মামলা নেয়নি পুলিশ : বাকলিয়ায় প্রবাসীর জায়গা দখল করেছে সন্ত্রাসীরা

বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

চট্টগ্রাম অফিস : নগরীতে সৌদি প্রবাসী এক নাগরিকের নির্মাণা-ধীন ভবনের চারপাশে বেষ্টনী দিয়ে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দখল করে নিয়েছে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে পশ্চিম বাকলিয়া রসুলবাগ আবাসিক এলাকার ‘এ’ ব্লুকে এ ঘটনা ঘটে। ২৫ থেকে ৩০ জন সন্ত্রাসী অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে জায়গাটি দখল করে নেয়। ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মী পরিচয় দিয়ে সন্ত্রাসীরা জায়গাটি দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পশ্চিম বাকলিয়া রসুলবাগ আবাসিক এলাকার ‘এ’ ব্লুকের ২৫৩ নম্বর হোল্ডিংয়ের একটি বাড়ি কেনেন সৌদি প্রবাসী আতাউর রহমান কাইছার। পরে তিনি ওই বাড়ির সামনের আরো কিছু জায়গা নিজাম উদ্দিনের কাছ থেকে কেনেন। কিন্তু এলাকার নামে কিছু ব্যক্তি জায়গাটি দখল করে নিতে নানা ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। জায়গা দখলের এ পাঁয়তারা বন্ধে ২০১৫ সালে আতাউর রহমান প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় অভিযুক্ত ৩ আসামির বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের জুন মাসে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

আতাউর রহমান কাইছারের শ্যালক মো. আবু তালেব ভোরের কাগজকে জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে নকশা অনুমোদন নিয়ে, গ্যাস-বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ নিয়ে এ ভবন নির্মাণ কাজ চলছিল। ইতোমধ্যে নিচতলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্বিতীয় তলার কাজও চলছে। কিন্তু মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে ২৫ থেকে ৩০ জন সন্ত্রাসী অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ওই জায়গাটি দখল করে জোরপূর্বক টিন দিয়ে বেষ্টনী দিয়ে ওই জায়গাটি তাদের দাবি করে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়। এ সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রাণ নাশের হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। পরে বাকলিয়া থানায় মামলা করতে গেলে অজ্ঞাত কারণে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তিনি বলেন, দখলদাররা পুলিশকে ম্যানেজ করায় কোনো ধরনের সহযোগিতা করছে না পুলিশ। বাকলিয়া থানার এসআই মুহিত বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ বা মামলা এখানে হবে না। আপনি আদালতে গিয়ে মামলা করেন।

এদিকে অভিযুক্ত দখলদার মাঈনুদ্দিন ভোরের কাগজকে বলেন, ‘নিজের জায়গায় নিজে ঘেরা দিয়ে সাইনবোর্ড টাঙিয়েছি। আমি কোনো সন্ত্রাসী নিয়ে যাইনি। আরএস ও বিএস খতিয়ান অনুযায়ী ওই জায়গাটি আমার।’ এতদিন কেন ঘেরা দেননি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নানা কাজে ব্যস্ত ছিলাম তাই এতদিন ঘেরা দিতে পারিনি।’ বাকলিয়া থানার ওসি আবুল মনসুর ভোরের কাগজকে বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ নিয়ে কেউ আমার কাছে আসেননি। পুলিশের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসবে আর পুলিশ অভিযোগ আমলে নেবে না তা হতে পারে না। এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj