ভেদরগঞ্জে সাব-রেজিস্ট্রারের মাসিক সেলামি কোটি টাকা!

বুধবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৭

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কমির খানের মাসিক সেলামি কোটি টাকা। দলিল মূল্যের টাকা থেকে ২ থেকে আড়াই পাসের্ন্ট সেলামি তাকে দিতে হয়। সেলামির টাকা দিতে গিয়ে বাধ্য হয়ে গ্রাহকদের নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত আদায় করেছে দলিল লেখকরা। অবৈধ টাকা হাতিয়ে কোটিপতি বনে গেছেন এ সাবরেজিষ্ট্রার।

ভেদরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিস সূত্র জানায়, গত ডিসেম্বর মাসে ভেদরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে মোট ৪৮০টি দলিল সম্পদিত হয়েছে। যার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। রাজস্ব বাবদ আদায় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩৫ হাজার টাকা। দীর্ঘদিন ধরে এ অফিসে দলিল সম্পাদন করতে দলিল মূল্যের ২ থেকে আড়াই পার্সেন্ট টাকা সাব-রেজিস্ট্রারের সেলামি হিসেবে আদায় করা হয়। সে হিসেবে ডিসেম্বর মাসে সাব-রেজিস্ট্রার সেলামি আদায় করেন প্রায় ১কোটি টাকা। সেলামির টাকা প্রভাবশালী দলিল লেখকদের ম্যানেজ করে অনেকটা ফ্রি-স্টাইলেই আদায় করা হচ্ছে। সাব-রেজিস্ট্রারের সেলামি দিতে বাধ্য হয়ে দলিল গ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন লেখকরা। প্রতিবাদ করলে নানা অজুহাতে দলিল সম্পাদন না করার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দলিল গ্রহীতা।

অভিযোগের বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবরেজিস্ট্রর আব্দুল করিম খান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমার জানা মতে এ অফিসে কোনো অনিয়ম নেই। অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়টিও তার জানা নেই বলে জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলিল লেখকদের অনেকে বলেন, ছোট দলিল হলে আড়াই পার্সেন্ট আর বড় দলিলে ২ পার্সেন্ট টাকা অফিসে সেলামি বাবদ দিতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এটা এখন নিয়ম হয়েছে। সবাই দেয়, তাই দু-এক জনের না দেয়ার সুযোগ নেই। প্রতিবাদ করলে দলিল সম্পাদনা বন্ধসহ নানা নির্যাতনের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেন না।

দলিল দাখিলের সঙ্গে সঙ্গে করণীক মোক্তার হোসেন আবার কখনো কখনো মিল্টন একটি খাতায় নোট রাখেন। কোন লিখক কত টাকার কয়টি দলিল দাখিল করেছেন। সন্ধ্যার মধ্যে লেখকরা সেলামির টাকা পৌঁছে দেয়।

এছাড়া হেবা ঘোষণার একটি দলিলে সরকারি খরচ সর্বসাকুল্যে ৮ থেকে ৯ শত টাকা। সেক্ষেত্রে নেয়া হয় ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর সাব-কবলা দলিল করতে ব্যাংকে টাকা জমা দানের বিধান থাকলেও হাতে হাতে টাকা নেয়া হয়।

অভিযোগ সর্ম্পকে করণীক মোক্তার হোসেন বলেন, অফিসে কোন পার্সেন্টিজ নেয়া হয় বলে আমার জানা নেই। কেউ বলে থাকলে তা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj