নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন মামলা : নূর হোসেনসহ ১৫ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ

বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

কাগজ প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে ১৫ আসামির আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার আসামিদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতের রায়ে করা নূর হোসেন ও আরিফের জরিমানার আদেশ স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী এস আর এম লুৎফর রহমান আকন্দ।

লুৎফর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আদালত বলেছেন, আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর এক সঙ্গে শুনানি হবে। আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ২ জনের জরিমানার আদেশ আদালত স্থগিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই ১৫ আসামি হলেন- সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হাসেন, র‌্যাব-১১-এর সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ, র‌্যাবের ক্যাম্প কমান্ডার সাবেক মেজর আরিফ হোসেন, র‌্যাবের ক্যাম্প কমান্ডার সাবেক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ রানা, হাবিলদার এমদাদুল হক, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহী আবু তৈয়ব, কনস্টেবল শিহাব উদ্দিন, এস আই পূর্ণেন্দু বালা, সৈনিক আসাদুজ্জামান নূর, নূর হোসেনের সহযোগী মোর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দিপু, আবুল বাশার ও রহম আলী।

গতকাল তাদের আপিল হাইকোর্টের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। আসামিদের আইনজীবীরা সেগুলো শুনানির জন্য গ্রহণের আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন। আসামিদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন এডভোকেট এস এম শাহজাহান ও এস আর এম লুৎফর রহমান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ ডুবিয়ে দেয়া হয় শীতলক্ষ্যা নদীতে। নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন গত ১৬ জানুয়ারি এ মামলার রায়ে নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন, যাদের মধ্যে ১৬ জনই র‌্যাব সদস্য। এ ছাড়া আরো ৯ জন র‌্যাব সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন আদালত। আসামিদের মধ্যে ২৩ জন রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন, বাকি ১২ জন ছিলেন পলাতক। পরে ৫ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সার্জেন্ট এনামুল কবীরকে পুলিশ মাগুরা থেকে গ্রেপ্তার করে। গত ২২ জানুয়ারি এ মামলার ডেথ রেফারেন্সের কপি হাইকোর্টে পৌঁছালে শুনানির জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj