মাহে রমজান ও বাত ব্যথা

শুক্রবার, ১০ জুন ২০১৬

রহমতের মাস রমজান, এই মাসে রোজা রাখার পাশাপাশি সালাতুত তারাবির নামাজ রোজাদারদের জন্য সওয়াব হাসিলের একটি অন্যতম উপলক্ষ। কিন্তু অনেক বাত-ব্যথা রোগী বিশেষ করে যারা হাঁটু বা কোমর ব্যথায় আক্রান্ত তারা এ সময় বেশ অসুবিধায় পড়ে যান। তাই তাদের জন্য বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। যারা দাঁড়িয়ে নামাজ পড়লে খুব বেশি সমস্যা বোধ করেন তারা বসেই নামাজ পড়ুন। যাদের খুব বেশি সমস্যা হয় না তারা ফরজ নামাজ স্বাভাবিক নিয়মে এবং বাকি নামাজ বসে পড়তে পারেন। তবে যারা ব্যথা থাকা সত্ত্বেও স্বাভাবিক নিয়মে নামাজ আদায় করলে কোনো ধরনের অসুবিধা বোধ করেন না তারা স্বাভাবিক নিয়মেই সব নামাজ আদায় করুন। মনে রাখবেন নামাজ শ্রেষ্ঠ এবাদত, শ্রেষ্ঠ ব্যায়াম।

ব্যথা তীব্র হলে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো ইন্টিগ্রেটেট পেইন ম্যানেজমেন্টের (আইপিএম) আওতায় চিকিৎসা নেবেন। অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন ফিজিওথেরাপি রোজার কোনো ক্ষতি করে কিনা, উত্তর হলো- না। রোজা থেকে ফিজিওথেরাপি নেয়া যাবে এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে রমজান মাসে ব্যথার ওষুধ সেবনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সারাদিন রোজা রাখায় পাকস্থলী খালি থাকে ফলে ব্যথার ওষুধ পাকস্থলীতে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে অথবা শরীর দুর্বল করে দিতে পারে। এছাড়াও অনেক সময় রোগীকে ইনফিল্ট্রেশন দিতে হয়। সেক্ষেত্রে ইফতারের পর ইনফিল্ট্রেশন দেয়াই উত্তম। ব্যায়ামের ক্ষেত্রেও রমজান মাসে অনেকেই সময় বের করতে পারেন না। এক্ষেত্রে উপদেশ থাকবে সাহরির আগে আর ইফতারির দুই ঘণ্টা পরে ব্যায়াম করুন, শরীর ঝরঝরে থাকবে এবং ব্যায়ামের কারণে কোনো দুর্বলতা বোধ করবেন না। কোমরে বেল্ট পরে বা হাঁটুর ক্যাপ পড়ে নামাজ পড়বেন না, এতে অস্বস্তি আরো বাড়বে। যাদের ওজন বেশি তাদের জন্য রমজান ওজন কমানোর জন্য একটি বিরাট নেয়ামত। পরিমিত খাবার গ্রহণ করে এই এক মাসে ওজনটা কমিয়ে নিতে পারেন। নিয়মিত চিকিৎসা ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করে আপনার স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে পারে। তাই ব্যথার রোগীরা এই সময় একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

খোশ আমদেদ মাহে রমজান।

হ ডা. মোহাম্মদ আলী

বিভাগীয় প্রধান, ফিজিওথেরাপি বিভাগ

উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj