পুলিশের অভিযানে ৫৩৭১টি উদ্ধার : চট্টগ্রামে কালোবাজারে বিনামূল্যের পাঠ্যবই

বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

চট্টগ্রাম অফিস : প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকের বই সরকার বিনামূল্যে বিতরণে করলেও এবার চট্টগ্রামে বইয়ের সংকট থেকে গেছে। অনেক স্কুলে কিছু কিছু শিক্ষার্থীর হাতে সব বিষয়ের বই পৌঁছাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে এসব বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক নগরীর আন্দরকিল্লাসহ চট্টগ্রাম জেলার কিছু কিছু বইয়ের দোকানগুলোতে বিক্রিও হচ্ছে। চট্টগ্রামে নগর গোয়েন্দা পুলিশ গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর রহমতগঞ্জের একটি বাসা থেকে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির বিভিন্ন বিষয়ের ৫৩৭১টি বই আটক করে। প্রশ্ন হলো বিনামূল্যে বিতরণের বই কালোবাজারিতে কেন আর এসব বই শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অগোচরেই কি চলে গেছে? আর যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কে ?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃতাধীন সরকারের আমলে প্রতিবছর ১ জানুয়ারি সারাদেশে এই বিনামূল্যে বই বিতরণ নিয়ে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে একধরনের উৎসবই চলে। কিন্তু এবার বই স্বল্পতার কারণে তার কিছুটা ব্যত্যয় ঘটে। চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানের কিছু কিছু স্কুলের শিক্ষার্থীরা সব বিষয়ের বই না পাওয়াতে তাদের অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে বিনামূল্যের বই মূল্য দিয়েই কিনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। নগরী ও জেলার কয়েকটি স্কুলের শিক্ষকরাও বই সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠানকে বই ছাপানো ও ঠিকমতো সরবরাহ করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তারা সে দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেনি। ফলে এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। আবার এদিকে কিছু অসাধু চক্র শিশুদের বিনামূল্যে বিতরণের বই চোরাইপথে অসাধু কিছু ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এমনিতেই সরবরাহ সংকট তার ওপর চোরাইপথে এসব বই বিক্রি করে দেয়াতে বাধ্য হয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা কিছু কিছু বিষয়ের বই প্রতিটি ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা দিয়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

বইয়ের সংকট ও কালোবাজারে কেন পাঠ্যপুস্তক এসব প্রশ্নের উত্তরে চট্টগ্রাম জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা গতকাল সন্ধ্যায় ভোরের কাগজের এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বই ছাপানো ও পাঠানোর দায়িত্ব ন্যাশনাল টেক্সটবুক বোর্ডের, আমাদের কাছে বই যা পাঠানো হয় আমরা তা স্কুলগুলোতে বিতরণ করি মাত্র। তবে খুব বেশি সংকট এখন আছে বলে মনে হয় না।’ কিন্তু বিনামূল্যে বিতরণের বই কালোবাজারে কেন বিক্রি হচ্ছে এবং বাধ্য হয়ে অভিভাবকরা তা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। স্কুল থেকে বই না পাওয়াতে এমন তথ্যের উত্তরে এই শিক্ষা কর্মকর্তা বললেন, অভিভাবকরা কেন বিনামূল্যের বই টাকা দিয়ে কিনতে যাচ্ছেন? তবে তিনি নিজেই বললেন, কিছু অভিযোগ পাওয়ার পর তারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ বিভাগকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন। বিনামূল্যের বই কিভাবে বাইরে গেল সে ব্যাপারে কোনো তদন্ত করা হয়েছে কিনা বা কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করে সে সব চক্রকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করে দেখছে।

এদিকে বিভিন্ন এলাকার অভিভাবক, স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের ২০ শিক্ষা থানার মধ্যে বেশ কয়েকটি থানায় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ৩টি বই (বাংলা, ইংরেজি ও গণিত) ইতোমধ্যে হাতে পেলেও তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৬টি বইয়ের (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সমাজ, বিজ্ঞান ও ধর্ম) মধ্যে বাংলা, বিজ্ঞান ও ধর্ম বিষয়ের বই এখনো অনেক শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছেনি। এদিকে নগরীর আন্দরকিল্লার কয়েকটি বইয়ের দোকানে প্রথম থেকে দশম শ্রেণির বিনামূল্যের পাঠ্যবইগুলো গোপনে বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্রতিটি বই ৫০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গত মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম নগরীর রহমতগঞ্জের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রথম থেকে দশম শ্রেণির বিভিন্ন বিষয়ের ৫৩৭১টি বই আটক করতে সক্ষম হয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন , রহমতগঞ্জে কে বি আবদুুস সাত্তার রোডস্থ আবু সাঈদ বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে এসব বই উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য এসব বই ব্যবসা ও মজুদের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মো. নিয়ামত উল্লাহ খানকে পাওয়া যায়নি। তিনি হাটহাজারি থানাধীন গোমান মর্দন সরকার হাট এলাকার জনৈক নজির আহম্মদ খানের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ কর্মকর্তরা। পলাতক আসামির বিরুদ্ধে কোতেয়ালি থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের কালোবাজারি অভিযোগে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। এই অভিযানে অংশ নেয়া সিএমপির গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক ফজলুল কাদের চৌধুরী ভোরের কাগজকে জানান, মো. নিয়ামত উল্লাহ খানের বইয়ের দোকান রয়েছে আন্দরকিল্লা এলাকায় এ বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। তবে সেটির সঠিক কোনো ঠিকানা বের করা সম্ভব হয়নি।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj