শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু নেই আর নেই

শনিবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৬

দীপক চক্রবর্তী, মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু নেই আর নেই। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়া, জনবল সংকটসহ নানা কারণে বেহাল অবস্থায় পড়েছে সেখানকার স্বাস্থ্যসেবা।

সরজমিন হাসপাতালে গিয়ে জানা গেছে, শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০০৯ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাস্তবে ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে স্বাস্থ্যসেবা।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু করতে একজন রোগীর জন্য বছরে ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন। এর পাশপাশি উপজেলা কমপ্লেক্সে ২২ জন ডাক্তারসহ মোট ৭৫ জন জনবল প্রয়োজন। কিন্তু দাপ্তরিকভাবে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও ৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও ৫০ শয্যার স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও জনবল অদ্যাবধি পাওয়া যায়নি।

শুনতে আশ্চর্য হলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ওষুধ সংরক্ষণের জন্য কোনো কক্ষ বা গুদাম নেই। ফলে সাধারণ একটি কক্ষেই কোনো মতে ওষুধ রেখে রোগীদের সরবরাহ করা হয়। এ প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে সংকট এবং বঞ্চনার এসব কথাগুলো জানালেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সাদউল্লাহ।

শুধু তাই নয়, এই ৩১ শয্যার ১০৮ জন জনবলের বিপরীতে এখানে ৪২টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দুটি পদ রয়েছে শূন্য। চিকিৎসক পদের ১১ জনের বিপরীতে রয়েছে মাত্র ৬ জন। মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচিসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য ২৪জেন স্বাস্থ্য-সহকারীর ১০টি পদেই কোনো জনবল নেই। এ ছাড়া নার্স নেই ৮ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগী বহনের জন্য একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে গ্যারেজে পড়ে আছে। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স চালক আবু জাফর ২০০৮ সাল থেকে সাময়িক বরখাস্ত রয়েছে। অফিস সহকারী, এমএলএসএসসহ মোট ৪২টি পদেও কোনো জনবল নেই।

এসব সমস্যা ছাড়াও যে সমস্যাটি প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে তা হলো হাসপাতালে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটির বেহাল অবস্থা। ভগ্নদশা এ রাস্তা দিয়ে রোগী আনা-নেয়া সম্পূর্ণভাবেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র মতে, ২০০৬ সালে ৪ কোটি ১৮ লাখ ৯ হাজার ২৬৩ টাকা ব্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ওই বছর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০০৯ সালে শেষ হলে এটি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর কারা হয়। ওই সময় এটি উদ্বোধন করে ৫০ শয্যা চালু করার জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু জনবল নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় কাগজে-কলমে ৫০ শয্যা হিসেবে চালু করা হলেও ৩১ শয্যার বরাদ্দ দিয়েই চলছে স্বাস্থ্যসেবার কাজ। এ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে রোগীদের যেতে হচ্ছে মাগুরা সদর হাসপাতাল কিংবা অন্য যে কোনো জেলার হাসপাতালগুলোতে।

চিকিৎসা-বঞ্চিত জনসাধারণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ বেহালদশায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। তাদের মতে, ৫০ শয্যায় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, লোকবল নিয়োগ ও আধুনিক চিকিৎসার যন্ত্রপাতি স্থাপন শেষে এই মুহ‚র্তেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা পুলুম গ্রামের আসাদ, শুরশুনা গ্রামের মঞ্জুরা বেগম, দশপাখিয়া গ্রামের রোকাইয়া খাতুন, মুধুখালী এলাকার শিখা বেগমসহ অনেকে জনান, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তারসহ বিভিন্ন সংকট থাকার পাশাপাশি যাতায়াতের রাস্তাও ভেঙে গেছে। সে কারণে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে রোগীদের চিকিৎসা নিতে মাগুরা সদর হাসপাতাল কিংবা যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে দৌড়াতে হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতের একমাত্র পথটি দ্রুত সংস্কারসহ ৫০ শয্যার জন্য লোকবল ও অর্থ বরাদ্দ দিয়ে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্র্মকর্তা ডা. সাদুল্লাহ বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যা হিসেবে পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন আছে। কিন্তু কোনো অর্থ বরাদ্দ বা জনবলের অনুমোদন নেই। এ কারণে ৩১ শয্যার জনবল ও বরাদ্দ দিয়ে এটি চালাতে হচ্ছে। এ ছাড়া ৩১ শয্যার অর্থ বরাদ্দ থাকলেও ডাক্তারসহ জনবল সংটক সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ৫০ শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ বা জনবলে অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

বিশেষ সংখ্যা : খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন-২০১৬'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj