গোলটেবিল বৈঠকের আলোচকবৃন্দ :

মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৬

এম এ মান্নান, প্রতিমন্ত্রী, অর্থ মন্ত্রণালয়

নাছিমা বেগম এনডিসি, সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়

শফিকুল ইসলাম, কান্ট্রি ডিরেক্টর, এডিডি

খন্দকার আরিফুল ইসলাম, কান্ট্রি ডিরেক্টর, সাইট সেভার্স

ড. হামিদুল হক, অধ্যাপক, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

তারিক আহসান , অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নর্ঝরিণী হাসান, কান্ট্রি ডিরেক্টর, হেল্পএইজ ইন্টারন্যাশনাল

খন্দকার জহুরুল আলম, নির্বাহী পরিচালক, সিএসআইডি

শফিকুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক, সিআরপি

ড. এহসানুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক, ঢাকা আহসানিয়া মিশন

সাইমন ব্রাউন, কান্ট্রি ডিরেক্টর, ভিএসও

ইব্রাহীম খলিল জুয়েল, বার্তা সম্পাদক, দ্য ইন্ডাস্ট্রি

তপন কুমার দাস, উপ-পরিচালক, গণস্বাক্ষরতা অভিযান

মারিয়ান আক্তার, প্রতিনিধি, ব্র্যাক

মাহবুব ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক, বেইজ

সেলিনা আক্তার , মহাসচিব, ন্যাশনাল ফোরাম অব অর্গানাইজেশনস ওয়ার্কিং উইথ দ্য ডিজাবলড

বিনয় লুক রড্রিগস, প্রোগ্রাম অফিসার, কারিতাস বাংলাদেশ

আকলিমা বেগম আঁখি, প্রতিনিধি, এক্সেস বাংলাদেশ

আলাল উদ্দিন, প্রকল্প সমন্বয়ক, এনজিডিও

সঞ্চালক :

শ্যামল দত্ত, সম্পাদক, ভোরের কাগজ

গত ২৯ আগস্ট, সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ক্যাফোডের অর্থায়নে এডিডি ও ভোরের কাগজের যৌথ উদ্যোগে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম। দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ প্রোগ্রামের কান্ট্রি ডিরেক্টর শফিকুল ইসলাম।

এছাড়া গোলটেবিল বৈঠকের আলোচনায় বক্তারা সুপারিশ আকারে এ বিষয়ক কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেয়া আলোচকদের বক্তব্যের চুম্বক অংশ দিয়েই সাজানো হয়েছে আজকের বিশেষ ক্রোড়পত্র।

শ্যামল দত্ত

সম্পাদক, ভোরের কাগজ

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারকে সামনে এগিয়ে নেয়ার জন্য সবাই যে ঐক্যবদ্ধ ও সবার যে চিন্তাভাবনা সেজন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযোগিতা অনুযায়ী তাদের আবাসিক ব্যবস্থা, স্যানিটারি ব্যবস্থা, পানি প্রাপ্তির ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কেমন হবে এর প্রতিটি বিষয়ে কিন্তু সরকারের বিবেচনা করা প্রয়োজন। আমাদের উচিত বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে একটি অংশ শুধু এই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ রাখা।

এম এ মান্নান

প্রতিমন্ত্রী, অর্থ মন্ত্রণালয়

সমাজের সর্বস্তরের শ্রেণি পেশার মানুষের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে কাজ করছে। সরকার মনে করে, দেশের সামাজিক উন্নয়নের জন্য সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থপূর্ণ ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। একই সঙ্গে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক সচেতনতা পরিবর্তন করা দরকার। তাই সমাজের অবহেলিত এবং পিছিয়ে পড়া মানুষদের এগিয়ে আনার জন্য ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

নাছিমা বেগম

সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়

‘কাউকে বাদ দিয়ে নয়’ এই মূল বচন নিয়ে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মতিতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা গৃহীত হয়।

২০৩০ সালের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ১৫ বছরের মধ্যে পৃথিবীকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে সবার জন্য টেকসই, বাসযোগ্য ও সমৃদ্ধ পৃথিবী উপহার দেয়ার অঙ্গীকার নিয়েই টেকসই উন্নয়নের জন্য ১৭টি লক্ষ্য ও ১৬৯টি টার্গেট গ্রহণ করা হয়।

এই পর্যন্ত ২৫০টি ইন্ডিকেটর বা সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তা আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে গৃহীত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কিছু করার মানসিকতা ত্যাগ করে কিভাবে প্রতিবন্ধিত্ব রোধ করা যায় সেদিকে বেশি নজর দেয়া জরুরি।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপ করে ১২ ধরনের প্রতিবন্ধিত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৮ লাখের ওপরে প্রতিবন্ধী মানুষের তথ্য আছে। আমরা দেখেছি, প্রসবজনিত কারণে একটি শিশু জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী হতে পারে। বাল্যবিয়ে বন্ধ করলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হার কমবে অনেকাংশে।

শফিকুল ইসলাম

কান্ট্রি ডিরেক্টর, এডিডি

স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অর্থপূর্ণ ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।

বর্তমানে হাতে নেয়া এজেন্ডা- ২০৩০ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য আগামী ১৫ বছরের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হতে হবে জনগণের মালিকানায়, জনগণের জন্য ও জনগণের দ্বারা পরিচালিত। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়ন চিন্তায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।

প্রথমবারের মতো এই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাতেই সমাজের অবহেলিত প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এর বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরাসরি সম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি। আজকের গোলটেবিল আলোচনায় যে ১০ দফা সুপারিশ প্রস্তাব করা হলো এর যথাযথ বাস্তবায়নও খুব জরুরি।

শফিকুল ইসলাম

নির্বাহী পরিচালক, সিআরপি

বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সম্প্রতি সময়ে ফিটনেস বিহীন অননুমোদিত বিভিন যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। আর এসব দুর্ঘটনার কারনে শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যাও বেড়েছে। যেমন ধরুণ ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে সা¤প্রতিক সময়ে বেশকিছু নারী প্রতিবন্ধিতার শিকার হয়েছেন। এজন্য জনসচেতনতা সৃষ্টি করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাই একত্রিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে এ ধরণের দুর্ঘটনা এড়ানোর মাধ্যমে প্রতিবন্ধিতা রোধ করা সম্ভব।

খন্দকার আরিফুল ইসলাম

কান্ট্রি ডিরেক্টর, সাইট সেভার্স

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় যদি অন্য সব মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে কাজ করে তবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

সব মন্ত্রণালয় থেকে একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহের অগ্রগতি নিরীক্ষণ করার জন্য এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ বাস্তবায়ন করার জন্য একটি এসডিজি সমন্বয় কমিটি গঠন করতে পারে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব অনেক। এই আইনের আওতায় জাতীয় কমিটি, জেলা ও উপজেলা কমিটি এবং শহর কমিটিও রয়েছে।

সকলেরই সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন এই আইন বাস্তবায়নের জন্য। আর এই আইন বাস্তবায়ন হলেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করা সম্ভব।

বিভিন্ন প্রোগ্রামে গিয়ে আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা হলো স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে আমরা যাতে সমন্বয় করে কাজ করতে পারি, সরকার যদি এই সমন্বয়ের দায়িত্ব নেন, তাহলে বেসরকারি সংস্থাগুলো সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে পারবে এবং এই কাজগুলো সামগ্রিকভাবে এক করলে দেখা যাবে যে, এই দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অনেক কিছু করা হচ্ছে।

ড. হামিদুল হক

অধ্যাপক, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

আমরা ইতোমধ্যে নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে বিপ্লব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। সামাজিকভাবে নারীদের পিছিয়ে রাখার যে প্রবণতা প্রচলিত ছিল আমরা তা থেকে উত্তরণ হতে পেরেছি।

আশা করি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও আমরা সফলতা অর্জন করতে পারব। এ ক্ষেত্রে সমাজের সব সেক্টর থেকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। আর সব উদ্যোগ তখনই বাস্তবায়ন হবে যখন সরকার তা বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষার উন্নয়নের জন্য দেশের সরকারি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে।

তারিক আহসান

অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আমাদের সমাজের অন্যান্য সেক্টরের মতো শিক্ষা ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভিন্নভাবে দেখা হয়। অন্যান্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের চেয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাঠদানের ক্ষেত্র ও পাঠ্যবই আলাদা করা হয়।

অন্যান্য সাধারণ মানুষের চেয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সমস্যা অনেক বেশি। তাই তাদের এগিয়ে আনার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারকেও বাজেটে বেশি বরাদ্দ দিতে হবে। বেসরকারিভাবেও এভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

খন্দকার জহুরুল আলম

নির্বাহী পরিচালক, সিএসআইডি

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কিছু করার আগে সব মন্ত্রণালয় যেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে আগে কথা বলে নেয়।

অধ্যাপক হামিদুল হকসহ আজকের আলোচনায় উপস্থিত শিক্ষকদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে বেসরকারি কলেজ বিশ্ববিদ্যায়গুলো যেন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেয় । পাশাপাশি এদিকে সরকারও আশা করি নজর দেবেন। আর মারিয়ান আক্তার তার বক্তব্যে বলেছেন, স্কুল-কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী কোটা মানা হয় না, এদিকেও ভালোভাবে নজর দিতে হবে।

ড. এহসানুর রহমান

নির্বাহী পরিচালক, ঢাকা আহসানিয়া মিশন

দেশের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে জাতীয় বাজেটের ওপর। তাই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে তা বাজেটের ওপরই নির্ভর করবে। এ জন্য বাজেটে এই বিষয় নিয়ে বেশি বেশি আলোচনা হওয়া দরকার। তাহলে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। অপর দিকে শুধু বাজেট হলেই হবে না এর সঙ্গে তার যথাযথ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। সামাজিকভাবেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। তাহলেই সমন্বিত অগ্রগতি সম্ভব।

তপন কুমার দাস

উপ-পরিচালক, গণস্বাক্ষরতা অভিযান

সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নানা উদ্যোগ নিচ্ছে বলে আমরা জেনেছি। কিন্তু তা কতোটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা মনিটরিংয়ের জন্য একটি সমন্বিত পর্যবেক্ষনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। অন্যথায় বিষয়টি শতভাগ সফল হবে কী না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এসডিজি ইন্ডিকেটর অনুযায়ী অগ্রগতি মনিটরিং করা দরকার।

মারিয়ান আক্তার

প্রতিনিধি, ব্র্যাক

প্রতিবন্ধী ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের সমস্যা অনেক বেশি। আমরা মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, এক পরিবারে হয়তো ভাই-বোন দুজনেই প্রতিবন্ধী। অথচ ভাইটির যে ধরনের সমস্যা হচ্ছে বোনটি তার চেয়ে অনেক বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আলাদা কোটা থাকলেও দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা মানা হয় না। কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে বলবে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পরিবার কিন্তু তা বলে না। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, আমরা সব ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ চিন্তা করতে গিয়ে আমাদের মানসিকতাই যেন ওই বিশেষের মধ্যে আটকে গেছে। এ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

নির্ঝরিণী হাসান

কান্ট্রি ডিরেক্টর, হেল্পএইজ ইন্টারন্যাশনাল

প্রতিবন্ধী কখনো জন্মগতভাবে হয়ে থাকে আবার কখনো জন্মের পর মনুষ্যসৃষ্টভাবে হয়ে থাকে। এই দুই ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য ভিন্নভিন্নভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। অবশ্য যেখানে সাধারণ মানুষই স্বাস্থ্যসেবা পায় না সেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কথা চিন্তাই করা যায় না। এসডিজিকে সামনে রেখে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এবং একই সঙ্গে বয়সজনিত কারণে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

ইব্রাহীম খলিল জুয়েল

বার্তা সম্পাদক, দ্য ইন্ডাস্ট্রি

দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে বর্তমান সময়ে বেশ খানিকটা অগ্রগতি হয়েছে। আগে তাদের বলা হতো অন্ধ।

এখন সেখানে সম্মান দেখিয়ে বলা হয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। তবে বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমুখী বাজারে তাদের যে এক হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা দেয়া হয় সেটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত সেটাও ভাববার বিষয়।

এই সঙ্গে বসবাস ও শিক্ষার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিশ্চিতের দায়িত্ব সরকারের। একই সঙ্গে সরকারের নেয়া পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য সাধারণ জনগণকেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

মাহবুব ইসলাম

নির্বাহী পরিচালক, বেইজ

অনুচ্ছেদের ৪.৫ এবং ৮.৫ এ দুটি বিষয় নিয়ে আজ আলোচনা করব। ৪.৫-এর নিয়ম অনুযায়ী আমরা যদি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কারিগরি বা এই জাতীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে পারি, তবে তাদের আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি আমরা সামাজিক মর্যাদাও দিতে পারব।

তারা আর তখন সমাজের বোঝা হয়ে থাকবে না। আমরা তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারব।

সেলিনা আক্তার

মহাসচিব, ন্যাশনাল ফোরাম অব অর্গানাইজেশনস ওয়ার্কিং উইথ দ্য ডিজাবলড

প্রতিবন্ধী অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ সালে গৃহীত হয়েছে। আমাদের দেশে আইন হচ্ছে অনেক কিন্তু তার বাস্তবায়ন হচ্ছেনা বললেই চলে। আমাদের দেশে নারী ও শিশু মন্ত্রণালয় রয়েছে।

অথচ এই মন্ত্রণালয় নারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কতটুকু কাজ করছে? প্রতিটা মন্ত্রণালয় যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নেয় তাহলেই কেবল এসডিজি অর্জন সম্ভব হবে।

'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj