সায়েন্স ফিকশন যুগে যুগে : রহীম শাহ

বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

তীব্র গতিতে নিঃসীম অন্ধকার ভেদ করে ছুটে চলছে মহাশূন্যযানটি। ভেতরের সারি সারি টিভি স্ক্রিনে ফুটে উঠেছে নানা রহস্যময় ছবি। আলোর ঝলক। বিচিত্র পোশাক পরা কয়েকজন লোক অদ্ভুত আকৃতির যন্ত্রপাতি নাড়ছে। কাচের জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে শাঁ-শাঁ করে গ্রহ নক্ষত্রদের ছুটে যেতে। কোথায় চলেছে এই মহাশূন্যযান? কত দূরে তার যাত্রা? কত লক্ষ আলোকবর্ষ সে পার হবে? সে কি পৌঁছতে পারবে ইউরেনাস গ্রহে? যে গ্রহের চারপাশ জুড়ে আছে রহস্যময় বলয়। নভোযানযাত্রী ফিসফিস করে মাইক্রোফোনে কাকে যেন নির্দেশ দিচ্ছে। আমরা ইউরেনাসে যাব। সেখানে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে।

এটি একটি মার্কিন বিজ্ঞানভিত্তিক কল্পকাহিনীর ছবির ঘটনা। আজকাল এ ধরনের সাইন্স ফিকশন প্রচুর নির্মিত হচ্ছে। পাচ্ছে অসম্ভব রকমের জনপ্রিয়তা। স্পিলবার্গ নামের এক স্কুল শিক্ষক ‘ইটি’ নামের একটি ছায়াছবি তৈরি করে সমস্ত পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। এক গ্রহান্তরের অদ্ভুত আকৃতির অধিবাসীর সঙ্গে পৃথিবীর একটি বালকের অন্তরঙ্গ সখ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছিল ইটি। চূড়ান্ত ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ করেছি ইটি। এর অবিশ্বাস্য জনপ্রিয়তা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বিস্মিত করেছিল। ছবিটি ছিল অত্যন্ত সুনির্মিত। স্পিলবার্গের ছিল অসাধারণ কল্পনাশক্তি। মেধাবী এই শিক্ষকের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির জন্য ছবিটিতে প্রচুর চমক ছিল। প্রযুক্তির সাম্প্রতিকতম ব্যবহারের দক্ষতা ছিল। স্পেশাল এফেক্ট ব্যবহার করা হয়েছিল সুনিপুণভাবে। এই জাদুকরি চলচ্চিত্রটিকে বলা হয়েছিল হলিউডি ছায়াছবির এক বিস্ময়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে গেল ইটির জনপ্রিয়তা। চারটি অস্কার পুরস্কারে ভূষিত হলো। ছবি শুরু হয়েছে এভাবে, দূরের আকাশ থেকে ধীরে ধীরে নেমে আসছে মহাশূন্যযানটি। মিষ্টি নরম আলো তখন পৃথিবীতে। সবুজ নরম আলোর ভেতরে পৃথিবীর মাটিতে নোঙর ফেলল। যানটি দেখতে গোলাকৃতির। উষার আলোর মতো রং। হঠাৎ দেখলে মনে হয় কারুকাজখচিত বিরাট কোনো ক্রিস্টমাস ট্রি যেন রাতের আকাশ থেকে নেমে এসেছে পৃথিবীর মাটিতে। একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছে এটি। নেমেছে খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে। এর অবতরণের ভঙ্গি দেখে মনে হয় এর চালক অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং দক্ষ।

এক সময় মহাশূন্যযানটির একটি অংশ আস্তে আস্তে খুলে গেল। দূর গ্রহ থেকে আসা নভোচারীরা নেমে এল যানটি থেকে। তারা পা রাখল পৃথিবীর মাটিতে। অদ্ভুত আকৃতির কিছু যন্ত্রপাতি দিয়ে মনোযোগের সঙ্গে পৃথিবীর মাটি পরীক্ষা করতে লাগল। গ্রহান্তরের অধিবাসীরা আকারে খুব ছোট। তারা নেমেছে চাঁদের আলোয় স্নিগ্ধ হয়ে থাকা একটি বাগানে। তারা চারদিকে ঘুরে ঘুরে সংগ্রহ করতে লাগল লতা, পাতা, ফুল, চারাগাছ। দেখতে তারা কদাকার। হাঁটছে অদ্ভুত ভঙ্গিতে। তারা যেন মিশে গেল উদ্ভিদের নিবিড় জগতে। এক রহস্যময় পৃথিবী তৈরি হয়েছে তখন বাগানে। দূর থেকে শোনা যাচ্ছে বাদুড়ের কিচিরমিচির শব্দ। ভেসে আসছে প্যাঁচার ডাক। কুকুরের ডাক। এই শব্দগুলো ক্রমশ তাদের ভীত করে তুলছে। হঠাৎ তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়ে পড়ল। তাদের হাত ও পায়ের দীর্ঘ আঙুল থেকে এক ধরনের ধোঁয়া বের হতে লাগল। চারপাশ থেকে ঢেকে গেল ধোঁয়ায়। হঠাৎ চারপাশে এক বিচিত্র সাড়া পড়ে গেল। সামরিক রাডার থেকে নির্দেশ পেয়ে ছুটে এসেছে অনুসন্ধানী দল। তারা বিচিত্র সব যন্ত্রপাতি দিয়ে খোঁজা শুরু করল অতীব পার্থিব বস্তুটিকে। কিন্তু মহাশূন্যযানটি তখনো তাদের নজরে পড়েনি। ছোট আকারে দূর গ্রহের প্রাণীরা ছিল উদ্ভিদবিদ। তারা পৃথিবীর মাটি থেকে সংগ্রহ করল তাদের প্রয়োজনীয় উপাদান। সেগুলো নিয়ে তাদের চলাফেরায় কোনো রকমের ভাবান্তর ছিল না। তারা নিশ্চিত জানত পৃথিবীর মানুষরা তাদের কাছে চলে আসার আগেই তারা দূর মহাশূন্যে পাড়ি জমাতে পারবে। তাদের পৃথিবীতে আসার মূল উদ্দেশ্য হলো এ পর্যন্ত পৃথিবীর মাটিতে যত উপাদান জন্ম নিয়েছে সেগুলো সংগ্রহ করা। তারা ফসিল এবং কিছু কাঠকয়লা সংগ্রহ করেছে। একজন গ্রহান্তরের উদ্ভিদবিদ তখনো রয়ে গেছে বাগানে। গভীর মনোযোগের সঙ্গে সে খুঁজে বেড়াচ্ছে নতুন জাতের লতা, পাতা, ঘাস। তার শরীর থেকে নির্গত হচ্ছে আবছা ধোঁয়া। তাকে রেখেই এক সময় মহাশূন্যে উড়ে গেল নভোযানটি। শুরু হলো ইটির রুদ্ধশ্বাস কাহিনী।২. জুন ভার্ন থেকেই সত্যিকার অর্থে সায়েন্স ফিকশন চর্চা শুরু হয়। তিনি ‘রাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটটি ডেজ’, ‘ক্যাপ্টেন হ্যাটেরাস’, ‘ফ্রম দ্য আর্থ টু দ্য মুন’ ‘ফাইভ উইকস ইন এ বেলুন’, ‘মিস্টিরিয়াস আইল্যান্ড’ ইত্যাদি সায়েন্স ফিকশন লিখে প্রচণ্ড জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এরপর সায়েন্স ফিকশন লেখার জগতে প্রচণ্ড প্রতাপ নিয়ে আবির্ভূত হন এইচ জি ওয়েলস (১৮৬৬-১৯৪৬)। তার লেখা ‘টাইম মেশিন’ সারা বিশ্বে হইচই ফেলে দেয়। এইচ জি ওয়েলসের লেখা অন্যান্য বিখ্যাত সায়েন্স ফিকশন হল ‘দ্য ওয়ার অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ (প্রকাশকাল ১৮৯৫), ‘দ্য ফাস্ট ম্যান ইন দ্য মুন’ (প্রকাশকাল ১৮৯৫) ইত্যাদি। এইচ জি ওয়েলসের পর থেকেই শুরু হয় সময় পরিভ্রমণ নিয়ে একের পর এক সায়েন্স ফিকশন লেখা। যুক্ত হয় সায়েন্স ফিকশনের জগতে নতুন যাত্রা। এ ক্ষেত্রে আধুনিক চলচ্চিত্রও পিছিয়ে পড়েনি। পরপরেই সায়েন্স ফিকশনে ঘটে রোবট নামের যান্ত্রিক চরিত্রের উপস্থাপন। এরপর সায়েন্স ফিকশন জগতে আসেন রে ব্র্যাডবেরি, আইভান ইয়েফ্রেমভ, স্থানিসোয়াভ, আইজাক আসিমভ, ফ্রেড্রিক ব্রাউন, পিটার কার্টার, আর্থার সি ক্লার্ক, রজার ডি, জ্যাক ফিনি, স্টুয়ার্ট ফ্রিডম্যান, এডওয়ার্ড গ্রেনডন, ড্যামন নাইট, ফ্রিটজ লেইবার, অ্যালান নেলসন, পেটার, ফিলিপস, ম্যাক রেইনোলডস, এরিক ফ্র্যাঙ্ক রুসেল, ওয়াল্ট শেলডন, র‌্যালফ উইলিয়ামস, ফিলিপ কে ডিক, গাই এনডোর, জোসেফ পেনি ব্রেননান, বিলব্রাউন, উইলিয়াম স্যামব্রোট, পল আর্নস্ট, এইচ, পি লাভক্র্যাফট, জেমস হিলটন, ফ্রে ড্রিক ব্রাউন প্রমুখ। এঁরা সবাই আধুুনিক যুগের আদর্শ সায়েন্স ফিকশন লেখক। কিন্তু এঁদের অনেক আগে থেকেই সায়েন্স ফিকশনের একটি বিরাট প্রস্তুতিপর্ব চলে।

১৬৩৪ সালে জ্যোতির্বিদ জোহানেস কেপলার চন্দ্রাভিযান নিয়ে ‘সোমনিয়াম’ নামের একটি সায়েন্স ফিকশন লেখেন। তারও আগে ১৬২৭ সালে আধুনিক বিজ্ঞানের স্রষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস বেকন লেখেন ‘দ্য লস্ট আটলান্টিস’ নামের সায়েন্স ফিকশনটি। ১৬৪৪ সালে প্রকাশিত হয় ফ্রান্সিস চেনেলের ‘অলিকাস’। ১৬৫৯ সালে প্রকাশ পায় জ্যাকুইস গুটিনের লেখা ‘দ্য স্টোরি অব ফিউচার সেঞ্চুরি’। ১৮১৮ সালে ইংরেজ কবি শেলির স্ত্রী মেরি শেলি ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ লিখে সায়েন্স ফিকশনকে বিশ্বসাহিত্যের ভিন্ন ধারার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। একই সময় এই ধারায় লেখালেখি শুরু করেন এডগার এলান পো। ঊনবিংশ শতকের শেষের দিকে এসে সায়েন্স ফিকশন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

পৃথিবীর প্রথম কল্পবিজ্ঞান লিখেছিলেন কবি শেলির স্ত্রী মেরি শেলি। বিখ্যাত এই উপন্যাসটির নাম ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন : অর, দ্য মর্ডান প্রমিথিউস’ প্রকাশিত হয়েছিল ১৮১৮ সালে। উপন্যাসটি লেখার কাজ যখন শেষ হয় তখন মেরি উনিশ-কুড়ি বছরের এক সদ্য তরুণী আর যখন বইটি প্রকাশিত হয় তখন তিনি একুশ।

১৮১৭ সালের এক রাতে জেনিভা শহরে বসে মেরি কলম নিয়ে বসেছিলেন। তার বিষয়বস্তু ইনগলস্টাডট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক তরুণ বিজ্ঞানী। তার নাম ভিক্টর ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন। বিজ্ঞানের সাহায্যে সে মৃত মানুষের মধ্যে প্রাণসঞ্চার করতে চায়, কিন্তু শেষ অবধি তৈরি হলো অতিমানবীয় এক দৈত্য। উপন্যাস প্রকাশিত হলো ১৮১৮ সালের ১১ মার্চ। উপন্যাসের নাম ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন অর মডার্ন প্রমিথিউস’। ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন উপন্যাস বের হওয়ার পর কেটে গেছে ১৭২ বছর। বিজ্ঞান ও শিল্প সবকিছুতে পৃথিবী এখন এগিয়ে গেছে বহুদূর। কিন্তু বিজ্ঞানমহলে আজ নবতম বিতর্কের বিষয় বিজ্ঞানীদের সামাজিক দায়িত্ব কতটা। জিন ক্লোনিং করে তারা কি সত্যিই নতুন কোনো জীবের জন্ম দিতে পারবেন?

কল্পবিজ্ঞানের সাফল্য সেখানেই। আজ যা গল্প আগামীকাল তাই জীবন্ত বিজ্ঞানের বিষয়। ভাবতে বিস্ময় জাগে, সাহিত্যের একটি বিশিষ্ট শাখার জননী এইরকম অল্প বয়েসী এক তরুণী। শুধু তাই নয়, তার লেখা ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ যে কালজয়ী হয়েছে, উপন্যাসটি প্রকাশের ১৮২ বছর পর নিশ্চয়ই তা নিয়ে কোনোরকম সংশয় নেই। বিজ্ঞাননির্ভর এ রকম একটি মানবিক উপন্যাস সত্যিই দুর্লভ।

কল্পবিজ্ঞানের এই প্রথম নজিরটির চূড়ান্ত সফল হওয়ায় পাশ্চাত্য কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের পথ নিশ্চয়ই সহজ হয়েছে। অথচ তখন ‘সায়েন্স ফিকশন’ শব্দ জুটির প্রচলন হয়নি। কল্পবিজ্ঞানের ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৫১ সালে প্রকাশিত একটি ‘সায়েন্স ফিকশন’ শব্দ জুটি প্রথম ব্যবহার করেন সমালোচক উইলিয়াম উইলসন। তার বইটির নাম ছিল ‘এ লিটল আর্নেস্ট বুক আপন এ গ্রেট ওল্ট সাবজেক্ট’। তবে সাহিত্যের শাখায় নামকরণ হিসেবে ‘সায়েন্স ফিকশন’ শব্দবন্ধের ব্যবহার ১৯২০-এর দশক থেকে। কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের জগতে মেরি শেলির পর জুল ভার্ন, এইচ জি ওয়েলস আসর জাঁকিয়ে বসেছেন। জুল ভার্নের লেখালেখির সময়েই সুইডেন থেকে প্রকাশিত হয়েছে প্রথম কল্পবিজ্ঞান পত্রিকা ‘স্টেলা’। আর ১৯২৬ থেকে আমেরিকায় ‘অ্যামেজিং স্টোরিজ’ কল্পবিজ্ঞান পত্রিকার যাত্রা শুরু। আমেরিকার প্রাচীনতম এই কল্পবিজ্ঞান পত্রিকাটি আজো নিয়মিত প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখার ক্ষেত্রে ভার্নের কোনো জুড়ি ছিল না তখন। অসম্ভব কল্পনাপ্রবণ ছিলেন তিনি। তার লেখা আরেকটি বইতে বর্ণিত হয়েছে চাঁদ থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসার কাহিনী। ভার্ন কল্পনা করেছিলেন চাঁদে যাওয়ার জন্য কামানের প্রয়োজন। গোলাকে ধাক্কা দিয়ে প্রচণ্ড জোরে ছুড়ে দেবে মহাশূন্যের দিকে। রকেটের ধারণা এসেছে এভাবে।

গ্রহান্তরের প্রাণীদের নিয়ে মানুষের কৌত‚হলের যেন শেষ নেই। এক সময় ধারণা করা হতো মঙ্গল গ্রহ থেকে আসছে এই সব রহস্যময় আগন্তুকরা। লোহিত বরণ গ্রহ মঙ্গল সম্পর্কে প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের আগ্রহ। চার হাজার বছর আগে এই গ্রহটিকে খালি চোখে দেখতে পেয়ে সুমেরিয়ানরা বিস্মিত হয়েছিল। মঙ্গলের গা রক্তাভ। গ্রিকরা তাই এর নাম দিল যুদ্ধের দেবতা মার্সেল নামে।

সায়েন্স ফিকশন অর্থাৎ কল্পবিজ্ঞানের গল্পে দেখা যায় কাহিনীগুলো বিজ্ঞাননির্ভর। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় কাহিনী বিজ্ঞাননির্ভর হলে তা ‘কল্প’ অর্থাৎ কল্পিত হয় কীভাবে। কল্পবিজ্ঞানের কাহিনীগুলোতে সাধারণত যে বিজ্ঞানের কথা বলা হয় তার সঙ্গে বিশুদ্ধ বিজ্ঞানের অনেকটা পার্থক্য আছে। দেখা গেল লেখক কাহিনীতে এমন এক ধরনের যানবাহনের কথা বলছেন যা এখনো আবিষ্কার হয়নি, কিন্তু আবিষ্কার হওয়ার একটা ক্ষীণ সম্ভাবনা হলেও আছে। এমন সব গ্রহ-উপগ্রহ-নক্ষত্রে পাড়ি জমানোর কথা সায়েন্স ফিকশন লেখক বলছেন যা বর্তমানের বিজ্ঞানের প্রযুক্তিতে কাজে লাগিয়ে কোনো দিনই সম্ভব নয়। কিন্তু এ কথা তো সত্য যে, বিজ্ঞানের নতুন নতুন সূত্র আবিষ্কার হচ্ছে। ঘটছে নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন। ফলে আজ যা কল্পবিজ্ঞান কাল তা বিজ্ঞানে পরিণত হচ্ছে। যেভাবে জুল ভার্নের চাঁদে পাড়ি জমানোর স্বপ্ন সফল হয়েছে। ফরাসি রেনেসাঁর কিংবদন্তির শিল্পী লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি হেলিকপ্টারের নকশা এঁকেছিলেন। তিনি হয়তো ঠিকই চেয়েছিলেন মানুষ একদিন পাখির মতো উড়তে পারবে। ১৪৮৬ থেকে ১৫১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে তিনি অনেকগুলো উড়–ক্কু যন্ত্রের নকশা এঁকেছিলেন। তার আঁকা ‘টেন্ট রোফ’ আজ সত্যি সত্যি প্যারাশুট নামে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। অনুরূপভাবে জুল ভার্নের কল্পবিজ্ঞানের সাবমেরিন এখন সাগরতল তোলপাড় করে ছাড়ছে। আইজ্যাক আসিমত তার সায়েন্স ফিকশনে নির্দেশ করেছেন রোবটদের। বৈশিষ্ট্য কী হওয়া উচিত। এখনকার বিজ্ঞানীরা সেভাবেই রোবট বানানোর নিরন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছেন। ১৯২৮ সালে ‘চাঁদের পিঠে মেয়ে’ ছবিতে পরিচালক ফ্রিভজ লাং রকেট ওড়ানো দেখান। এই রকেটের সঙ্গে আধুনিক রকেটের মিল রয়েছে অনেক।

১৯৬৩-৬৪ থেকে পশ্চিমে শুরু হয়ে যায় কল্পবিজ্ঞানের আধুনিক যুগ। বিদেশি কল্পবিজ্ঞান সাবালক হয়ে ওঠার মূলে যে মানুষটির অবদান অনস্বীকার্য তিনি হলেন ‘অ্যাস্টউল্ডিং সায়েন্স ফিকশন’ পত্রিকার সম্পাদক জন ডব্লিউ ক্যাম্পবেল। ১৯৩৭ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি পত্রিকাটির দায়িত্ব নেন এবং ১৯৭১ সালে যখন তার মৃত্যু হয় তখনো তিনি সম্পাদক পদে আসীন। ক্যাম্পবেল চালকের আসনে থাকায় আমেরিকার কল্পবিজ্ঞান সাহিত্য শুধু যে সাবালক ও আধুনিক হয়েছে তা নয়, পৃথিবীর কল্পবিজ্ঞান সাহিত্য মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

২৫ বছর পূর্তি : বিশেষ আয়োজন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj