যেভাবে বাংলাদেশ আরো অগ্রসর হতে পারে

বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল ২০১৬

** রতনতনু ঘোষ **

স্বাধীন সার্বভোম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ অতিক্রম করেছে ৪৪ বছর। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ অনেক কিছুতেই অগ্রসর হয়ে সুনাম অর্জন করেছে। তবুও আরো অনেক অর্জনের বাকি রয়েছে। খাদ্যে স্বনির্ভর হওয়া, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজের অগ্রসর অবস্থান করে নেয়া বেশ ইতিবাচক। তৈরি পোশাক শিল্পে, নারীর ক্ষমতায়নে, বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রশংসনীয়। ক্রিকেট খেলায়, হিমালয় পর্বত আরোহণে বাংলাদেশ কুড়িয়েছে সুনাম। জলবায়ু সংকট মোকাবেলা, ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশে রয়েছে আগাম প্রস্তুতি। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। রাজনীতিকে সাংবিধানিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে সুসংহত করার প্রক্রিয়াও প্রশংসনীয়। সরকার সুশাসনের ওপর দণ্ডায়মান হলে জনগণের আস্থা আরো বাড়বে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, অপরাধ ও মাদকাসক্তি মোকাবেলায় সরকারের সুদৃঢ় অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।

যুদ্ধাপরাধের বিচার আর আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা বেড়েছে এবং সেই সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি পূর্বাপেক্ষা সমর্থন বেড়েছে। অসংসদীয় বিরোধী দল তথা বিশ দলীয় জোটের প্রতি জনগণ সন্তুষ্ট নয়। তাদের নির্বাচনবিমুখতা, সংবিধানবিমুখতা ও গণতন্ত্র বিরোধী জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন কোনো সাড়া পায়নি জনগণের কাছে। সহিংস ও গণবিরোধী রাজনীতি পরাজিত হয়েছে। পাকিস্তানপন্থী ও স্বাধীনতা বিরোধী রাজনীতি জনগণ মেনে নেয়নি। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা অবলম্বন করে সরকারকে জনগণের স্বপক্ষে কাজ করতে হবে।

পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের রাজনীতি এবং তার এদেশীয় দোসরদের সমুচিত শিক্ষা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বদেশি অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে। ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ তা উদ্বোধন করলে জাতির আস্থা আরো বাড়বে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই। শত বাধা ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে মহাজোট সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচারে সফল হয়েছে। আগুন সন্ত্রাস ও ভাঙচুর মোকাবেলা করে রাজনীতিকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ওপর ভিত্তিশীল করায় বিরোধী দল সুবিধা করতে পারেনি। এ ধারা ধরে রাখতে হবে। পশ্চাৎপদ ও ত্রুটিপূর্ণ রাজনীতির সংশোধন প্রয়োজন। রাজনীতিকে অপশক্তি ও গণতন্ত্রবিমুখদের কবল থেকে রক্ষা করতে হবে।

প্রযুক্তিগত সুযোগ সুবিধা ছড়িয়ে দিতে হবে সারাদেশে। উদ্ভাবনশীল ও মেধাবী তরুণদের দেশ উন্নয়নের কাজে লাগাতে হবে। বেকারমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। উদীয়মান পরাশক্তি ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বাড়াতে হলে ভিসা মুক্ত চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশ-ভারতের নিকটবর্তী পঞ্চাশটি রাষ্ট্রে ভিসামুক্ত চলাচলের সুব্যবস্থা থাকলেও ভারত ও বাংলাদেশে চলাচলের রয়েছে ভিসার কড়াকড়ি। দুদেশের সীমান্ত হত্যা কমলেও তা বন্ধ হয়নি। দুদেশের মধ্যে অপরাধ ও বন্দি বিনিময় চুক্তির বাস্তবায়ন হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সরকারের জিরো টলারেন্স ঘোষণা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। মুক্তবাজার অর্থনীতি ও উদার বাণিজ্যের পরিসর বাড়াতে হবে। বিশ্বায়নের ইতিবাচক দিকগুলো কাজে লাগাতে হবে। বিদ্যমান সংকট ও ঝুঁকি মোকাবেলা করে সরকারকে আরো সক্ষমতার পরিচয় দিতে হবে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা আরো জোরদার করতে হবে। রাজনীতির প্রতি জনগণের ভীতি আতঙ্ক ও বিমুখতা দূর করতে হবে। বাংলাদেশের জনগণ শান্তিপ্রিয়, সংগ্রামী ও আশাবাদী। জনগণের অন্তর্গত শক্তি ও সমর্থন নিয়ে সরকারকে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় আরো সক্ষমতার পরিচয় দিতে হবে। অপাধী যেই হোক সে যেন শাস্তির ঊর্ধ্বে না থাকে। ইতোমধ্যে সরকার দলীয় মন্ত্রী-এমপি কেউই রেহাই পাননি অন্যায় করে। এতে শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা বেড়েছে। গণমাধ্যম ও তথ্য প্রবাহের অবাধ গতি বহাল থাকায় প্রচার মাধ্যম পূর্বাপেক্ষা অধিক স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করছে। গণতন্ত্রের স্বপক্ষে এ ধারাটিও ধরে রাখতে হবে। প্রচার মাধ্যমের দায়বদ্ধতা রয়েছে জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতি। গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন ও দায়িত্বশীল প্রচার মাধ্যমে ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে ব্যাংকঋণ জালিয়তি, কেলেঙ্কারি ও সাইবার অপরাধ জনগণের আস্থা বিনষ্ট করেছে। সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি, অপরাধ ও লুণ্ঠন দূর করে সুশাসন সুসংহত করতে হবে। বাংলাদেশের প্রতি বহির্বিশ্বের আস্থা বেড়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভূমিকা ও দেশোন্নয়নের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় নেতা থেকে বিশ্ব নেতৃত্বের দিকে ধাবিত হয়েছেন। বর্তমান বিশ্বের দশ জন সেরা নেতার মধ্যে তিনি অন্যতম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে তিনি একের পর এক বিপদ মোকাবেলা করে সফল হয়েছেন। বিশেষত বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার, যুদ্ধাপরাধের বিচার, সমুদ্র সমস্যার মীমাংসা, ছিটমহলের সমস্যা সমাধান, পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি চুক্তির বাস্তবায়ন, বিশ্বব্যাংকের অপপ্রচার মোকাবেলাসহ দেশের অভ্যন্তরীণ সহিংস রাজনীতি ও হুমকি মোকাবেলা করে শেখ হাসিনা সরকার দেশোন্নয়নে সফল হয়েছে। এমজিডি বাস্তবায়নের সাফল্য, বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করা, একুশ শতকের রূপকল্প ঘোষণা, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান, উন্নত রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ণয় সরকারের জন্য এবং দেশ ও জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার লক্ষ্য বাস্তবায়ন হবে এবং বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে।

:: রতনতনু ঘোষ : প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক।

২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : বিশেষ আয়োজন-২'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj