ঝিনাইদহের ১৫ নদ-নদী এখন ফসলের ক্ষেত

শনিবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৬

আব্দুর রহমান মিল্টন, ঝিনাইদহ থেকে : মাঠের পর মাঠ সবুজ ফসলের ক্ষেত, কিন্তু এগুলো এক সময়কার খরস্রোতা নদ-নদী। এখন শুধুই ফসলের ক্ষেত। ঝিনাইদহের বুকজুড়ে প্রবাহিত ১৫টি নদ-নদী বিলীন হয়েছে ফসলের ক্ষেতে, সেখানে এখন চাষাবাদ হয় ধান-পাট, পিয়াজসহ অন্যান্য ফসলের। জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত কালী, কুমার, ডাকুয়া, নবগঙ্গা, চিত্রা, বেগবতী, কপোতাক্ষ, ফটকি, ভৈরবসহ ১৫টি নদী সংস্কারের অভাবে ও মানবসৃষ্ট কারণে মরে গেছে। সেখানেও পানির অভাবে অগভীর নলক‚প বসিয়ে ধানক্ষেতে সেচকাজ চলছে। পানি না থাকায় নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ, ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ বিদায় নিয়েছে। নদী তীরবর্তী গ্রামের জেলেরা পেশা বদলাতে বাধ্য হয়েছে। যেসব নদীতে এককালে লঞ্চ-স্টিমার চলত সেসব নদীতে এখন একখানা নৌকারও দেখা মেলে না।ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে পলি জমে উৎসমুখ ভরাট, দীর্ঘদিন নদীগুলো পুনর্খনন না করা, নদীর উৎসমুখে ক্রসড্যাম (আরিবাঁধ) দেয়াসহ নানা কারণে ঝিনাইদহের সব নদীই এখন মৃত। মহেশপুরের চিত্রা নদীপাড়ের তালিনা গ্রামের আব্দুল মালেক, শৈলকুপার কালী নদীপাড়ের বৃদ্ধ জেলে দুর্লভ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, একসময় চিত্রা, কুমার নদীতে বড় বড় নৌকা চলত। ইলিশ মাছ পাওয়া যেত, লঞ্চ-স্টিমার চলত। এখন নদীতে মাছ মেলে না। জেলেরা মাছধরা পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছে। এক সময় নদীগুলোর দুই ক‚ল ছেপে গ্রামে পানি ঢুকে পড়ত, এখন পানির জন্য শুধুই হাহাকার। মিষ্টি পানির প্রবাহ না বাড়াতে পারলে এক সময় সাগরের লোনা পানিতে ছেয়ে যাবে খুলনার পার্শ¦বর্তী এক সময়কার বৃহত্তর যশোরের এ অঞ্চলের নদ-নদী। পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন এ অঞ্চলের পানিসম্পদ উন্নয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো প্রকল্প নেই। দীর্ঘদিন খনন না করায় নদীর বুকে চর ও পলি পড়েছে, ভবিষ্যতে খনন কাজের স্কিম পেলে উদ্যোগ নেবে পানি উন্নয়ন বোর্ড এমনটি জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার ভৌমিক।

বিশেষ সংখ্যা : খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন-২০১৬'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj