আওয়ামী লীগের জন্য শুভ কামনা : বিভুরঞ্জন সরকার

শনিবার, ২২ অক্টোবর ২০১৬

দেশের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন ২২ ও ২৩ অক্টোবর ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে শুধু রাজধানীতে নয়, সারা দেশেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ ও উদ্দীপনা। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজগার্ডেনে এক রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানটির জন্ম ৬৮ বছর বয়সী সেই রাজনৈতিক দলটির ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বর্ণাঢ্য আয়োজনে, উৎসবমুখর পরিবেশে। ১৩ হাজার কাউন্সিলর ও প্রতিনিধি ছাড়াও অতিথি, নেতাকর্মীসহ অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জৌলুশময় এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের সম্মেলনে এত বড় আয়োজন অতীতে আর কখনো হয়নি। এই সম্মেলনের জন্য ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। তবে আয়োজনের ব্যাপকতা ও সাজ-সজ্জার বহর দেখে অনুমান করা হচ্ছে, প্রকৃত ব্যয় হবে এর পেয়ে আরো বেশি। এত বিপুল অর্থ ব্যয় করে আওয়ামী লীগের মতো সাধারণ মানুষের সমর্থনপুষ্ট ও ‘দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর’ ব্রত নিয়ে রাজনীতি করা একটি দলের সম্মেলন আয়োজনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে না, তা নয়। আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের এই চোখ ধাঁধানো সম্মেলনকে দুর্নীতি ও কালো টাকার প্রদর্শনী না বলে মন্তব্য করা হয়েছে। তবে যে যাই বলুক না কেন, সব অর্থেই একটি বড় সম্মেলন আয়োজনের সক্ষমতা, সামর্থ্য দেশে একমাত্র আওয়ামী লীগেরই আছে। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস এবং আওয়ামী লীগের ইতিহাস মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে। বাঙালি জাতির সবচেয়ে মহৎ যে অর্জন স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়, তার জন্য ধারাবাহিক যে লড়াই-সংগ্রাম এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে একাত্তরের যে ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধ, তারও নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান হলো আওয়াম লীগ। কাজেই যখন বলা হয়, আওয়ামী লীগের ইতিহাসই হলো বাংলাদেশের ইতিহাস, তখন এতটুকু বাড়িয়ে বলা হয় না। কাজেই বর্তমানে শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ তার সামর্থ্যরে সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করে সবাইকে দেখিয়ে দেয়ার মতো একটি সম্মেলনের আয়োজন করবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে ব্যর্থ হয়, তারা ঈর্ষাকাতর হলেও আওয়ামী লীগ কেন তার সক্ষমতা দেখানো থেকে বিরত থাকবে?

দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগের সম্মেলন মানেই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। ২০তম সম্মেলনও তার ব্যতিক্রম হবে না। দেশের মানুষ এখন দেখার অপেক্ষায়, এই সম্মেলন থেকে আওয়ামী লীগ কি ‘যুগান্তকারী’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আওয়ামী লীগ যদি এই সম্মেলন থেকে ভবিষ্যতের একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত কৌশল ঠিক করে তা বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদের দলের নেতৃত্ব নির্বাচনে সক্ষম হয়, তাহলেই বলা যাবে যে জাঁকজমকপূর্ণ সম্মেলন আয়োজন সফল হয়েছে। আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে অনেকের মধ্যেই যে আগ্রহ ও কৌত‚হল তৈরি হয়েছে সম্মেলন শেষেও যদি তা অব্যাহত থাকে তাহলে কেউ এই আয়োজনকে লোক দেখানো বলতে পারবে না।

যে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্মেলনের একটি বড় বিষয় হলো নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন। আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনেও দলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে বলে ব্যাপক জল্পনাকল্পনা চলছে। নেতৃত্বে কারা আসছেন, কারা বাদ পড়ছেন তা নিয়ে গণমাধ্যমে অনুমাননির্ভর বিভিন্ন খবর প্রকাশ হয়েছে। নেতৃত্ব নির্বাচনে ‘চমক’ থাকবে বলেও কেউ কেউ অনুমান করেছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বড় কোনো চমক এই সম্মেলনে ঘটার মতো বাস্তবসম্মত কারণ দেখা যাচ্ছে না। দলের সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যে পুনর্নির্বাচিত হবেন, তাতে সন্দেহ প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের ঐক্যের প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত। তিনি নিজে যদিও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেয়ার কথা বলেছেন, তবে সে রকমটা ভাবার অবস্থা দলের কেন, দলের বাইরেও কারো আছে বলে মনে হয় না। এটা ঠিক যে, শেখ হাসিনা ৩৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নিজেই বলছেন, আর কতো! বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৩ বছর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ৮ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যেমন সমৃদ্ধ হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাঁরই কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেও আওয়ামী লীগ পেয়েছে নতুন মাত্রা। শেখ হাসিনার সাহস, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা তাকে বিশ্ব নেতার যে সম্মান ও মর্যাদা এনে দিয়েছে সেটা অস্বীকার করার জো নেই।

আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। তাই সভাপতি পরিবর্তন নিয়ে কোনো পর্যায়ে কোনো আলোচনাও নেই। শেখ হাসিনা থাকতে তাকে বাদ দিয়ে দলের নতুন নেতা নির্বাচনের কথা কেউ ভাবছেন বা ভাববেন বলে মনে হয় না।

অবশ্য সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা আছে। শুরুর দিকে মনে করা হচ্ছিল সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পুনর্নিয়োগের সম্ভাবনাই বেশি। তবে শেষ দিকে এসে শোনা যাচ্ছে, পরিবর্তন হতে পারে সাধারণ সম্পাদক পদে। সে ক্ষেত্রে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে পারেন। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক তার পদে থাকলে ভালো, নাকি পরিবর্তন হলে ভালো হবে- এ নিয়ে দলের মধ্যেই বিতর্ক আছে। চলনে-বলনে অত্যন্ত ভদ্র ও মার্জিত সৈয়দ আশরাফের সততা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও তিনি দলের জন্য যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না বলে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ আছে। আবার ওবায়দুল কাদেরও সব মহলে সমান গ্রহণযোগ্য কি-না সে প্রশ্নও আছে। কেউ কেউ মনে করেন তার মধ্যে এক ধরনের কৃত্রিমতা আছে, তিনি কথাবার্তায় কিছুটা ট্যান্টবাজি পছন্দ করেন বলে মনে হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আওয়ামী লীগের মতো একটি দলের সাধারণ সম্পাদক পদে একজন সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক ব্যক্তিকেই নির্বাচিত করা উচিত। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের পর কারো পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খুব সহজ কাজ নয়।

যারা দলের শীর্ষপদাধিকারী হবেন তারা সরকারে থাকবেন না- এমন রীতি আওয়ামী লীগে এক সময় ছিল। এই রীতি মান্য করেই গত শতকের পঞ্চাশের দশকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মন্ত্রীর পদ ছেড়ে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করাটাই শ্রেয় মনে করেছিলেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দলের সভাপতির পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন। এ এইচ এম কামরুজ্জামান আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছিলেন, মন্ত্রীর পদ বাদ দিয়ে। এবারের সম্মেলনেও যদি এমন একজনকে সাধারণ সম্পাদকের পদ দেয়া হয়, যিনি স্বেচ্ছায় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করবেন এবং দলের কাজে আত্মনিয়োগ করবেন, তাহলে সেটা এক ধরনের ‘চমক’ হবে।

কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে যে, ‘চমক’ সব সময় ইতিবাচক ফল দেয় না। যে চমক ভালো কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করে সেই চমকই প্রত্যাশিত। এবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি কিছুটা সম্প্রসারিত হবে। এই কমিটিতে কারা ঠাঁই পাবেন সেটা যেমন কৌত‚হল ও আগ্রহের বিষয় তেমনি আগ্রহ আছে দলের সভাপতিমণ্ডলীতে কারা জায়গা পাবেন, তা নিয়েও। দলের প্রবীণ তিন নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যদি সভাপতিমণ্ডলীতে ফিরে আসেন তাহলে সেটা যেমন চমক তৈরি করবে, তেমনি দলের অসংখ্য কর্মী-সমর্থকের প্রত্যাশাও পূরণ করবে বলে মনে হয়। আবার সভাপতিমণ্ডলীতে নতুন মুখ হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক যদি সত্যি অন্তর্ভুক্ত হন, (এমন সম্ভাবনার খবর গণমাধ্যমে ছাপা হয়েছে) সেটাও অনেককেই উৎসাহিত করবে। তাদের ভাবমূর্তি দলের বাইরেও যথেষ্ট ভালো। চমক দেখানোর নামে এমন নতুন মুখের সমাবেশ যেন না ঘটে, যে মুখ দেখলে কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও নিরুৎসাহিত বোধ করবে।

কে কোন পদে আসবেন, কতজন নতুন মুখ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে দেখা যাবে, কার কার পদোন্নতি ঘটবে, পুরাতনদের কেউ বাদ পড়বেন কি-না, তার চেয়ে বড় কথা হলো, কাউন্সিলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে কি-না? যদি কাউন্সিলেই আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়, তাহলে সেটাই হবে সম্মেলনের বড় চমক। এটা দেখা যায় যে, সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণার পর দলীয়প্রধানের ওপর দায়িত্ব দেয়া হয় বাকি নেতৃত্ব নির্বাচনের। শেখ হাসিনার পছন্দ ও পরামর্শ ছাড়া কারো পক্ষে যে পদ-পদবি পাওয়া সম্ভব নয়, এটা জানা সত্ত্বেও কর্মী-সমর্থকদের প্রত্যাশা হলো, সম্মেলন মঞ্চ থেকেই যেন সবার নাম ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনে কমিটি ঘোষণা না হলে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা দেখা দেয়। সম্মেলনের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়।

আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় দলের নেতৃত্ব নির্বাচন করে সবাইকে খুশি করা খুব সহজ কাজ নয়। পদ পাওয়ার মতো একাধিক ব্যক্তি অবশ্যই আছেন। দলের জন্য ত্যাগ-তিতিক্ষার কমতি নেই- এমন মানুষের সংখ্যা আওয়ামী লীগে বেশি। তারপরও কেউ দায়িত্ব পান, কেউ পান না। তবে এ ক্ষেত্রে যারা জনপ্রিয়, কর্মীদের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক ভালো, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কম, সাধারণ মানুষ যাদের নেতা বলে মনে করেন তাদের যদি কমিটিতে রাখা হয়, তাহলে কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি হয়। দলের সাংগঠনিক বিস্তৃতি ঘটানো সহজ হয়।

দলে এমন নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করা কাম্য নয়। যাদের দলের জন্য সম্পদ না ভেবে বোঝা ভাবা হয়। ‘হাইব্রিড’ নেতাদের অতি ক্ষমতায়িত করা যেমন দলের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি কাউকে ‘বনসাই’ বানিয়ে রাখলেও দল গতিশীল হয় না। সরকার পরিচালনায়, পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা যে রকম ভারসাম্য রক্ষা করে চলছেন, প্রশংসিত হচ্ছেন, দলের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তিনি এ রকম ভারসাম্য রক্ষা করবেন বলেই সবার প্রত্যাশা।

আওয়ামী লীগের কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেশি। কারণ আওয়ামী লীগ এ দেশের সাধারণ মানুষের দল। আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী কোনো বিতর্কিত কাজ করলে, ঘুষ-দুর্নীতি করলে সেটা যত সমালোচিত হয়, অন্যদের ক্ষেত্রে সেটা হয় না। মানুষের এই মনোভাবের বিষয়টি দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাথায় রাখতে হবে। যেসব নেতাকর্মী নানা কারণে এর মধ্যেই সমালোচিত হয়েছেন, যাদের কারণে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন জায়গায় কিছুটা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে তাদের ব্যাপারে নির্মোহ সিদ্ধান্ত নিতে হবে দলনেত্রী শেখ হাসিনাকে। আগাছা উপড়ে ফেলতে হয়। ফলদ বৃক্ষেরই পরিচর্যা করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর পরিশ্রম ও নেতৃত্বগুণে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে। অথচ কিছু অর্বাচীনের অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষের কাছে সরকারের সব অর্জন, সব সাফল্য ¤øান হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা চলতে পারে না। পরবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চালানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে এই সম্মেলন থেকেই। যারা বিতর্কিত, সমালোচিত তাদের নাম নতুন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত না হলেই সবাই পরিবর্তনের বার্তা পেয়ে যাবে।

আওয়ামী লীগের হাতেই বাংলাদেশ নিরাপদ। কিন্তু আওয়ামী লীগ কাদের হাতে নিরাপদ সেটাও কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। আওয়ামী লীগের ত্রুটি-বিচ্যুতি অবশ্যই আছে। আওয়ামী লীগ কোনো ভুল করে না, তা-ও নয়। দেখার বিষয় এটাই যে, ভুল করলে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আওয়ামী লীগ সংশোধিত হচ্ছে, নাকি ভুলের পুনরাবৃত্তি করছে। যে রাজনৈতিক দল ভুলের পুনরাবৃত্তি করে সে দল জনগণের সমর্থন পায় না। বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়েই দেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের নির্বাচনী প্রচারে বলার মতো অনেক সাফল্য এনে দিয়েছেন। কিন্তু দলের নেতাকর্মীরা যদি তৃণমূলে সেটা পৌঁছে দিতে না পারেন তাহলে সুফল ঘরে তোলা যাবে কি?

মানুষ বাড়াবাড়ি পছন্দ করে না। দলের নেতাকর্মীদের কাছে ভালো ব্যবহার আশা করে। কথায় বলে ‘মানুষের মুখেই জয়, মানুষের মুখেই ক্ষয়’। মানুষ ভালো বলে এমন কাজের সঙ্গে যদি আওয়ামী লীগকে না পাওয়া যায়, তাহলে সরকার বিশ্বজয় করলেও মানুষের মন জয় করতে পারবে না। মানুষের মন জয়ে ব্যর্থ হলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে চোখ ধাঁধানো সম্মেলনের ফলাফল হবে শূন্য। তখন মানুষ বলবে, মন না রাঙায়ে যোগী, বসন রাঙালি।

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসাম্প্রদায়িক শক্তির প্রত্যাশা পূরণে অক্ষম হোক- সম্মেলন সর্বাঙ্গীণ সফল হোক।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর ২০তম জাতীয় সম্মেলন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj