সুখ…

শনিবার, ১১ জুন ২০১৬

** সাঈদ সাহেদুল ইসলাম **

সিয়াম চৌধুরী বিয়ের পর কেটে গেছে দশ বছর। তখন থেকে আর ঘুমাতে পারে না সে। মনে সুখ নেই। অসুখটা পারিবারিক নয়, ব্যবসায়িক।

এতগুলো শিল্প কলকারখানা চালানো যেন তার পক্ষে কঠিন হয়ে গেছে। বাবার থেকে পাওয়া সম্পদের ওপর শ্বশুরের সম্পদের চাপ- ঠিক যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। এত সম্পদ কী করবে সে? রাত এগারোটা বেজে গেছে। এখনো বাসায় ফিরতে পারেনি সে। বাসায় ফিরেই বা কি করবে?

ঘুম তো হারাম হয়েছে তার। সম্পদের হিসেব আর মাথায় ধরে না। ঘুমের ওষুধও শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে যেন।

সোয়া এগারোটায় তার রুম থেকে বের হয়ে ড্রাইভারকে ফোন দিল সিয়াম চৌধুরী।

লিফট বেয়ে নিচে নামতেই ড্রাইভার সামনে হাজির, ‘স্যার সবই তো ঠিক ছিল। এখন কেন জানি কাজ করছে না।

কোথাও কোনো সমস্যা পাচ্ছি না, কিন্তু গাড়ি স্টার্ট নিচ্ছে না স্যার।’

সিয়াম চৌধুরীর মনটা খারাপ হয়ে গেল। বললেন, ‘সমস্যা তো গাড়ির নয়, সমস্যা আমার কপালের। যাও, ঠিক করে নিয়ে এসো।’ বলেই কারখানার গেটম্যানকে গেট বন্ধ করে ইশারায় কাছে ডাকল।

গেটম্যান দক্ষিণ পাশটা দেখিয়ে দিয়ে সিয়াম চৌধুরীর কথার জবাব দিল, ‘স্যার, কর্মীরা সবাই এখানেই থাকে, আপনি যেভাবে বলেছেন আর কি। সবই আপনার দয়া স্যার।’ মেইন গেটে তালা থাকায় কারখানার কর্মীদের এ রুমটায় তালা দিতে হয় না। শ’খানেক কর্মী, যারা সিয়াম চৌধুরীর কারখানায় কাজ করে, রাতে এখানেই ঘুমায়।

সিয়াম চৌধুরী এগিয়ে গেলেন। গেটম্যানের দিকে তাকাতেই লজ্জা পেল গেটম্যানও। ‘কী বলব স্যার, কারো পরনের কাপড় ঠিক নেই। সবাই আরামে ঘুমাচ্ছে, সুখের ঘুম স্যার।

সারাদিন গাধার মতো খেটে, ক্লান্ত হলে মানুষ এভাবেই ঘুমায়। পাছায় লাত্থি দিলেও জাগবে না স্যার।’

সিয়াম চৌধুরী মনে মনে ভাবছে, ‘এত সম্পদ থেকে কী লাভ তার, যদি ঘুমাতেই না পারি?

ইশ, তাদের মতো যদি ঘুমাতে পারতাম! সুখ নামের কোনো দিবস আছে কি? সেটা কবে? আমার কাছে কবে আসবে সেটা?’

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj