২ বছরের মধ্যে বিনিয়োগ ৩২ শতাংশে উন্নীত হবে : অর্থমন্ত্রী

বুধবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৭

কাগজ প্রতিবেদক : বিগত দিনে উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ তেমন বাড়েনি। এর মূল কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা। বর্তমানে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা রয়েছে। তাই আমরা আশা করি, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৩২ শতাংশে উন্নীত হবে। একই সঙ্গে যেভাবে উন্নয়ন অগ্রগতি হচ্ছে তা অব্যাহত থাকলে আগামী দুই বছরে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে ‘বর্তমান সরকারের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান, সীতাংশু কুমার সুর চৌধুরী ও এস এম মনিরুজ্জামান, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সভাপতি এডভোকেট মশিউর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ব্যাংক শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান। সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ড. এ কে আবদুল মোমেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষে দেশের মোট বিনিয়োগ ছিল ২৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ২৩ শতাংশ এবং সরকারি বিনিয়োগ ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সাধারণত এক শতাংশ প্রবৃদ্ধির জন্য ৪ শতাংশ হারে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রয়োজন হয়। তাই ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে সাধারণ নিয়মে মোট জিডিপির ৩২ শতাংশ বিনিয়োগ প্রয়োজন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত দিনে উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ তেমন বাড়েনি। এর মূল কারণ রাজনৈতিক অস্থিরতা। শান্তিশৃঙ্খলা একটি দেশের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। বর্তমানে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা রয়েছে। ফলে আমরা আশা করি, আগামী ২০৪১ মধ্যে বাংলাদেশ তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হব।

দারিদ্র্য দূরীকরণে পৃথিবীতে বাংলাদেশ অন্যতম উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন বৈষম্য দূর করতে আমরা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপর জোর দিচ্ছি। তাই এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি ভালো। তবে টেকসই উন্নয়ন করতে হলে আমাদের বেশ এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে রয়েছি, যা উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নতি করতে হলে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে হবে। এর মধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র বের করা, প্রশাসন ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো, মানবসম্পদের মানোন্নয়নে গুরুত্ব প্রদান করতে হবে।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj