যাত্রীবাহী বাসে ঝুঁকিপূর্ণভাবে আসামি পরিবহন : ২৯ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি পাইকগাছা উপকারাগার

শনিবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৬

বাবুল আকতার, খুলনা থেকে : খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় সাব-জেল নির্মাণের ২৯ বছর পার হয়ে গেলেও তা এখনো পর্যন্ত চালু হয়নি। দীর্ঘদিন পতিত ভবনটি বর্তমানে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দখল নিয়ে কোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহার করছে।

ফলে পাইকগাছাবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন, সাব-জেল বাস্তবায়ন শুধু স্বপ্নই রয়ে গেছে। অন্যদিকে ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যাত্রীবাহী বাস ও পুলিশ প্রিজন ভ্যানে দাগি আসামি সরবরাহে নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি সরকার নিয়মিতভাবে আসামি পরিবহন খাতে গচ্চা দিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।

নিরাপত্তা ঝুঁকিসহ বহুবিধ ভোগান্তির কথা চিন্তা করে গণদাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন সরকার ১৯৮৪ সালে পাইকগাছায় সাব জেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তার ধারাবাহিকতায় ১৯৮৫ সালে উপজেলা সদরে অবস্থিত দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতের ঠিক পেছনে ২.২২ একর জমি অধিগ্রহণ করে ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে সেখানে শুরু হয় সাব জেল নির্মাণের কাজ। যা শেষ হয় নির্ধারিত ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরেই।

নির্মাণ পরবর্তী একজন নিরাপত্তারক্ষীও নিয়োগ দেয়া হয় সেখানে। কিন্তু জেলখানার কার্যক্রম মূলতঃ এখানেই থমকে যায়। এমনকি পরবর্তীতে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগও দেয়া হয়নি সেখানে। এভাবে দীর্ঘদিন ভবনটি পড়ে থাকায় উপজেলাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে এতিমখানা চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার। এতিমখানা হিসেবে চালুর তারিখ নির্ধারণপূর্বক গণপূর্ত বিভাগের কাছ থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তর স্থাপনাটির দায়িত্বও বুঝে নেয়। ভবনটি এতিমখানা হিসেবে চালুর উপযোগী করতে সে সময় জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কারের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৩ লাখ টাকা ও আরো ৩ তলা একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

২০০৭ সালের দিকে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে সর্বশেষ এতিমখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু সে উদ্যোগও এক অজ্ঞাত কারণে থমকে যায়। লাল ফিতায় বন্দি হয়ে পড়ে এতিমখানা স্থাপন কার্যক্রম। জেলা সদর থেকে ৬৬ কিলোমিটার পাইকগাছা, আর কয়রার দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে যাত্রীবাহী বাস ও পুলিশ প্রিজনভ্যানে আসামি আনা-নেয়ায় দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে উপ-কারাগার প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীতে এতিমখানা বাস্তবায়নও থমকে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলাবাসী।

এ ব্যাপারে পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির ক্রীড়া সম্পাদক এড. দীপঙ্কর সাহা দিপু বলেন, যে কোনো মূল্যে সাবজেল বাস্তবায়ন দেখতে চাই। প্রয়োজনে আন্দোলনে যাব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিয়ুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলা-অযতেœ ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রশীদুজ্জামান মোড়ল বলেন, সার্বিক উপজেলার উন্নয়নে জনদুর্ভোগ লাঘবে উপকারাগার বাস্তবায়ন জরুরি। পাইকগাছা নাগরিক কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাগুলোতে সাবজেল অথবা এতিমখানা যে কোনোটির বাস্তবায়ন চাই। ভবনটিতে বর্তমানে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দখলে নিয়ে পরিবার পরিজনসহ কোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

বিশেষ সংখ্যা : খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন-২০১৬'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj