স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কথা

শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৬

** অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী **

১৯৭১ সালের জুন মাস মুক্তিযুদ্ধ চলছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মর্চের ভাষণ শুনে উদ্বুদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম, যুদ্ধে যাব, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গান করব। কোনো এক ভোররাত। ঘুম থেকে উঠলাম। খাটে মশারি টাঙানো। পরনের কাপড়েই বেরিয়ে গেলাম, ঘরের কাউকে কিছু না বলে। ঘরে মা, বাবা, ভাই-বোন, আমি পরিবারের সবার ছোট ছেলে, খুব আদরের, বলতে গেলে হয়তো পরিবেশ আরো দুঃখ ভরাক্রান্ত হবে, আবেগ ধরে রাখতে পারব না। মাকে ছেড়ে যেতে পারব না, কান্নাকাটি শুরু হয়ে যাবে। তাই চুপি চুপি দরজাটা খুলে ঘর থেকে পালালাম। কোনো দলের সঙ্গে বা কারো সঙ্গে নয়, একা বেরিয়ে গেলাম যুদ্ধ করতে, গন্তব্যস্থল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। নীলক্ষেত থেকে ইপিআরটিসি বাসে উঠলাম। কাঁচপুর, দাউদকান্দি হয়ে কুমিল্লা পৌঁছালাম। দাউদকান্দিতে গিয়ে দেখলাম পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ব্রাশ ফায়ার করছে, সবাইকে চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। কাউকে আবার ছেড়ে দিচ্ছে, আমাকে কোনো প্রশ্ন না করে এক ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিল, দৈবক্রমে বেঁচে গেলাম। ঈশ্বর বুঝি আমার সহায়। এরপর কুমিল্লার আড়িখোলা গ্রামের এক পরিবারের সহযোগিতায় পার হলাম বর্ডার। পৌঁছলাম আগরতলা, সেখানে কলেজটিলায় গণসঙ্গীতের একটি দল ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে। সেখানে এক মাস থাকলাম। কাজ ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য দেশত্মবোধক, উদ্দীপনামূলক গান শোনানো। এরপর পল্লীগীতি শিল্পী মরহুম সরদার আলাউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে আগরতলা থেকে কলকাতায় ৫৭/এ, বালীগঞ্জ সার্কুলার রোডে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে পৌঁছলাম। সেখানে গিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গান শুরু করলাম।

ডাক্তার হওয়ার গল্প : ১৯৫২ সালে সিলেটের এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করি আমি। আমার মা বিশিষ্ট সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মঞ্জুশ্রী চৌধুরী। বাবা সিলেটের কৃতী সন্তান শৈলেন্দ্র কুমার চৌধুরী। আমরা তিন ভাইবোন। বড়ভাই অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী, বোন অধ্যাপক ড. মধুশ্রী ভদ্র। বাবা-মায়ের শখ ছিল আমাকে চিকিৎসক বানাবেন। তখন তো এখনকার মতো সময় ছিল না। আমরা বাবা-মায়ের কথা শুনতাম। বাবা-মায়ের কথামতো চলতাম। বাবা-মায়ের ইচ্ছা সন্তানদের ওপর প্রতিফলিত হতো। তবে বাবা-মায়ের কথা শোনায় ভালোই হয়েছে। আজ চিকিৎসক হতে পেরেছি। মানুষকে সেবা দিতে পারছি। ১৯৭০ সালে ঢাকা ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হই। তখন মানুষ দাঁত নিয়ে চিকিৎসার বিষয়টি ভালোভাবে বুঝত না। তবে আমি তখনই দাঁত নিয়ে পড়তে আগ্রহী হই। ১৯৭৬ সালে ঢাকা ডেন্টাল কলেজ থেকে বিডিএস করি। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দন্ত চিকিৎসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফেলোশিপ নিই। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক এট স্ট্রনিব্রোক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দন্ত চিকিৎসায় ফেলোশিপ লাভ করি। ২০০০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি পিএইচডি অর্জন করি। ২০১২ সালে ইংল্যান্ডের রয়েল কলেজ অব সার্জনস থেকে ফেলোশিপ ইন ডেন্টাল সার্জারি ডিগ্রি লাভ করি। দীর্ঘ ৩৮ বছর এ দেশের দন্ত চিকিৎসার ক্ষেত্রে বহু প্রকাশনা ও গবেষণা করেছি। এ দেশের জনগণের কাছে দন্ত চিকিৎসার বিভিন্ন তথ্য ও রোগ প্রতিরোধের ওপর বেতার-টেলিভিশনে অনুষ্ঠান নির্মাণ ও উপস্থাপনার মাধ্যমে কাজ করেছি। ১৯৮৯ সালে মাদক ও ধূমপান বিরোধী সংগঠন মানস প্রতিষ্ঠা করি এবং এ সংগঠনের মধ্যমে দেশের যুব সম্প্রদায়কে ধূমপান ও মাদকদ্রব্যের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছি। ধূমপান ও মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি-বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মেডেল লাভ করি এবং ২০০১ সালে আমেরিকা বায়োগ্রাফিক্যাল ইনস্টিটিউটের সদস্য পদ লাভ করেছি। ২০১৫ সালে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পেয়েছি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক। এরই মধ্যে ৩৮টি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছি, বৈজ্ঞানিক নিবন্ধন উপস্থাপন করেছি পৃথীবির বিভিন্ন দেশে। এর সবই অর্জিত হয়েছে দেশের প্রতি মমত্ববোধের কারণে, এই দেশকে আমি বড়ই ভালোবাসি। তাই শত প্রলোভন ও অর্থের হাতছানি থাকা সত্ত্বেও অন্যদের মতো বিদেশে পাড়ি জমাইনি।

আমি অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে লেখাপড়া করি। মা তখন ঢাকা বদলি হয়ে যান। তখন ময়মনসিংহ হোস্টেলে থেকে মেট্রিক পরীক্ষা দিই। সেই সময় থেকে নিজের ওপর নির্ভর করতে শিখেছি। মেট্রিক পরীক্ষা ছাত্রজীবনের একটি বড় পরীক্ষা। সেটা দিয়েছি বাবা-মা ছাড়াই। এটা আমাকে নিজের দায়িত্ব নিজে নিতে শিখিয়েছে। তখন বুঝে গিয়েছিলাম আমার নিজেকেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। এরপর মা ঢাকায় বদলি। আমি অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে লেখাপড়া করি। মা তখন ঢাকা বদলি হয়ে চলে আসেন টিচার্স ট্রেনিং কলেজে। তখন জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হই। সেখান থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করি। জগন্নাথ কলেজে এসে আরেকবার অভিজ্ঞতা হলো। পুরান ঢাকা, এর সংস্কৃতি, রাজনৈতিক অবস্থা, সবই নতুন। এসবের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার চেষ্টা শুরু হয়। মাঝখানে একবার মা সিলেট থেকে ঢাকায় বদলি হন। তখন নবকুমার স্কুলে ভর্তি হই। উর্দু রোডে থাকি। আবার ময়মনসিংহে ভর্তি হয়ে যাই। এরপর জগন্নাথ কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করি। তখন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাই। সিলেটের বাসায় আমাদের গানের শিক্ষক আসতেন। সুরসাগর প্রণেশ দাস আমাদের শিক্ষক ছিলেন। আমার মা নিজেও গান-বাজনা করতেন। প্রতিদিন আমাদের বাসায় রবীন্দ্রনাথের গানের চর্চা হতো। ঢাকায় আসার পর জগন্নাথ কলেজে সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত হয়ে যাই। ঢাকা মেডিকেল কলেজের চার তলায় ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ছিল। ডাকসুর সাংস্কৃতিক কাজগুলো করতাম। কাদের কিবরিয়া, রথীন রায়, ফকির আলমগীর আমরা সবাই মিলে গান করতাম। ডাকসুর সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে সে সময় আমি জড়িত ছিলাম। তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং ডেন্টাল কলেজ একই ছাত্র সংগঠনের আওতাধীন ছিল। সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতাম; অভিনয়ও করতাম। ১৯৭১ থেকে শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ। ঢাকায় বিক্ষুব্ধ শিল্পীগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হই। তখন আমরা রাস্তায় রাস্তায় গান করি। সব সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে তখন আমি জড়িত ছিলাম। জুন মাসে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গেলাম। আগরতলা থেকে সরদার আলাউদ্দিনের (বিশিষ্ট লোকসঙ্গীত শিল্পী) সঙ্গে ট্রেনে চড়লাম কলকাতার উদ্দেশে। ট্রেনে ছিলাম চার দিন চার রাত। ট্রেনে টিকিট লাগত না সেই সময়। বলা হতো, জয় বাংলা এসেছে। এরপর কলকাতায় পৌঁছালাম। সেখান থেকে মরহুম আবদুল মান্নান (পরবর্তীকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী) পাঠালেন ৫৭/এ বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে। সেটিই ছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অফিস। সেখানে অজিত রায়, মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার, আপেল মাহমুদ, মোকসেদ আলী সাঁই, সমর দাস, সুজয় শ্যাম, এম আর আক্তার মুকুল, শহীদুল ইসলাম, হরলাল রায়, আশফাকুর রহমান, মান্না হক, রথীন, কিবরিয়া, কল্যাণী ঘোষ, আশরাফুল আলম, রেজা, বাবুল আক্তার, আরো অনেকের সঙ্গে দেখা হলো। আমি জুন মাস থেকে সেখানে থাকা শুরু করি। এই সময় পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, নোঙর তোলো তোলো, আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি ইত্যাদি গান গাওয়া হতো দল বেঁধে। যতগুলো রেকর্ড করা গান রয়েছে সবগুলোতেই আমার কণ্ঠ রয়েছে। কলকাতায় প্রখ্যাত শিল্পীদের সঙ্গে আমরা গান গাইতাম। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা হলো, একদিন প্রখ্যাত লোকসঙ্গীত শিল্পী হরলাল রায় আমাকে দিয়ে একটি দ্বৈত সঙ্গীত গাওয়ালেন নাসির আহম্মদ শীলু আপার সঙ্গে (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি, তখন তিনি ইংরেজি সংবাদ পাঠ করতেন) গানটির কথা ছিল ‘জ্বলছে জ্বলছে প্রাণ আমার দেশ আমার’ গানটি লিখেছিলেন গীতিকার শহিদুল ইসলাম। এই গানটি ছিল আমার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গাওয়া প্রথম দ্বৈত সঙ্গীত। গানটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারের দিন প্রথমবারের মতো আমার নাম ঘোষণা করা হয়। এবং সেই দিনই আমার বাবা-মা বাংলাদেশ থেকে জানতে পারেন আমি জীবিত আছি, এটা আমার জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

এরপর যুদ্ধ শেষ হলো। দেশে ফিরে আমি প্রথম বর্ষে ভর্তি হলাম। ডাক্তার হওয়ার পর চিকিৎসাসেবা দেয়া শুরু করি। গত ৩৫ বছর ধরে আমি ধূমপানের বিরুদ্ধে কাজ করে আসছি। রোগীর কাছ থেকে কেবল মাত্র টাকা পেলাম, সেটিই চিকিৎসা নয়। মানুষকে ভালো রাখাও দায়িত্ব। বারডেম হাসপাতালে আমি প্রায় ২৮ বছর ধরে কাজ করছি। পিজি হাসপাতালে কাজ করতাম ১৯৮৬ সালে। ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম একবার পিজিতে দাঁতের চিকিৎসা করাতে যান। কোনো কারণে হয়তো আমাকে তার ভালো লেগে গিয়েছিল। উনি আমার দাঁতের চিকিৎসা পেয়ে মুগ্ধ হলেন। এরপর উনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ফোন করলেন। তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ আব্দুল মতিন। ইব্রাহিম সাহেব তাকে বলেন, এই ছেলেকে বারডেমে দাও। ২৮ ঘণ্টায় সরকারিভাবে অর্ডার হলো আমাকে বারডেমে পাঠানোর। আমাকে সপ্তাহে দুদিন বারডেমে কাজ করতে বলা হলো। তখন সেখানে ডেন্টাল চেম্বার ছিল না। পরের বছর রোগী বাড়তে শুরু করল। আবার মন্ত্রণালয়ের চিঠি এল এখানে পূর্ণকাল কাজ করার জন্য। ইব্রাহিম সাহেব অত্যন্ত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন লোক ছিলেন। ডায়বেটিস রোগীদের যে দাঁতের সমস্যা হতে পারে এবং এটি যে একটি বড় বিষয়, তিনি বহু আগেই সেটি বুঝতে পেরেছিলেন। অমার গান বুলবুল ললিতকলা একাডেমিকে আতিকুল রহমানের কাছে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিখেছি। আমি বাংলাদেশের বেতার ও টেলিভিশনের এনলিস্টেড শিল্পী, বেতার ও টেলিভিশনে একজন স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপক। এরই মধ্যে চারটি অডিও সিডি ও একটি ভিসিডি বের হয়েছে আমার। এ ছাড়া বর্তমানে মাদকের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ‘স্বর্গ থেকে নরক’ নামে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছি। সেটি সারা দেশে মুক্তিও পেয়েছে।

নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো। ১৮ বছর বয়সে আমি যুদ্ধে গিয়েছিলাম। একা যুদ্ধে গিয়েছিলাম, দলের সঙ্গে যাইনি। প্রতিটি ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জিং আচরণ রাখি। জয় করার ইচ্ছা আমার আদম্য। জীবনের বিভিন্ন জায়গায় সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। আমাকে নিন্দা করা হয়েছে। আমার সমালোচনা, আমার বাধা, আমাকে প্রেরণা জোগায়। আমি থেমে যাই না, কাজ করে যাই। আমি খুব জেদি স্বভাবের। একটি কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পেছনে লেগেই থাকি। আমার জীবনের আদর্শ মা ড. মঞ্জুশ্রী চৌধুরী। তিনি একজন প্রকৃত মা, শিক্ষায় বিএ,বিটি, এমএ, এমএড, পিএইচডি। আমার মা সংসার করেছেন, চাকরি করেছেন, আবার নিজে লেখাপড়াও করেছেন এবং আমাদের পড়িয়েছেন। আমার স্ত্রী গৌরী চৌধুরী। দুই ছেলে অনির্বাণ চৌধুরী ও সপ্তক চৌধুরী। ‘জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’ এই মহান বাণীকে আমি নিজে ধারণ করি, আমার দর্শন মানবসেবা, এটাই আমার ধর্ম।। রোগীদের প্রতি যদি কেউ সেবার হাত বাড়িয়ে দেয়, রোগীকে যতœ করে চিকিৎসা করে তবে তাকে সবাই সম্মান দেয়। চিকিৎসকরা যদি চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য সামাজিক কাজগুলো করত, তাহলে দেশ ও সমাজের জন্য অনেক ভালো হতো। এ দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র করতে চাই। আমরা কেবল চিকিৎসাই করি। এখনো অনেক রোগ প্রতিরোধ করতে পারিনি।

বর্তমান বাংলাদেশ সরকার আমাদের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সব শব্দসৈনিককে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মান ও স্বীকৃতি দিয়েছেন এর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া অনেক গৌরবের এবং বীরত্বের সম্মান।

বিজয় দিবস : বিশেষ আয়োজন ২০১৬'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj