সম্মেলন নিয়ে তারুণ্যের ভাবনা : সেলিম রেজা

শনিবার, ২২ অক্টোবর ২০১৬

আগে রাজনীতি শব্দটি রূপক অর্থে ‘রাজার নীতি’ হিসেবে প্রচলিত থাকলেও যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা পদ্ধতির ব্যাপক পরিবর্তন ও জনগণের সর্বাত্মক অংশগ্রহণের নতুন মাত্রা সংযোজিত হয়েছে। গ্রিসের দার্শনিকরা রাষ্ট্র শাসন পদ্ধতি, জনগণের অংশগ্রহণ এবং ন্যায় ও আদর্শভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ও সুশাসনের জন্য শাসকদের যে দায়িত্ব কর্তব্যবোধ সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ধ্যান-ধারণায় এর মৌলিক তত্ত্বগত পার্থক্য দৃশ্যমান হলেও রাষ্ট্র বিজ্ঞানের সেই চিরন্তন বাণী দক্ষ শাসক, মানবজাতির কল্যাণ ও উন্নতি এবং সুশাসন বিষয়ে মতপার্থক্য একেবারেই নেই। এসব বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও গবেষকরা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।

মানুষের জন্য কাজ করার প্রেরণা থেকে রাজনীতি। নম্র, ভদ্র, বিনয়ী, মার্জিত, শিক্ষিত মানুষগুলো সমাজের জন্য, পরিবেশের জন্য, গ্রামের জন্য, নগরের জন্য বিশেষ করে দেশের মানুষের জন্য কিছু কাজ করার উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনীতি করতেন। আমাদের দেশে ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্টের পর থেকে রাজনীতি আর সেই সম্মানের জায়গায় নেই। নিজের স্বার্থ, ব্যক্তিস্বার্থ, নিজেদের স্বার্থের জন্য একেকজন এখন রাজনীতি করেন। রাজনীতির দলগুলোর ইতিহাস, বাংলাদেশের ইতিহাস নেতাদের প্রেরণামূলক ইতিহাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্ম কাকে অনুসরণ করে বড় হবে, পথ চলবে, কাজ করবে? মানবতাবোধ নীতি-নৈতিকতা সবকিছুই বিসর্জন দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের যে অবস্থা বিরাজ করছে ব্যক্তিগতভাবে সবাই একা। কেউ কারোর নয়। নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য সবাই ব্যস্ত। সবাই টাকার পেছনে ছুটছে। একসঙ্গে বসে একটু গল্প করবে, তরুণদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করবে তা কিন্তু করছে না। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা পার্টি অফিসে আসেন মাঝে মাঝে হাজিরা দিতে। কে কে আসছে তা দেখতে। মুখ চাওয়া-চাওয়ির রাজনীতি চালু হয়েছে। জনগণ থেকে আজ নেতারা বিচ্ছিন্ন। টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করে রাজনৈতিক প্রোগ্রামে নেয়া হয়। দলের কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয় না। তাদের কথা কেউ শুনছেন না, অথবা বুঝতে চাইছেন না। প্রত্যেক রাজনৈতিক নেতা উদ্দেশ্য নিয়ে চলাফেরা করেন। মাস্তান, বখাটে, ধান্ধাবাজ, অভদ্র, কুরুচিপূর্ণ লোকজন দলে গুরুত্ব পায় বা পাচ্ছে। দলের প্রকৃত খাঁটি কর্মীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। রাজনীতিতে যারা নেতা হতে চান তাদের শিক্ষিত, গ্রহণযোগ্য, মানবিক হতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনীতির নামে যেটা চালু আছে সেটা খুবই ভয়ঙ্কর। কেউ কোনো ভালো কাজ করলে অন্যের ভালো লাগছে না বা সহ্য হচ্ছে না। তাকে রাজনীতিতে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে। তার নামে নানারকম দুর্নাম মিথ্যা অপবাদ দেয়া হচ্ছে। রাজনীতিতে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। নিজের দলের কেউ প্রতিদ্ব›দ্বী হতে পারে তার মধ্যে সম্ভাবনা দেখা দিলে তাকে শুধু হেয়প্রতিপন্ন না, সেই সঙ্গে পরপারে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হয়। রাজনীতি করতে হলে শুধু শিক্ষিত হলেই চলবে না, মননশীলতা থাকতে হবে। সুষ্ঠু রাজনীতির সংস্কৃতি বাংলাদেশে কবে চালু হবে সেটা নিয়ে ভাবতে হবে।

আগে বিভিন্ন পেশার সুনামের অধিকারী মানুষ রাজনীতিতে আসতেন। এখন ধান্ধাবাজ, সুবিধাবাদী, ভূমিদস্যু, টেন্ডারবাজ, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী সহজে টাকা দিয়ে রাজনীতির মধ্যে ঢুকে পড়ছে এবং রাজনীতিকে কলুষিত করছে। দলের নমিনেশন বিক্রি হয় টাকার বিনিময়ে। যে মানবপাচার, কালোবাজারি করে টাকা কামায় দলের টিকেট তার কাছে। এ কারণে রাজনীতির কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৪৫ বছর আগে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের কথা ভেবেছেন। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ভালো মানুষদের রাজনীতিতে আসতে হবে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমার চারপাশে চাটার দল’, আর বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাকে ছাড়া আওয়ামী লীগের সবাইকে কেনা যায়।’ ফেসবুকসহ গণমাধ্যমে দেখা যায় এখন দলীয় এক নেতার সঙ্গে অন্য এক দলীয় নেতার তুলনা করা হয়। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে।

আমাদের গর্ব আমাদের ভাষা। আমারা বাঙালি জাতি, আমাদের নিজস্ব ইতিহাস-ঐতিহ্য আছে। কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ইতিহাস ঐতিহ্যে আমরা একটি সমৃদ্ধ জাতি। আমরা অল্প সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে উন্নত জাতি হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি পেতে চাই। এর জন্য মানবতা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম আমাদের খুবই প্রয়োজন। যারা রাজনীতি করতে চায় তাদের আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি সম্মন্ধে সম্যক জ্ঞান থাকা দরকার। নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস চালু করার দরকার। খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চা খুবই প্রয়োজন। আপনজনের সঙ্গে সব সময় থাকার অঙ্গীকার করা উচিত। গ্রামের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রাখা এবং প্রতিবেশীর খোঁজখবর রাখা উচিত। আত্মঅহমিকা পরিহার করে খাঁটি প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে হবে। আমাদের এমন নেতা হয়ে উঠতে হবে যারা জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। জনবিচ্ছিন্ন নেতা সমাজের উপকারে আসে না। যারা সত্যি সত্যি সেবার ব্রত নিয়ে রাজনীতিতে আসতে চায় তাদের সুযোগ দিতে হবে। শিক্ষিত, ভদ্র, সর্বজন গ্রহণযোগ্য নেতা আমাদের বাংলাদেশে এখন খুবই প্রয়োজন। বর্তমান তরুণরা কেন রাজনীতিবিমুখ এটার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী মরহুম তাজউদ্দিন আহমেদের ছেলে সোহেল তাজের মতো তরুণদের রাজনীতিতে আসতে হবে এবং বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়মিত রাজনীতিতে এসে দেশের জন্য ভূমিকা রাখতে হবে। ইতোমধ্যে আরেক তরুণ জুনায়েদ আহমেদ পলক এমপি সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। এদের মতো তরুণ আমাদের দেশের রাজনীতিতে খুবই প্রয়োজন। দেশের প্রতিটি জেলা থেকে কমপক্ষে দুজন করে নতুন মুখ রাজনীতিতে সুযোগ দেয়া উচিত। যাদের বয়স ২৫-৪৫ মধ্যে তারাই রাজনৈতিক নেতৃত্ব গ্রহণ করবে। স্বাধীনতা-উত্তর দেখা যাচ্ছে একেকজন প্রায় ৫-৭ বার এমপি হয়েছেন এমনকি দু’একবার মন্ত্রীও হয়েছেন। রাজনীতি থেকে তাদের অবসর নেয়া উচিত এবং উপযুক্ত তরুণদের দায়িত্ব দেয়া উচিত। একজন তরুণ রাজনীতিতে যে সার্ভিস দিতে পারবেন সেখানে একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ততটা দিতে পারবেন না। বয়সের কারণে তার অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। দলীয় প্রধানের এ বিষয়টি খুবই গুরুত্ব দেয়া উচিত।

তরুণ নেতারা দেশ চালাবে এবং বয়স্ক অভিজ্ঞ নেতারা ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেবেন। পৃথিবীর সব উন্নত রাষ্ট্র এ ধরনের নিয়ম মেনে চলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিটা জেলায় ২ জন করে যাদের বয়স ৩০-৪৫ বছর বয়সের তরুণ উদীয়মান নেতা উপদেষ্টা হবেন। এবং কেন্দ্রীয় কমিটিতে ১০ জন তরুণ নেতা উপদেষ্টা হবেন। তাদের মধ্যে ২ জন আন্তর্জাতিক বিষয়ে, ২ জন শিক্ষায় ইতিহাস ঐতিহ্য বিষয়ে, ২ জন বাংলাদেশের উন্নয়নে, ২ জন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিকল্পনা বিষয়ে, ২ জন তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন এবং নিয়মিত পলিটিক্যাল ওয়ার্কশপ, সেমিনার, রাজনৈতিক ইতিহাস বিষয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশ ও বহির্বিশ্ব ইতিহাস, রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হবে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তরুণ নেতাদের রাজনৈতিক মতবিনিময় প্রথা চালু করতে হবে। আর এসব তরুণ নেতা যারা হবেন তারা অবশ্যই সৎ, বিনয়ী, শিক্ষিত, মার্জিত, নম্র, ভদ্র, নির্লোভ, নিরহংকারী, মানবতাবোধসম্পন্ন, বুদ্ধিমান তরুণ নেতা আমাদের আবশ্যক। অভিজ্ঞতা বিনিময় সম্ভাবনা বাড়ায়। কথা কম কাজ বেশি প্রথা চালু করতে হবে। তারুণ্য সব সময় নতুনদের কথা বলে। আমার আহ্বান এ লেখার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার সেবার ব্রত নিয়ে তরুণ প্রজন্ম রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করবে। প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে পৃথিবীটা। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেমন বদলে গেছে সমস্যার ধরন, তেমনি বদলেছে এর সমস্যা সমাধানের কৌশলও। তরুণরাই গড়বে সুন্দর বাংলাদেশ ও পৃথিবী। তরুণ সমাজ এবং অন্যরা পৃথিবীর সামজিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ নতুন করে তৈরি করার চেষ্টা করছে। এই তরুণ প্রজন্মই ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের জন্য উপযুক্ত মতামত ব্যক্ত করে একটি নতুন আশা দেখতে পায়। নতুন বাংলাদেশ, উন্নত আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে তরুণ নেতা, নতুন মানুষ দরকার। সর্বোচ্চ দুবারের বেশি মন্ত্রী এমপি হতে পারবে না, এ নিয়ম চালু হওয়া উচিত। যদি তার সন্তান উপযুক্ত নেতৃত্ব দেয়ার মতো থাকে, তাহলে তাদের মধ্যে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। অথবা অন্য একজন ভালো দক্ষ কর্মঠ তরুণদের নেয়া যেতে পারে। সোনার বাংলাদেশ গড়তে সোনার মানুষ দরকার। আমাদের সে সোনার মানুষ খুঁজে বের করতে হবে, সৃষ্টি করতে হবে।

রাজনৈতিক নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া কী? বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাপোর্টার কারা- তাদের তথ্য হালনাগাদ করা উচিত। প্রত্যেক এলাকায় স্ব-স্ব কর্মীদের সমর্থনে ও ভোটের মাধ্যমে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতা নির্বাচন করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। এখন জামায়াত-বিএনপি থেকে অনেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছে এবং তারা পদ-পদবিও অনায়াসে পেয়ে যাচ্ছে। কী বিশ্বাসের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত করা হচ্ছে এদের। এরা দলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অনেক ত্যাগী নেতা যাদের বাবা-দাদা-নানা বংশপম্পরায় আওয়ামী লীগকে ভালোবেসে সাধারণ কর্মী হিসেবে আছেন। তাদের কোনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। এজন্য নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ক্ষোভ ও নিষ্ক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে।

২২-২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিল। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে দলটির নতুন চেহারা প্রকাশ পাবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে এ দলটির গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যাবে। এ দলটি প্রতিষ্ঠার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর অনুসারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ দল জনগণের দল। বাংলার মানুষের দল। নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন, নতুন মানুষ যাদের মাধ্যমে দেশ একটি উচ্চমার্গে পৌঁছে যাবে। প্রতিযোগিতামূলক ও অংশীদারিত্বমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের উদ্যোগী ও উদ্যমী তরুণদের নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ করে তাদের বেড়ে ওঠার ও টেকসই ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। এখন সময় বাংলাদেশের, এখন সময় আমাদের। বাংলাদেশ এখন অন্য দেশের জন্য প্রেরণা। দুর্বার গতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

২০তম আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২১ শতকের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্র কায়েমে ঘোষণাপত্র পাঠ। এ সম্মেলন এখন আর জাতীয় সম্মেলন নয়, আমরা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সম্মেলন বলতে পারি। বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানসহ সেই দেশের রাজনৈতিক প্রধান ব্যক্তিরাও উপস্থিত থাকবেন। এটা বিশ্ব রাজনীতিতে ভিন্ন মাত্রা হবে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম লাভ করে। একটি দরিদ্র রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এখন আমরা উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছি। উন্নত রাষ্ট্র সে দিন আর বেশি দূরে নয়। ২০২১ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ৫০ বছর পূর্তি এবং ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী পালিত হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এখন শুধু আওয়ামী লীগের নয়। তিনি বিশ্বরাজনীতির রোল মডেল ও আইকন। বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাল ধরেন ১৯৮১ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে। এখন তার বয়স ৭০ বছরে। অর্থাৎ ৭০ বছরের জীবনে ৩৫ বছরই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে আছেন অত্যন্ত বিশ্বস্ততা, সততা ও দৃঢ়তা নিয়ে। বাংলাদেশের মানুষ এখন আর না খেয়ে থাকে না। তিনি দশ টাকা মূল্যে ৫০ হাজার গরিব পরিবারকে চাল দিচ্ছেন। শেখ হাসিনার ভালো কাজকে কিছু মানুষ রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার লক্ষ্যে বাধাগ্রস্ত করছে। রাজনীতিতে আস্থার জায়গা ফিরিয়ে আনতে হবে। তরুণ মেধাবী, সৎ, দুর্নীতিমুক্ত, সাদামনের মানুষকে দলের নেতৃত্বে আনতে হবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন এক স্বপ্ন দেখছে। দেশে সুস্থ রাজনীতি চালু হোক। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মেলন সফল ও সুন্দর হোক, জয় হোক দেশরতœ শেখ হাসিনার।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর ২০তম জাতীয় সম্মেলন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj