‘আই হ্যাভ গিভেন ইউ ইন্ডিপেন্ডেন্টস, নাউ গো এন্ড প্রিজারভ ইট’ : স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায়

বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল ২০১৬

** মুহম্মদ শফিকুর রহমান **

‘স্বাধীনতা তুমি/রবি ঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান/ স্বাধীনতা তুমি/ কাজী নজরুলের ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো মহান পুরুষ, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে কাঁপা …’ ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা/ তোমাকে পাওয়ার জন্যে/ আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়/ আর কতবার দেখতে হবে খান্তবদাহন/ তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা/ সখিনা বিবির কপাল ভাঙ্গলো/ সিঁথির সিদুর মুছে গেল হরিদাসীর…..’। (শামসুর রাহমান)

২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ৪৫তম বার্ষিকী। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় জনগণের আস্থার স্থল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশিত পথই আজ ও আগামী দিনের পথ। তিনিই বুঝতে পেরেছিলেন বাঙালি জাতি কি চায়। তিনিই বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধীনতাই জাতির একমাত্র আরাধনা। আর তাই ১৯৭১ সালের এই দিনের প্রভাত এসেছিল হাজার বছরের আরাধনার ধন স্বাধীনতার বার্তা নিয়ে- ‘আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন…’ বার্তাটি নিয়ে আসেন সেই বিপ্লবী পুরুষ দক্ষিণ বাংলার এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা ৫১ বছরের সেই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- ‘This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved.’|
ঘোষণাটি বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন ২৬ মার্চ প্রথম প্রহর রাত ১টার দিকে। তারপরই হানাদার পাকিস্তানি মিলিটারি জান্তা তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পাকিস্তানের কারাগারে। তার আগে ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ৮টা। চারদিকে আতংক। খবর রটেছে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে ট্যাংক মুভ করেছে। বঙ্গবন্ধু তাঁর ৩২ নম্বরের বাসভবনে সাংবাদিক আতাউস সামাদসহ কয়েকজন জানতে চাইলেন কি হবে? আতাউস সামাদ বলেছে, “বঙ্গবন্ধু পরিষ্কার ইংরেজীতে বললেন, “I have given you independence. Now go and preserve it” সামাদ ভাই দৈনিক ভোরের কাগজে একটি আর্টিক্যাল লিখে এই কথাটি বলেছেন। তারিখ মনে নেই, সম্ভবত বাংলা মটরে অফিস থাকতে। তিনি আজ জীবিত নেই। কিন্তু ভোরের কাগজ আছে, খুজলেই পাওয়া যাবে।

বাঙালি জাতির ইতিহাস যদি হয় তিন বা পাঁচ হাজার বছর তথা ৩৬ হাজার বা ষাট হাজার মাস, তাহলে সর্বসেরা মাস এই মার্চ। অগ্নিঝরা এই মাসেই জাতির পিতার জন্ম (১৭ মার্চ); ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ও স্বাধীনতার প্রাথমিক ঘোষণা; ইতিহাসের নজিরবিহীন অসহযোগ আন্দোলন এবং বাঙালির তীর্থালয় ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্র পরিচালনা, ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন; ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা এবং পরবর্তী ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও পাঁচ লক্ষাধিক মা- বোনের সম্ভ্রম ও চরম আত্মত্যাগের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়-প্রতিটি মুহূর্তে একেকটি ইতিহাস।

মার্চ মাস ছিল বাঙালির হাজার বছরের সংগ্রাম আত্মত্যাগের পথে বঙ্গবন্ধুর পর্যায়ক্রমিক স্বাধীনতা আন্দোলনের চূড়ান্ত অধ্যায়। এ মাসেই স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলিত হয়েছিল, স্বাধীনতার ইশতেহার পঠিত হয়েছিল এবং ইতিহাসের নজিরবিহীন অসহযোগ আন্দোলনের মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দিয়েছিলেন, যা ছিল বঙ্গবন্ধুর কৈশোরে গোপালগঞ্জ, তারপর কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমান মওলানা আজাদ কলেজ), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, বেকার হোস্টেল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ ও এই বিভাগ থেকে বহিষ্কৃত এবং জীবনের এক যুগেরও বেশি সময় পাকিস্তানের কারাগারে অসহনীয় কারাভোগের পর উদিত হয়েছিল স্বাধীনতার সোনালি প্রভাত। তার আন্দোলনের পঁষসরহধঃরড়হ। ৭ মার্চের ভাষণকে বলা হয় বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার প্রাথমিক ঘোষণা। এই ভাষণ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জর্জ আব্রাহাম লিংকনের গেটিসবার্গ এডরেসের চেয়েও তাৎপর্যপূর্ণ। জর্জ আব্রাহাম লিংকন ভাষণটি দিয়েছেন আমেরিকার স্বাধীনতার ৮৭ বছর পর রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে। তিনি ছিলেন আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট। বঙ্গবন্ধু যখন ভাষণটি দিচ্ছিলেন তখন তিনি পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হলেও ক্ষমতার বাইরে থেকে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তাঁর মাথার ওপর ছিল মিলিটারি জান্তা ইয়াহিয়ার হেলিকপ্টার গানশিপ এবং উদ্যানের চারপাশের রাস্তায় টহল দিচ্ছিল তাক করা আর্মি গান ক্যারেজ। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ছিল স্বাধীনতার জন্য গেরিলা যুদ্ধ এবং যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতি। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা যায়, ৭ মার্চের ভাষণ বিগত আড়াই হাজার বছরে বিভিন্ন দেশে সমাজে প্রদত্ত ৪১টি শ্রেষ্ঠ ভাষণের অন্যতম।

২৬ মার্চ ছিল স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত ঘোষণা। স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে কিছু তথ্য :

ক. বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণাটি তৎকালীন ইপিআরের (বিজিবি) ওয়্যারলেসের মাধ্যমে সারা দেশে পাঠান। সর্বত্র ওয়্যারলেসে তা ধরা পড়ে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে নেতাদের কাছে পাঠান। তিনি জানতেন ঢাকায় যেহেতু ২৫ মার্চ রাত ৯টা থেকে আর্মি রাস্তায় নেমে গণহত্যা শুরু করেছে এবং চট্টগ্রাম তখনো মুক্ত, তাই সেখানে পাঠানোই নিরাপদ। চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান ২৬ মার্চ বেলা আড়াইটায় চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষণাটি প্রথম প্রচার করেন। এরপর ওই দিনই বেতারকর্মীসহ আরো কয়েকজন ঘোষণাটি প্রচার করেন।

খ. চাঁদপুরে ওয়্যালেসের ধরা পড়লে একজন কর্মচারী তা তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতাদের কাছে পৌঁছে দেন। ছাত্রলীগ নেতা আবদুল মমিন খান মাখন, গণেশ কর্মকার, লিয়াকত হোসেন লেকুসহ নেতারা স্থানীয় ডিএন হাইস্কুলের সাইক্লোস্টাইল মেশিনে কপি করে ২৬ মার্চ অপরাহ্ণ থেকে বিলি করতে শুরু করেন। বেলা ৩টার দিকে সাইক্লোস্টাইল কপি গ্রামের বাড়িতে হাতে পাই। আমি বন্ধু মরহুম আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ ২৪ তাং গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের বালিথুবায় যাই। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার্থী ছিলাম, আন্দোলনের কারণে এক বছর পরীক্ষা পিছিয়ে গিয়েছিল। তারপরও ৬ বিষয়ে পরীক্ষা শেষে অসহযোগের কারণে অবশিষ্ট ২ বিষয় পরীক্ষা না দিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যাই ২৪ মার্চ রাতে। গ্রামে হাইস্কুল বানাচ্ছিলাম তখন এবং আমি ছিলাম ওই হাইস্কুলের উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠাতা অনারারি হেড মাস্টার। ঘোষণাপত্রটি পাওয়ার পরপরই স্কুল মাঠে সভা ডেকে দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করি এবং মুক্তিযুদ্ধে চলে যাই। দেশ শত্রুমুক্ত করে বিজয় অর্জন করে ফিরে এসে আবার স্কুল শুরু করি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলে ফিরে আসি।

গ. ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র শহর থেকে সরিয়ে কালুরঘাটে স্থানান্তর করা হয়। যেহেতু এটি একটি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ তাই একজন আর্মি অফিসারকে (বাঙালি) দিয়ে ঘোষণাটি পাঠ করানোর জন্যে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানকে ডেকে আনলে তিনি ২৭ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গবন্ধুর নামে স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠ করেন এভাবে-

” I, major Ziaur Rahman, do hereby declare independence of Bangladesh on behalf of our great leader Bangabandhu Shekh Mujibur Rahman.” জিয়া তখন পাকিস্তানি সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাসে নিয়োজিত ছিলেন।

ঘ. বিবিসি বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা প্রচার করে ২৭ মার্চ সকালের অধিবেশনে এভাবে “শেখ মুজিবুর রহমান প্রদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।”

ঙ. ২৭ মার্চ ‘দি টাইমস’ পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনাম ছিল “Heary fighting as Sheikh Mujib declares E. Pakistan independent. ”
চ. ২৭ মার্চ এর দি গার্ডিয়ান পত্রিকার খবর ছিল … ”Shortly before his arrest, Mujib had issued a proclamation to his people which informed them; “we are citizens of a free country”.
এমনি অনেক অনেক উদাহরণ দেয়া যাবে বঙ্গবন্ধুর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতা ঘোষণার। তারপরও পাকিস্তানপন্থী একটি সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করতে চায়। তবে তাও কালের গর্ভে বিলীন প্রায়। এখানে একটা কথা বলা দরকার বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার প্রথম পাঠক আবদুল হান্নান যখন পাঠ করছিলেন তখন বেতারের ওয়েভ পরিধি ১০ কিলোহাটজ-এর কারণে দূরের মানুষ শুনতে পায়নি, আর কালুরঘাটে নেয়ার পর জিয়ার পাঠকালে ছিল ৬০ কিলোহাটর্জ, যে কারণে অনেকেই জিয়ার কণ্ঠ শুনেছে। আগেই বলেছি, জিয়া ঘোষণা দেন ২৭ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। অথচ তার ১২/১৩ ঘণ্টা আগেই , THE TIMES, THE GUADIAN প্রভৃতি গণমাধ্যমে প্রচার হয়ে যায়।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপাদমস্তুক বিপ্লবী, মনে প্রাণে বিশ্বাসে আচরণে অসাম্প্রদায়িক এবং রাজনীতির মহাকাব্যের মহাকবি। তাঁর আইকিউর তুলনা করা হয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জজ আব্রাহাম লিংকন, মহামতি লেনিন, ইয়াসির আরাফাত, ইন্দিরা গান্ধী প্রমুখের আইকিউর সঙ্গে। তাই দেখা যায়, রাজনীতিতে তার সখ্যতা ছিল সকল মতের প্রগতিশীল নেতাদের সঙ্গে। যেমন শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, কমরেড মনি সিং, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, কমরেড মোহাম্মদ তোয়াহা, কমরেড আবদুল হক প্রমুখের সঙ্গে। রাজনীতির বাইরেও সখ্যতা গড়ে তুলেছিলেন সাংবাদিকতা জগতের পথিকৃৎ আবদুস সালাম, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, জহুর হোসেন চৌধুরী, আবু জাফর শামসুদ্দিন, শহীদ সিরাজউদ্দিন হোসেন, ফয়েজ আহমেদ, আবদুল গাফফার চৌধুরী, এবিএম মূসা প্রমুখের সঙ্গে। বঙ্গবন্ধু তার স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ড. মুহম্মদ কুদরত-ই-খুদা, ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী, ড. আবদুল মতিন চৌধুরী, প্রফেসর আবদুর রাজ্জাক, ড. মুহম্মদ আবদুল হাই, ডা. নূরুল ইসলাম, কবি জসীমউদ্দীন, কবি বেগম সুফিয়া কামাল, ড. নীলিমা ইব্রাহিম, ড. এনামুল হকের মতো প্রমুখ বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে কোনো নতুন পদক্ষেপ নেয়ার আগে বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করতেন। সহধর্মিণী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ছিলেন প্রেরণাদাত্রী। বড় কোনো ঘটনার পূর্ব মুহ‚র্তে জাতীয় প্রেসক্লাবে আসতেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করতেন।

আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধে বেশ সংখ্যক সাংবাদিক শহীদ হয়েছিলেন, যেমন সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদুল্লাহ কায়সার, খোন্দকার আবু তালেব, নিজামুদ্দীন আহমদ, এস এ মান্নান (লাডু ভাই), আ ন ম গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ নাজমুল হক, আবুল বাশার, শিব সাধন চক্রবর্তী, চিশ্তী শাহ হেলালুর রহমান, মুহম্মদ আখতার, সেলিনা পারভীন, এ কে এম শহীদুল্লাহ (শহীদ সাবের)। মুক্তিযুদ্ধে (সশস্ত্র) অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের সংখ্যাও কম নয়।

অগ্রজ শহীদ সাংবাদিকদের পথ ধরে জাতীয় প্রেসক্লাব তথা স্বাধীনতাপ্রেমী সাংবাদিকরা আজো জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন। প্রায় তিন দশক আন্দোলনের পর জাতীয় প্রেসক্লাব আজ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখার সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়েছে। যদিও জঙ্গিবাদ এবং সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকতাদানকারী শক্তি এখনো মাঝে মধ্যে কালো ছায়া বিস্তারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। একাত্তরে তাদের নাম ছিল দালাল, রাজাকার, আল বদর, আল শামস, শান্তি কমিটি আর আজ তাদের নাম যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গি ও পাকিপন্থী সাম্প্রদায়িক শক্তি। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ বিচার আইনে সাজাপ্রাপ্তদের পক্ষে পাকিস্তান পার্লামেন্ট যখন নিন্দা প্রস্তাব নেয়, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বলেন, বাংলাদেশে কোনো গণহত্যা হয়নি, তখন দেশাভ্যন্তরে জঙ্গি লালনকারী বিএনপি নেত্রী মুক্তিযুদ্ধের ‘শহীদর সংখ্যা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তার পলাতক অর্বাচীন পুত্র তারেক বলে ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা চাননি?’ তাদের কথায় আমি অবাক হই না কারণ এই-ই মা-বেটা এবং তাদের বিএনপি-জামায়াত। অথচ বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার আগেই বিশ্ব মিডিয়া শহীদের সংখ্যা ৩০ লাখ বলেছে। তারপরও বলে, কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। অবশ্য সঙ্গত কারণেই তাদের শক্তি অপেক্ষাকৃত দুর্বল। তাদের অর্থে লালিত স্বাধীনতার পক্ষ নামধারী বর্ণচোরারাও রয়েছে। তাদের গোপন ষড়যন্ত্র একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। ক্লাবের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির নেতৃত্বে সদস্যরা যে কোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বদ্ধপরিকর। আমরা সতর্ক। আমাদের কেউ দুর্বল ভাবলে ভুল করবে। সে বোকার স্বর্গে বাস করে।

(তথ্য সূত্র : বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধ, দলিলপত্র;

শেখ মুজিব-বাংলাদেশের আরেক নাম, অতিউর রহমান; ব্যক্তিগত গবেষণা)

:: মুহম্মদ শফিকুর রহমান : সভাপতি, জাতীয় প্রেসক্লাব।

২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : বিশেষ আয়োজন-২'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj