অন্য নীড় : তাহমিনা কোরাইশী

সোমবার, ৪ জুলাই ২০১৬

কিছুতেই যে স্বস্তি মেলে না শান্তনুর।জীবনের বাঁক ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত এতটুকু শান্তির আশায়। বিশ্বাসের আশ্রয়স্থল পুড়ে ছাই হয়ে যায় হীরকখণ্ডের আশায়। হাত বাড়ালেই পায় না কাউকে কাছেপিঠে, মা-বাবা, ভাই-বোন কাউকে না। তাদের মোহজাল থেকে নিজেকে নিজেই উদ্ধার করেছে অবশ্য।

কেন করেছে? নিজের স্বার্থে, নাকি পরিবেশ বাধ্য করেছে তাকে! একাকীত্বের মাঝে সুখ কোথায়, শুধু অন্তরজ্বালা। তবুও মানুষ মানতে পারে না পরাজয়। কারো করুণায় বেঁচে থাকার নাম জীবন- শান্তনু বড়ুয়ার কাম্য নয়। সবসময় যে সে নিজের ডিসিশন ঠিক বলে জেনেছে তাও কিন্তু না। তবুও নিজের বিবেকের কাছে জয়ী থাকা যায় বলেই গৃহকারাগার থেকে বেরিয়ে পড়েছে। দুঃখ ঘিরে রেখেছিল পায়ে পায়ে। সুখ কখনও ছিল না তাও কিন্তু নয়। দুঃখ বোধ থেকেই জন্ম নিয়েছে ত্যাগের। যে সম্পর্কে ছিল শুধু লাঞ্ছনা, সেই সম্পর্কে কেন পুঁজি করে পথচলা। অসচ্ছলতায় জীবন টেনে চলা তাও ভালো। পায়ে বেড়ি বেঁধে ক’কদম পথচলা যায় আর! বিবেক নতজানু হবে না কখনও কারো কাছে। সে তার পিতামাতাই হোক না কেন! না বোঝার ভানে অনেকটা সময় পার করেছে।

আর নয়। শান্তনু পারছে না আর মনের সাথে যুদ্ধ করতে। মাকে বেশি মনে পড়ে শান্তনুর। সে তো বেশ আগের কথা। প্রায়ই রাতে একলা নির্জনে মা কাঁদতেন। সে কান্না বোঝার বয়স তখনও ছিল না ছোট্ট শান্তনুর। এখন এর মধ্যে যোগ হয়েছে অভিজ্ঞতা আর বয়স। যদিও তেমন বয়স হয়নি শান্তনুর তবুও বোঝে কতটুকু কষ্টে রক্তক্ষরণ হয় বুকে জমে থাকা ব্যথার। মায়ের জন্য কষ্ট হয়। সংসার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার যোগ্যতা, সামর্থ্য কিছুই নেই মায়ের। এই সংসারে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যু ছাড়া কিছুই নেই তার।

এই মায়ের ঘরেই জন্ম দুটো সন্তানের। বড় মেয়ে শান্তনু বড়–য়া, ছোট্ট ছেলে অনিক বড়–য়া। ছিল দুই ভাইবোনের সুন্দর সংসার। হঠাৎই একদিন বাবা সাথে করে নিয়ে এলেন দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রসঙ্গ জানা নেই। কোন অপরাধে ছিল মায়ের এমন শাস্তি? মায়ের শোবার ঘরটি ঐ মহিলার দখলে। নিজবাসে পরবাসী। মা মুখ বুজে সয়েছে নিত্যদিনের অপমানিত করুণ গাথা। তখন শান্তনু আর অনিকের তেমন বোঝার বয়স হয়নি। তবুও নারী যে মায়ের জাত। বুদ্ধি-বিবেক সবই যেন আগেই প্রাপ্তি ঘটে শান্তনুদের। তখন থেকে বাবাকে ঘৃণা করা এবং মায়ের জন্য সহানুভূতির জন্ম আরো দ্বিগুণ হয়েছে। মায়ের সাথে বাবার দূরত্ব আরো বেড়েছে। দূরত্ব বেড়েছে শান্তনু আর অনিকের সাথেও। প্রয়োজনের বেশি কথা নয়। স্কুলের বেতন, বইখাতা, রিকশাভাড়া এই তো চাহিদা ওদের। ঐটুকু চাওয়া-পাওয়ার মাঝেই ব্যাপ্তি ওদের জীবন চাকার। ভীষণই পীড়া দেয় শান্তনুর দাঁড়ানোর যোগ্যতা যতদিন না হয়। মায়ের আঁচলের ভালোবাসার প্রলেপ সব ভুলিয়ে দেয়। সে বোঝে মায়ের ব্যথা। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অবহেলা। তবুও প্রতিবাদের ভাষা জানা নেই। জানা থাকলেও অক্ষম অপারগ শান্তনু। কিছুই এখন করার নেই। কীভাবে ফিরিয়ে দেবে স্ত্রীর অধিকার তার স্বামীর কাছ থেকে। কীভাবে বলবে এ অন্যায়। মা মনিকা চোখাচোখি হতে পারে না মেয়ের। কারণ শান্তনু যে পাকা বুড়ি, সবই বোঝে। শান্তনু জেনেছে মায়ের যাওয়ার জায়গা নেই। তেমন অবস্থাসম্পন্ন বাড়ির মেয়ে না। তার বাবারও অবস্থা তেমন ভালো ছিল ন। অভাবী ঘরের সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। তাই মা জানে না প্রতিবাদের ভাষা। ছেলেমেয়ে দুটোকে নিয়ে যাবে তো, কোথায় যাবে? ওদের লেখাপড়া, খাওয়া-থাকা কী করে চলবে? মাথায় নেই বিদ্যা। শেখেনি তেমন কাজ। শুধু জানে একটি কাজ- রান্না। রান্না করে টেবিল সাজিয়ে দেওয়াই তার এখন কাজ। কলুর বলদ, শুধুই ঘানিটানা। তবুও মুখ বুজে থাকে ছেলেমেয়ে দুটো মানুষ হোক এই আশায়। শান্তনু ভাবে এমন পরিবেশে মানুষ অসুস্থ হয়ে যাবে। ও পারে না সহ্য করতে। মায়ের শোবার ঘরে অন্য মহিলা। মা বলেন- তোমাদের দ্বিতীয় মা। শান্তনুর ভীষণ কষ্ট হয়। এতই যদি শখ ছিল বিয়ে করার, তবে অন্য বাড়িতে তাকে রাখলেই হতো। এইসব দৃশ্য তো দেখতে হতো না। কারো অসুবিধা হতো না। অর্থ-প্রতিপত্তির জন্যই এই দ্বিতীয় বিয়ে। মহিলাটি তেমন সুন্দরীও নয়। অর্থই ওর গুণের মাপকাঠি। মনিকা ভাবে দ্বিতীয় স্ত্রী এনেছে সম্পত্তি, ঘরে লক্ষী। মনিকার তো দশকুলে কেউ নেই। একমুঠো চালও দিতে কারো সামর্থ্য নেই। মনিকা দিয়েছেন দুটো সন্তান। আর হেঁসেল বিদ্যা ছাড়া আর কোনো বিদ্যাই নেই মনিকার। টেবিলে স্তরে স্তরে রান্না করে সাজিয়ে দিতে জানে। পাশে বসে খেতেও জানে না। আজকাল তো আরও দূরে সরে থাকে। কখনও স্বামীর চোখাচোখি বা মুখোমুখি হতে চায় না।

বাচ্চাদের সাথে দিন পার করে দেয়। ওদের দুটিকেই নিয়ে সারাবেলা কাটিয়ে দেয়।

যতই দিন যায় বাবার প্রতি বিতৃষ্ণা আরও বেড়ে যায় শান্তনুর। নিজেকে না গুছিয়ে বাড়ি চাড়তেও পারছে না। মাঝে মাঝে বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী তার বাবার বাড়ি যায়। তখন দুপুর-রাতে মাকে ডাকতে আসে তার শোবার ঘরে চোরের মতো। কাঁটা হয়ে শুয়ে থাকে শান্তনু। ঐ লোকটার প্রতি আরও তীব্র ঘৃণা জন্মে ওর। মা কেমন অবলীলায় তার পিছুপিছু নিঃশব্দে চলে যায়। শান্তনুকে ভীষণ পীড়া দেয়। সকালে মায়ের চোখে চোখে রেখে শান্তনু বলে- ঐ লোকটাকে এত ভয় পাও কেন?

ছিঃ ছিঃ তোর বাবা না। এমনভাবে কথা বলে না!

রাগে-অভিমানে শান্তনু বলে- চলো মা, আমরা এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাই অন্য কোথাও। তুমি সেলাই করে কিছু উপার্জন করবে। আমি টিউশনি করব কোনোরকমে দিন কেটে যাবে।

মায়ের বোবা দৃষ্টি। তবুও বলে, আমার এত সাহস নেই তোর মতো। তবুও একটি গৃহকোণ আছে। মাথার ওপর ছাদ আছে। তোদের দুটোকে নিয়ে বেঁচে আছি। তুই বড় হবি, তারপর কিছু করিস। তখন তোর হাত ধরে চলে যাব। তবুও এখন তো একটি সংসার আছে। সে যেমনই হোক।

শান্তনু-এটা সংসার? তোমার মনে হয় না তুমি পরাধীন।

মা- সবই বুঝি। তবুও অনিকের দরকার আছে আমাকে। সৎমায়ের সংসারে ওর কষ্ট হবে। ও বড় হোক, তারপর ভাবা যাবে কী করব? এখন এমনভাবেই চলুক, যেমন চলছিল।

মেয়ের ভেতরের আগুনে তেল দেয় না। পানি দিয়ে নেভানোর চেষ্টা করে। ছেলেমেয়েকে অনিশ্চয়তার জীবনে ঠেলে দিতে পারে না।

শান্তনু বলে- মা মানুষ কত কিছু বলে। আমার কষ্ট হয়। হায়রে অভাগা নারী। তুমি তোমার অস্তিত্বটুকুই হারিয়েছ, পরজীবী পরগাছা তুমি। নিজের বলতে কী আছে তোমার? কেন বোঝ না।

মনিকা দুঃখে-অভিমানে কাঁদতে থাকে আর বলে, বুঝি না, বুঝতে চাই না। আমার বিদ্যা নেই, বুদ্ধি নেই। কিছুই জানি না। শুধু জানি দুটো সন্তানের মা আমি। ওদের ভবিষ্যৎও আমার অহংকারে ক্ষতি করতে পারি না। মায়ের শেষ কথায় থমকে যায় শান্তনু। সত্যি তো আমাদের কারণেই বাকহীন জীব বোঝা টেনেই যাবে। আমাদের স্বার্থ ছাড়া আর কিছুই নেই এখন তার মাথায়, তার সামনে। মায়ের জন্য মায়া হয়। মাকে জড়িয়ে মায়ের সাথে চোখের জলে ভাসে নিজেও। মা আর ক’টা দিন। আমি ইন্টার পাস করেই ঢাকায় চলে যাব। তারপর নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে তোমাকে আর অনিককে নিয়ে যাব। হাসি মুখে মা বলে, আচ্ছা যাব তোর সাথে। যতদিন না যাওয়া হয় ততদিন তো এখানেই মুখ বুজে থাকতে হবে। তাই নয় কি?

মাকে বোঝানো মুশকিল। কতবার বলেছি বাড়িতে এমন নোংরামি ওর ভালো লাগে না।

মা বলেছে সে তো তোর বাবার বিয়ে করা বউ। চিৎকার করেছে শান্তনু, তুমি তোমার দেবতুল্য স্বামীদেবকে নিয়ে থাকো। তোমার গণ্ডারের চামড়ায় হয় না ক্ষত এত অপমানের ঘায়ে? আমি তো আর বেশি দিন থাকলে এখানে পাগল হয়ে যাব।

খুব তাড়াতাড়ি যেন সময় ওর হাতের নাগালে এসে যায়। ইন্টারমিডিয়েট পাস করে। শান্তনু চট্টগ্রাম ছাড়ল। ঢাকায় কিছুদিন এক বান্ধবীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। তারপর কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে মল্লিকার মায়ের সহায়তায় জায়গা হয়ে গেল। পড়ালেখা, সাথে টিউশনি। এভাবেই হাড়ভাঙা খাটনিতে জীবন গড়ার প্রত্যাশায় ছুটে চলা।

বাবা খোঁজ করেছিল। ফিরে যেতেও বলেছিল। কী পরিচয়ে যাবে ঐ বাড়িতে। গৃহপরিচারিকার সন্তান হিসেবে। যেখানে মায়ের কোনো দাম নেই সেখানে সেও সম্মান নিয়ে থাকতে পারবে না। বাবা বলেছিল পরিচয়হীনভাবে বাঁচতে চাও? পৃথিবীটা এত সহজ নয়। পায়ে পায়ে বিপদ। বাবার হাতটুকু স্পর্শ করেনি। বলেছে, নিজের যোগ্যতায়ই বেঁচে থাকব। শিকড়ের সন্ধানে আর ফিরব না। আরো দূরে, আরো দূরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে শান্তনু। শুধু কষ্ট ছোট ভাইটি আর মায়ের জন্য। বাবার দ্বিতীয় স্ত্রীর দুটো মেয়ে হয়েছে। ছেলে তো ঐ একজনই, অনিক। মাঝে মাঝে মায়ের সাথে কথা বলে ফোনে। আগাম খবর দিয়ে জানিয়ে দেয় বান্ধবীর মাধ্যমে। ঐ সময়ে মায়ের সাথে ছোট্ট ভাইয়ের সাথে কথা হয়। বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। কথা সব বাষ্পিত হয়ে যায় কষ্টের আগুনে। মাকে সুখবর জানিয়ে দেয় স্কলারশিপ পেয়েছে উচ্চ শিক্ষার জন্য কানাডায় যাবে। ভীষণ ভালো রেজাল্ট করেছে শান্তনু। সত্যি একদিন পাড়ি জমায় কানাডার উইনসরে। উইনসর ভার্সিটিতে পড়াশোনা। উড়োজাহাজের মতো নিজের মনের পাখায় উড়তে উড়তে এসে পৌঁছাল স্বপ্নের রাজ্যে। পৃথিবীর বহু দেশের ছেলেমেয়েরা এখানে পড়তে এসেছে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান আরো অন্যান্য দেশে তো আছেই। ছোটবেলায় ওর মধ্যে যে পুরুষ জাতিকে ঘৃণা করার প্রচণ্ড প্রবণতা ছিল আস্তে আস্তে কিছুটা কমতে শুরু করেছে। মানুষকে কিছুটা হলেও বিশ্বাস করতে মন সায় দেয়, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ আর খ্রিস্টান সব ধর্মের ছেলেমেয়ে আছে। অনেক বন্ধু হয়েছে ওর। একাকীত্বে নির্বাসিত জীবনে বন্ধুদের আনাগোনা বেড়েছে। ওকে অনেকেই মনে করে মুসলিম। ওর মধ্যে চট্টগ্রামের পার্বত্য এলাকার ছাপ নেই। শান্তনু নামের সাথে বড়–য়াটা না জুড়ে দিলে কেউ বুঝতেই পারত না যে ওরা মুসলিম নয়। নানাবিধ সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা মেয়েটি সবার নজর কাড়ে পড়ালেখায়ও ভালো, আচার-ব্যবহারে খুবই সুন্দর।

ওর রুমমেট দু’জন বাংলাদেশি মুসলমান মেয়ে সাহানা এবং সাবরিনা। ওর সুখ-দুঃখের অংশীদার ওরা। এই তিনজন বেশ ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে যায়। কিছু কিছু ফ্যামেলি আছে যারা নিজেদের আইডেনটিটির জন্য মেয়েরা হেজব পরে ছেলেরা মুসলিম ড্রেস পরতে পছন্দ করে। মাঝে মধ্যে এমন অনেক আত্মীয় বাসায় সাবরিনা আর সাহানার সাথে যেতে হয় শান্তনুকে। আজকাল ওর ভালো লাগে মানুষকে এবং তাদের সাথে মিশতে। মনের মাঝে যে গোঁড়ামি নিয়ে এতদিন একাকীত্বের পথ বেছে নিয়েছিল, আজকাল তার অবসান ঘটাতে চায়।

শান্তনু পড়ছে, এর সাথে সাথে ভার্সিটিতে চাকরিও করছে। এখনই সময়, অনিক এবং মাকে আনার ব্যবস্থা করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে শান্তনু। ভীষণ মনে পড়ে ওদের, কতকাল দেখা হয়নি। ফোন করেছে বাবার কাছে। বাবা যা নয় তাই বলে ওকে বকে দিয়েছেন। বাবার ঘোর আপত্তি অনিকের ব্যাপারে। মাকে নিতে চাইলে নিতে পারে কিন্তু অনিক তার একমাত্র ছেলে, তাকে হাতছাড়া করবে না। তার বংশের একটি বাতি। একটি তো রক্ষা কবজ এই ছেলে। দুই স্ত্রীর মোট চারটি সন্তান, তার মধ্যে তিনটি মেয়ে। পুত্র বলতে তো ঐ একজন অনিক। বাবা কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে। এই ব্যাপার নিয়ে যেন বাড়াবাড়ি না করা হয়। নিজের চরকায় তেল দাও, অন্যের জন্য চিন্তা করতে হবে না। ওর বাবা এখনও বেঁচে আছে। ওকে নিয়ে কারো মাথাব্যথার প্রয়োজন নেই। আজ শান্তনু প্রতিজ্ঞা করেছে, আর নয় বাবা, মা, ভাই, বোন। এখন শুধু নিজের জন্য বাঁচবে। নিজেকে নিয়েই চিন্তা করবে। সাহানা-সাবরিনা ওকে আপন করে নেয়। ওর দুঃখ ভুলিয়ে দিতে মাঝে মাঝে বেড়াতে যায়। ওদের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতেও নিয়ে যায়। শান্তনুর মিষ্টি চেহারার ভদ্র আচার-ব্যবহারে সবারই মনে জয় করে নেয়। প্রায়ই বিয়ের প্রস্তাব পায় শান্তনু। বেশিরভাগই মুসলিম ছেলে। কিন্তু যখন জানতে পারে সে বৌদ্ধ তখন আর এগুতে পারে না। এভাবেই অনেক ছেলেই হাতছাড়া হয়ে যায় ওর। ওরও পছন্দের ছেলেদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে না- সামনে এসে দাঁড়ায় ধর্ম।

শীত এখনও জমে বসেনি। পথে, বাড়ির ছাদে বরফ জমতে বেশ দেরি। জুলাই-আগস্ট হবে। গাছে গাছে পাতার রং বদল। এক অপরূপ রূপে সাজে এখনকার পরিবেশ, মিষ্টি বাতাস। মন হালকা হাওয়ায় উড়ে যেতে চায়। তেমনি এক মুহূর্তে পরিচয় অতুলের সাথে। অনেক বসন্ত চুপিসারে চলে গেছে। সুন্দর অনুভূতিগুলোর অপমৃত্যু কিন্তু এখন মন চায় কিছু কথা বলতে, কিছুটা সময় হারিয়ে যেতে এই বসন্তে। অতুলের কাছে ধর্ম কোনো মুখ্য বিষয় নয়। মানুষ মানুষের জন্য। বিধাতার অমূল্য সম্পদ। অতুল ওকে বিশ্বাস দিয়েছে। দিয়েছে গভীর ভালোবাসা। সুপ্ত প্রেমে প্রাণ দিয়েছে। পৃথিবীর সব পুরুষই বাবার মতো নয়। এই বিশ্বাস জন্মেছে। ওর মুখের দিকে চেয়ে থাকে শান্তনু মন্ত্রমুগ্ধের মতো ওর কথা শোনে আজকাল। ওর স্পর্শে জাদু আছে। প্রাণশক্তি আছে। ওর কথা সব দুঃখ-কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। রংধনুর সাত রং ওকে আরো বর্ণিল করেছে। অতুল তার বিশাল মনে ওকে ঠাঁই দিয়েছে। বেলী, বকুল, গোলাপ, দোলনচাঁপার সুগন্ধে মৌ মৌ করে ওর বাতাস। ওর মনে হয় বাংলাদেশ থেকে ওর জন্য উড়ে এসেছে এই ফুলের সুবাস অতুল নামের একটি ফুলের সাথে। শান্তির শ্বেত কপোত হয়ে একদিন ওরা বিয়ে করে বিশ্বাসের পালকিতে চড়ে অতুলের গৃহে প্রবেশ। আজ আর ওর দুঃখগুলো দাঁড়কাক হয়ে ডাকে না। অতুলের ভালোবাসায় এতই মধুর বিচ্ছুরণ। পূর্ণতার নাগরদোলায় এ জীবন দোল খায়।

তবুও কিঞ্চিৎ দুঃখবোধ হৃদয়ের একটি কোণে নীরবে বসতি গাড়ে। একান্ত একাকী মুহূর্তে শান্তনুকে পোড়ায়। হ

ঈদ আয়োজন ২০১৬'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj