ঈশ্বরের মাতৃরূপে অবতরণ : অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী

সোমবার, ১০ অক্টোবর ২০১৬

দুর্গাপূজা এসেছে। এসেছে তৃনয়নী মা শারদীয় এই দুর্গোৎসবে। মা দেবীদুর্গার আশীর্বাদে শ্রীরামচন্দ্র রাক্ষসরাজ রাবণকে পরাজিত করার পর সীতাকে উদ্ধার করলেন সেই থেকে শরৎকালে হয়ে আসছে দুর্গাপূজা।

শরৎকালে অর্থাৎ দক্ষিণায়নে সব দেব-দেবীর মতো দেবী দুর্গা বিষ্ণুমায়া নিদ্রিতা থাকেন। শারদীয় দুর্গাপূজাতে বোধন হচ্ছে যার নামে নিদ্রিত দেবীকে জাগ্রত করা বুঝায়। তাঁর জাগরণের জন্য এই শরৎকালকে অকাল বোধেনের দ্বারা দেবীকে জাগ্রত করা হয় বলে দুর্গার অপর নাম শারদীয়া। শরৎকালে এই দুর্গাপূজা হয় তাই তাকে শারদীয় দুর্গাপূজা বলা হয়।

মা দুর্গাদেবী স্বামী মহাদেবের কাছ থেকে অন্ন খেতে চেয়েছেন বলে তাহাকে অন্নপূর্ণা পূজা বলে। দুর্গা হলো জীবের তথা দেবতাদের দুর্গতি যিনি নাশ করেন আবার দুর্গম অসুরকে যিনি বধ করেন।

চণ্ডীর বর্ণনা অনুযায়ী, দুর্গম নামক অসুরকে বধ করায় দেবী মায়ের নাম হয়েছে দুর্গা। দুর্গম অসুরের কাজ ছিল জীবকে দুর্গতিতে ফেলা। দুর্গমকে বধ করে যিনি স্বর্গ বিতাড়িত দেবগণকে হৃতরাজ্যে ফিরিয়ে দেন এবং জীব জগতে দুর্গতির হাত থেকে জীবন রক্ষা করেন তিনিই মা দুর্গা। দেবীর ডানে লক্ষী ও গণেশ, বামে সরস্বতী ও কার্তিক। দুর্গা শব্দের অর্থ যিনি জীবের দুর্গতি হনন করেন। আরেকটি অর্থ দুর্জ্জেয়া। মা দুর্গা দুর্গম নামে এক অসুরকে বধ করেছিলেন বলে মায়ের নাম হয়েছে দুর্গা। রাজভ্রষ্ট রাজা যুধিষ্টির বিপদ হতে মুক্তিলাভ করার জন্য মা দুর্গার আরাধনা করেছিলেন বলে মহাভারতের বিরাট পর্বের ২৪ অধ্যায়ে উল্লেখ আছে। দুর্গা শক্তিদায়িনী। যুগে যুগে বিভিন্ন সংকটের সময় তিনি মর্ত্যধামে আবির্ভূত হয়েছিলেন বিভিন্ন রূপে, বিভিন্ন নামে। তিনি তাই আদ্য শক্তি মহামায়া, ব্রহ্মসনাতনী। দুর্গা, মহিষমর্দিনী, শলিনী, পার্বতী, কালিকা, ভারতী, অম্বিকা, গিরিজা, বৈষ্ণবী, কৌমারী, বাহারী, চণ্ডী, লক্ষী, উমা, হৈমবর্তী, কমলা, শিবানী, যোগনিন্দা প্রভৃতি নামে ও রূপে মায়ের পূজা হয়ে থাকে।

দুর্গাপূজাতে আমাদের বাসায় সব সম্প্রদায়ের লোকই আসত এখনো আসে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এই ধরণীতে আসেন। তাই সবাইকে সাথে নিয়েই আমরা দুর্গাপূজা করি। আমাদের আনন্দ আমরা সবার সাথেই ভাগ করে নেই। সবার সাথে পূজা করতে আনন্দ করতে আর পূজার প্রসাদ সবাই একসাথে খেতে কি যে আনন্দ, তা বলে বুঝানো যাবে না। পূজাতে প্রসাদ হিসেবে প্রথম দেয়া হতো ফলমূল তাতে আপেল, কলা, আঙ্গুর, পেঁপে আর কত কি। দুপুরে দেয়া হতো ভোগ, তাতে খিচুড়ি সাথে লাবড়া অর্থাৎ নানান রকম শাকসবজি দিয়ে তৈরি নিরামিশ। সবাই প্রসাদ খেয়ে বলত আহা কি মজা, এমন মজার খাবার কতদিন খাইনি। আমরা তাদের এই আনন্দ আর তৃপ্তি দিয়ে নিজেরাই আনন্দিত হতাম। সন্ধ্যায় হয় আরতি, সেই আরতির সময় ধূপ ধোঁয়ায় চারিদিক হয়ে যেত গন্ধময় একটি ধোঁয়াচ পরিবেশ আর ঢাক, ঢোল কাঁসার শব্দ ধ্বনিতে আমরা সবাই নাচতাম। প্রতিমার সামনে হাতে ধূপ এর পাতিল নিয়ে আমিও নাচতাম। আসলে পূজাতে যারা ঢাকঢোল বাজায় তারা এমনই তালে তালে, ছন্দে ছন্দে বাজায় যেন নাচতে ইচ্ছে করে। আমারও সে সময় নাচতে ইচ্ছে করছিল, তাই একবার নেচে পুরস্কারও পেয়ে গেলাম। পূজায় আমরা এমনিই আনন্দ করতাম। আজ যে পূজায় আমরা যাই সেই পূজাতে হয়তো সেইরকম আনন্দ পাই না, পাই না সেইরকম আনন্দঘন পরিবেশ, তবুও পূজা আসে, পূজা যায়, আমরাও পূজা করি। আজ আমার মা নেই, স্বর্গবাসী হয়েছেন। মাকে ছাড়া পূজা করবো ভাবতেও পারি না।

ত্রিনয়নী মহাদেবী দুষ্টের দমনে শিষ্টের পালনে আবির্ভূতা, এ পূজার মূর্তি কল্পনায় ফুটে উঠে শৌর্য বীর্য (কার্তিক), জ্ঞানভক্তি (সরস্বতী), সিদ্ধি (গণেশ), সম্পদ (লক্ষী) এবং মানবজীবনের ইহকালের বস্তুলাভ এবং অন্তিমকালে মাতৃক্রোড়ে চির আশ্রয়। আর মায়ের পদতলে মহিষাসুর অশুভ এবং অহঙ্কারের প্রতীক, যা জগতের অমঙ্গলের হেতু। তাকে আবার শাসন করছেন স্বয়ং দেবী, যিনি কল্যাণময়ী বরাভয় দায়িনী হিসেবে জগতের কল্যাণ করে আসছেন।

পূজার ষষ্ঠীতে দেবীর ষষ্ঠাদিকল্প অর্থাৎ আবাহন, বোধন, আমন্ত্রণ, অধিবাস প্রভৃতি অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। এই ষষ্ঠীতে সন্ধ্যাকালে দেবীর বোধন হয়। পুরনো শাস্ত্রমতে দেবীর বোধন হয় বিল্ববৃক্ষে বা বিল্বশাখায়। অন্যদিকে সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত প্রতিমায় দেবীর অর্চনা করা হয়ে থাকে সপ্তমীতে অন্যতম অনুষ্ঠান নবপত্রিকা প্রবেশ কদলী বৃক্ষসহ আটটি উদ্ভিদ এবং জোড়াবেল একসাথে বেঁধে শাড়ি পরিয়ে বধূর আকৃতির মতো তৈরি করে দেবীর পাশে স্থাপন করা হয়, প্রচলিত ভাষায় একে কলাবউ বলে। পূজার অষ্টমীতে বিশেষ অনুষ্ঠান অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিতে দেবীর বিশেষ পূজা ‘সন্ধিপূজা’।

কুমারী পূজা

অষ্টমী তিথিতে কোনো কুমারী বালিকাকে পূজা করা হয়। দক্ষিণ ভারতে কন্যা কুমারীর মন্দিরে কুমারী প্রতিমা পূজা দেবী দুর্গারই ঐতিহ্যবাহী। তান্ত্রিক মতবাদের প্রতিফলন কুমারী পূজা সব শক্তিপীঠেই হয়। ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে ১৮ অক্টোবর স্বামী বিবেকান্দ বেলুড় মঠে প্রথম দুর্গাপূজায় কুমারী পূজা করেছিলেন।

কুমারী পূজা মাতৃভাবে ঈশ্বরেরই আরাধনা। কুমারী কন্যাকে জীবন্ত প্রতিমা করে তাতে জগজ্জননীর উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন। দুর্গাপূজার অষ্টমী বা নবমীতে সাধারণত ৫ থেকে ৭ বছরের একটি কুমারীকে প্রতিমার পাশে বসিয়ে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। দুর্গাজ্ঞানে পূজা করে সবার মধ্যে মাতৃভাবেরই সঞ্চার করা হয়। প্রায় সর্বজাতীয়া কণ্যাকেই কুমারী রূপে পূজা করা হয়। তবে স্বত্বগুণ সম্পন্না-শান্ত, পবিত্র, সত্যশীলা এসব দৈবী সম্পদের অধিকারিণী কুমারীই জগজ্জননীর প্রতিমা রূপে গ্রহণের বিধি আছে। পাখি যেমন একটি ডানায় উড়তে পারে না, সমাজও তেমনি পুরুষ শক্তি দ্বারা চলতে পারে না। কুমারী পূজা নারীকে মূল্যায়নের একটি সর্বোচ্চ শাস্ত্রীয়বিধি। সমগ্র বিশ্বে এই নারী মূর্তি মহামায়া রূপে প্রকাশিতা এবং ইহারই মাতৃকাশক্তি কুমারী রূপে ঈশ্বরেরই আরাধনা।

নবমীতে হোমযজ্ঞের দ্বারা পূজার পূর্ণহুতি দেয়ার রীতি। দুর্গাপূজায় দশমী তিথিতে হয় দেবীর বিসর্জন। পূজায় দশমী তিথি বিজয়া দশমী নামে খ্যাত। হিন্দুদের প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে এই দিনে শ্রীরামচন্দ্র কর্তৃক রাবণ নিহত হয়েছিলেন।

একই কারণে স্বর্গমর্ত্যওে দুর্দিনে দুর্গতিনাশিনী দুর্গার আবির্ভাবও হয়েছিল। সব দেবতার সম্মিলিত তেজ সৃষ্টি করেছিল মহামায়াকে। আবার সেই শক্তি বলীয়ান হয়েই দেবী চণ্ডী অশুভকে বিনাশ করে স্বর্গ মর্ত্যে ন্যায় আর শান্তি প্রতিষ্ঠা করে ধর্মের অন্তর্নিহিত অর্থকেই আবার ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছিল।

প্রতি বছর মা আসেন, ভক্তের পূজা নিয়ে আবার ফিরেও যান কৈলাশে। শরতের কাশবনে যখন ফুলের শুভ্রতা, সনাতনী বাঙালিরা তখন প্রস্তুতি নেয় মা দুর্গাকে মর্ত্যে বরণ করার জন্য। মায়ের আগমনে সন্তানের আনন্দ। যে কোনো সংকটে একজন আরেকজনের পাশে দাঁড়াতে পারলেই শুধু সম্মিলিত শক্তিতে অসুর শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব। শরৎকালের দুর্গাপূজায় ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নিচু সবাই মিলিত হয় পরমানন্দে। মায়ের কাছে সন্তানের অধিকার সমান। কারণ তিনি বিশ্বজননী। দুর্গাপূজায় সব ধরনের লোকের আগমন হয়। এক কথায় বলা যায় সব স্তরের জনগণের মিলিত প্রয়াসই দুর্গাপূজা। সবার মিলনই দুর্গাপূজার আসল রূপ। তাই তো দুর্গাপূজা সার্বজনীনমহা মিলনোৎসব। বিশ্বমৈত্রী স্থাপনের নিমিত্তেই দুর্গাপূজা মানুষের মহামিলন তীর্থ। সনাতন ধর্মশাস্ত্রে দুর্গা নামটির ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে ‘দ’ অক্ষর দৈত্যনাশক, উ-কার বিঘ্ননাশক, রেফ রোগনাশক, গ অক্ষর পাপনাশক ও অকার ভয় শত্রুনাশক। তার মানেই দৈত্য, বিঘ্ন, রোগ, পাপ, ও ভয়-শত্রুর হাত থেকে যিনি রক্ষা করেন, তিনিই শ্রীদুর্গা। অন্যদিকে শ্রী শ্রী চণ্ডী অনুসারে এই দেবীই নিঃশেষ দেবগণ শক্তিসমূহ মূর্ত্যাঃ বা সব দেবতার সম্মিলিত শক্তির প্রতিমূর্তি। তিনি আমাদের দুর্গতি হতে ত্রাণ করেন বলেই দেবীর নাম হয়েছে দুর্গা।

দেবী মা দুর্গা ব্রহ্মশক্তি, স্বরূপিণী, তিনি বিভাসিতা মাতৃশক্তি, তিনি জগজ্জননীরূপে সর্বভূতে বিরাজমান। তিনি সব প্রাণীতে চেতনারূপে, বৃদ্ধিরূপে, শক্তিরূপে, শান্তিরূপে, শ্রদ্ধারূপে, দয়ারূপে ইত্যাদি নানা রূপে বিরাজিতা। সর্ব প্রকার অকল্যাণের হাত থেকে তিনি আমাদের অর্থাৎ তার সন্তানদের রক্ষা করে থাকেন, শাস্ত্রমতে দেবতা ও অসুরদের সংগ্রামে শরণাগত শুভবুদ্ধি ও কল্যাণকামী দেবতাদের তিনি সব সময় বরাভয় দান করেছেন। প্রাচীনকালে রাজা, জমিদার আর ধনাঢ্য বণিক সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যেই এ পূজার প্রচলন বেশি লক্ষণীয়। বহুকাল থেকে আর্থিকভাবে সচ্ছল ও ধনী ব্যক্তিরাই পারিবারিকভাবে বংশপরম্পরায় দুর্গাপূজা করে আসছেন। আমাদের দেবগণ নিজ নিজ দেহ নিঃসৃত তেজ দ্বারা যেমন দেবীর অঙ্গ সব সৃষ্টি করে তাকে পূর্ণ রূপ দিয়েছিলেন, সেভাবেই তারা নিজ নিজ শ্রেষ্ঠ অস্ত্রও তাঁর হাতে তুলে দিয়ে তাকে করেছিলেন রণসাজে সজ্জিতা। দেবতারাও দেবী দুর্গার হাতে যেসব অস্ত্রশস্ত্র তুলে দিয়েছিলেন সেগুলো হলো দেবাদীদেব মহাদেবের ত্রিশূল, কালদেবতার খড়গ, ভগবান বিষ্ণুর চক্র, পবণ দেবতার তীক্ষè বাণ, জলদেবতা বরুণের পাশ, পবনদেবের বাণপূর্ণ দুটি তুণীর, অগ্নি দেবতার শক্তি, দেবরাজ ইন্দ্রের বজ্র, মৃত্যুদেবতা যমের কালদণ্ড, বিশ্বকর্মার উজ্জ্বল কুঠার। এসব অস্ত্রই অসুরদের সাথে যুদ্ধে দেবী দুর্গা ব্যবহার করেছিলেন।

বহুকালের প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই চলে আসছে মাতৃপূজার চিরন্তন ধারা এবং এটি যে কত প্রাচীন তা আজো রহস্যাবৃত। সুদূর অতীতের কোনো ধূসর প্রদোষে মাতৃরূপিণী, শক্তিরূপিণী, বরাভয়প্রদায়িনী, দুর্গতনাশিনী দুর্গাপূজার হয়েছিল প্রথম প্রচলন তা আজো হয়নি নির্ণীত। মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পায় খনন কাজের ফলে প্রাগবৈদিক যুগের যে নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে তাতে সে যুগেও যে মাতৃপূজা প্রচলিত ছিল, তার সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।

দশভুজা মায়ের দশটি হাত দশ দিকের প্রতীক। অর্থাৎ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সর্বত্রই ঈশ্বর বিরাজমান। মা দাঁড়িয়ে আছেন ত্রিভঙ্গ ভঙ্গীমায়। তা হলো সৃজনী, পালনীত ও সংহারী শক্তির প্রতীক- অর্থাৎ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রতীক তাহলে দেখা যাচ্ছে যে যিনি ব্রহ্মারূপে সৃষ্টি করেন, বিষ্ণরূপে পালন করেন শিবরূপে তিনিই বিশ্ব প্রসারিণী, মাতৃরূপিনী শ্রী শ্রী দুর্গা।

আমরা সবাই আমাদের দুর্গা মাকে বরণ করবো, তার পূজা করে স্মরণ করবো আর কামনা করবো মা যেন আমাদের বিপথ থেকে সব সময় রক্ষা করে। আমরা সবাই যেন সবার জন্য সুখে দুঃখে এগিয়ে আসতে পারি, সবাই দুঃখ কষ্ট ভাগ করে নিতে পারি। দুর্গাপূজার আনন্দ যেন সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারি। আমাদের মধ্যে হিংসা, হানাহানি সব বিভেদ ভুলে গিয়ে আমরা সবাই যেন বন্ধু হতে পারি। তবেই দেবী দুর্গতি নাশিনী আমাদের মাঝে আসবেন, অসুরকে নাশ করবেন, আমরা সবাই শান্তি ফিরে পাবো।

‘মা দুর্গা তুমি জগৎ জুড়িয়া আছ। তুমিই সব শক্তি ও গুণের আধার স্বরূপিণী, তুমি শরণাগত পালিনী, যে তোমার শরণ সকালে লয়, তুমি তাহার দুঃখ দূর কর। সম্পদ, মহাবিদ্যা, লজ্জা, পুষ্টি, শ্রদ্ধা, তুষ্টি, সবই তুমি। তুমি প্রলয় রাত্রি, তুমি নিয়তি তুমি সর্বময়ী ও শক্তিময়ী। তুমি প্রসন্ন হইলে সব বিপদ কাটিয়া যায় আর তুমি রাগ করিলে বিপদ ঘটে, মনের সকল বাসনা বিফল হয়।

মা আমাদের শত্রু বিনাশ করিয়া তুমি আমাদিগকে বিপদ হইতে এতদিন বাঁচিয়েছ, তেমনি ত্রিভুবনের সকল দুঃখ বিপদও তুমিই সব সময় দূর করিও মা এই আমাদের প্রার্থনা।’

শারদীয় আয়োজন ২০১৬'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj