নাম শোনা যেতো। রূপরঙ্গ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছিল আ ফ ম সিরাজউদ্দউলা চৌধুরীর ‘কখনো কান্না’। লেখক-লেখিকা নিজেদের উদ্যোগে ছাপাখানায় গিয়ে বই ছাপাতেন, নিজেদের তত্ত্বাবধানে, নিজেরাই একটা কল্পিত প্রকাশনা সংস্থার নাম বসিয়ে দিতেন।

গত শতকের সত্তর দশকে বেশ কিছু উন্নতমানের প্রকাশনার সঙ্গে আমরা পরিচিত হয়েছি। তন্মধ্যে শিশির দত্তের সম্পাদক প্রকাশনী ও মিনার মনসুরের এপিটাফ প্রকাশনীর প্রকাশনা উল্লেখযোগ্য।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মার্শাল ম্যাক্লুহান বলেছেন, গবফরঁস রং ঃযব সবংংধমব. অর্থাৎ মাধ্যমই বার্তা। যোগাযোগের উপায় হিসেবে প্রিন্ট মিডিয়া এখনো পর্যন্ত সর্বোৎকৃষ্ট। শিল্প-সাহিত্যের নানা শাখা, যেমন কবিতা, ছড়া, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক-তার বার্তা পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে প্রিন্ট মিডিয়া। বই তাঁর একটি অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে তাই আমরা দেখতে পাই অনেক উদ্যোমী মানুষকে, যাঁরা চট্টগ্রামের প্রকাশনা শিল্পে কিছু ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নিয়ে আগমন করেছেন। এঁদের কেউ লেখক, কেউ সংগঠক, কেউ গবেষক। এঁরা শিল্পমানস সম্পন্ন মানুষ। এঁদের পরিচালনায় চট্টগ্রামে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থা। তন্মধ্যে মনন, শৈলী, বলাকা, কালধারা, শব্দশিল্প, আবির, শব্দচাষ, পূর্বা, আমাদের পাঠশালা, কথন উল্লেখযোগ্য। অ্যাডর্ন এক সময় চট্টগ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করলেও এর বিস্তৃতি ঘটেছে উভয় বাংলায়। আমরা জানি, বোধের তাড়নায় ও বুদ্ধির প্ররোচণায় সাহিত্যিকরা কলম ধরেন। কিন্তু সব সাহিত্যকর্ম আলোর মুখ দেখে না। তাঁর দুটো কারণ: একটি লেখকের সংকোচ বা আড়ষ্টতা; অন্যটি প্রকাশের সুযোগের অভাব।

চট্টগ্রামের বর্তমান প্রকাশকরা লেখকের সংকোচের জায়গায় আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করেন এবং গ্রন্থ প্রকাশের সুযোগ করে দেন। এঁদের কল্যাণে চট্টগ্রামে এমন কোনো লেখককে পাওয়া যাবে না, যিনি এখনো অগ্রন্থিত আছেন, অর্থাৎ যার কোনো বই প্রকাশ হয় নি। গভীর নিষ্ঠা ও যতœকে ধারণ করে চট্টগ্রামে অবস্থানরত লেখকদের বই এঁরা প্রকাশ করে থাকেন। কিন্তু খুবই পরিতাপের বিষয় যে, চট্টগ্রামে সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থা যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তত সংকুচিত হচ্ছে চট্টগ্রামের বইয়ের বাজার। এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী বইঘরের অস্তিত্ব নেই এখন । বিপনি বিতানে তার একটা শো রুম ছিল। কয়েক বছর আগে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। চট্টগ্রাম শহরে অনেকগুলো সৃজনশীল বই বিপণি ছিল, ক্রমশ বন্ধ হতে হতে এর সংখ্যা এখন তিন-এ এসে দাঁড়িয়েছে। কারেন্ট বুক সেন্টার, কথাকলি ও বাতিঘর। আবার আশার কথা হচ্ছে, বাতিঘর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ভবনে সুপরিসর জায়গায় তাদের কর্মকাণ্ড বি¯তৃত করেছে। এটি এখন দেশের সর্ব বৃহৎ বই বিপণি কেন্দ্র। তবে বাতিঘর চট্টগ্রামের বইয়ের দোকান হলেও সেখানে চট্টগ্রামের প্রকাশনার দেখা মেলে খুব কম। বিপণনের ভালো ব্যবস্থা না থাকায় চট্টগ্রামের প্রকাশনা শিল্পের বিকাশ ঘটছে না। একুশের বইমেলায় সবাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অংশ নিতে পারে না। ফলে চট্টগ্রামে বিচ্ছিন্নভাবে আয়োজিত বইমেলাই চট্টগ্রামের প্রকাশকদের বড় অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার প্রকাশকরা ভাগ্যবান। তারা বছরে দু’টো বইমেলা পাচ্ছেন। একটি বাংলা একাডেমী আয়োজিত একুশের বইমেলা, অন্যটি জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র আয়োজিত বইমেলা। তাছাড়া সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, মসজিদভিত্তিক পাঠাগারসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর প্রকাশকদের কাছ থেকে সরাসরি কোটি টাকার বই কেনে। ঢাকার প্রকাশকরা সেই সুযোগও ভোগ করতে সক্ষম হন। চট্টগ্রামের প্রকাশকরা ঢাকায় গিয়ে সেই প্রতিযোগিতার দৌড়ে অংশ নিতে পারেন না। অংশ নিলেও সফলকাম হন না।

এ অবস্থায় চট্টগ্রামের প্রকাশনা শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসতে পারে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ চট্টগ্রামের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত স্কুল ও কলেজগুলোর জন্য প্রতিবছর হাজার হাজার বই ক্রয় করা হয়। যদি অন্তত তার অর্ধেক চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত বই থেকে ক্রয় করা হয়, তাহলে চট্টগ্রামের প্রকাশনা শিল্পের সংকট অনেকটা লাঘব হতো। জেলা প্রশাসনও নিতে পারে অনুরূপ ব্যবস্থা। এছাড়া গুণগত ও মানসম্পন্ন প্রকাশনাকে উৎসাহিত করার জন্য পুরস্কারেরও ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রতিবছর যেসব বই প্রকাশিত হবে, তার মধ্য থেকে শাখা-ওয়ারি শ্রেষ্ঠ বই নির্বাচন করে পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকাও এগিয়ে আসতে পারে।

প্রকাশকরা বই প্রকাশ করলে লেখকরাও বেশি বেশি করে লিখবেন। এভাবেই এই সৃজনশীল শিল্পটি বেঁচে থাকার অবলম্বন পায় এবং বিকাশের পথ খোঁজে। এটি চ্যালেঞ্জিং শিল্প-উদ্যোগ। প্রকাশনার মাধ্যমে লাভক্ষতি পুষিয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, যদি না প্রকাশিত বই যথার্থভাবে বাজারজাত করা না যায়। এই বিপণন সংকট নিরসন ও মূলধন ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে দরকার সবার সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা।

২৫ বছর পূর্তি : বিশেষ আয়োজন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj