উন্নয়ন পরিক্রমায় বাংলাদেশ : ‘নাই যে সময় নাই আর, ফিরে চাহিবার’

বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল ২০১৬

** অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির **

বাংলাদেশ নামটি এলে বিশ্ব সম্প্রদায় আর অবজ্ঞা করতে পারে না। অনুন্নত, অনগ্রসর আর দারিদ্র্যপীড়িত বলে এখন আর কেউ বাংলাদেশকে বিশেষায়িত করতে পারে না। বরং এখন আন্তর্জাতিক আর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, সামাজিক উন্নয়ন, পররাষ্ট্রনীতিসহ নানা ফোরামে বাংলাদেশকে পেলে অন্যরা একটু আমোদিতই হন। উন্নয়ন আর সমৃদ্ধির নতুন অবয়বের এ দেশকে এখন তৃতীয় বিশ্বের দেশসহ মধ্যম আয়ের দেশও অনুকরণীয় মনে করছে। সমৃদ্ধির কিছু পর্যায়ের কর্মপরিকল্পনা অনুসরণীয় হচ্ছে উন্নত দেশগুলোর কাছেও। দারিদ্র্যের খাঁচা থেকে বের হয়ে সমৃদ্ধির পথে সাবলীল নতুন গতির সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যসহ জাতিসংঘ ঘোষিত এমডিজি অর্জনেও এ দেশের অবস্থান সন্তোষজনক। স্বাবলম্বী হওয়ার কঠিন যুদ্ধে আমাদের বড় অর্জন মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর। বিশ্বব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায়।

স্বাধীনতার চারদশক পর দেশের এই সমৃদ্ধি, হয়তো সময়টা একটু বেশিই। তবে প্রারম্ভিক যাত্রাটা যে শোচনীয় ছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দীর্ঘ ২৩ বছরের শোষণ, নিপীড়ন আর বঞ্চনার পর মেলে কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। নিজস্ব পতাকা নিয়ে পথচলার যাত্রাটি যে কঠিন ছিল, কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না, তা বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের ভঙ্গুর অবস্থার অবসানে যাত্রা শুরু করেন। আর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন নতুন পদক্ষেপে অল্পসময়েই ভুখা, মঙ্গাপীড়িত প্রভৃতি বিশেষণ লোপ পেতে থাকে। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক নানা সংস্থার সদস্য পাদ লাভ করে বাংলাদেশ। প্রারম্ভিক অভিযাত্রায় শিহরিত হয়ে পড়েন দেশের শত্রুরা। জাতীয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কুটিল ষড়যন্ত্রে সংঘটিত হয় পনের আগস্টের ক্যু। এর মাধ্যমে অন্ধকারের চোরাগোলায় হারিয়ে যেতে বসে বাংলাদেশ। ১৯৯৬ সালের আগ পর্যন্ত দেশে অরাজকতার শাসন চলে।

১৯৯৬ সালে দায়িত্বগ্রহণের পর থেকেই দেশের উন্নয়ন আর সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ মনোযোগী হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাঁচ বছরের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দেশ মোটামুটি একটি পর্যায়ে পৌঁছতে সক্ষম হয়। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত স্থবিরতার পর পুরোদমে আবার শুরু হয় উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা। ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর শুরু হয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পরিক্রমা। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে শহর ছাড়িয়ে উন্নয়ন পরিক্রমা ছড়িয়ে পড়েছে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও। গ্রামের অশিক্ষিত তরুণটিও এখন কর্মমুখী হয়ে উঠছে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে সব পর্যায়ের মানুষের মধ্যে এসেছে গতিশীলতা। বেড়েছে কর্মক্ষমতা। মানুষের দৈনন্দিন আয় বেড়েছে। সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতিতে আকৃষ্ট হয়ে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে। নতুন কর্মসংস্থান গড়ে উঠছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি-প্রবাহের গতিও উচ্চমুখী। বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দা থাকলেও সরকারের সময়োপযোগী নীতির কারণে দেশের ওপরে এর প্রভাব পড়েনি। সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক, মূল্যস্ফীতির হার, প্রবৃদ্ধির হার, রেমিট্যান্স, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইত্যাদি অর্জনের তালিকায় দেশের অবস্থান ইতিবাচক। এমডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে দারিদ্র্য কমানো, সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়ন, নারী-অধিকার উন্নয়ন ও সংরক্ষণে বাংলাদেশ এখন বিশ্ববুকে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। জাতিসংঘও বেশ কয়েকবার বাংলাদেশকে অনুসরণের জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হওয়ার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সুষম উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানো, কর্মসংস্থান বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো, বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্র আরো প্রসারিত করা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন সামজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারের সৃজনশীল পদক্ষেপ রয়েছে। যে কোনো দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধানকে উন্নয়নের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হয়। বঙ্গবন্ধু-তনয়া শেখ হাসিনার মধ্যে সেই গুণাবলির স্বতঃস্ফ‚র্ত প্রতিফলন ঘটেছে। উন্নয়নের জন্য গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও দৃঢ় মানসিকতার পরিপোষক। উন্নয়ন-পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতাস্বরূপ বিশ্বের ক্ষমতাধরদের আহ্বানও অবলীলায় অবজ্ঞা করার শক্তি কেবল তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র, বিরোধীপক্ষের রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও অস্থিতিশীলতা, কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দেশের উন্নয়নে প্রতিশ্রæত অর্থ ছাড়ে বিশ্বব্যাংকের আপত্তি- কোনো কিছুই দেশকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক মৌল ভিত্তিসমূহের অগ্রযাত্রা সূচিত হয়েছে দ্রুত গতিতে। দেশ পরিচালনায় দক্ষ নেতৃত্বের ফলে অর্থনীতির অন্তর্নিহিত শক্তির সহজাত তাড়নার ফলে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের ক্রান্তিরেখায় নিজের উপস্থিতি সগৌরবে জানান দিচ্ছে। দেশরতœ শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব আর সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে বিশ্বমন্দা, আরব বসন্ত, ইউরোপের হাহাকার- কোনো কিছুই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্পর্শ করতে পারেনি। বরং বিশ্বমন্দার এই সময়ে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক, ওষুধ, চিংড়ি, চামড়া এমনকি খাদ্যও রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে। এখন দেশের জনসংখ্যা ষোল কোটিরও ওপরে। অথচ এক সময়ে মাত্র সাত-আট কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্যই বাংলাদেশকে খাদ্য আমদানি করতে হতো।

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লেগাটামের সমৃদ্ধি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৩তম। এ তালিকায় প্রতিবেশী ভারতের অবস্থান ১০৬তম। ১৪২টি দেশের সম্পদ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার মান ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে এ সূচক তৈরি করা হয়। এ সূচক থেকে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছর ধরে সমৃদ্ধির আটটি সূচকের মধ্যে সাতটিতেই ভারতের অবস্থান ছিল নিম্নগামী। অন্যদিকে, আটটির সাতটি সূচকেই ঘটেছে বাংলাদেশের অগ্রগতি।

একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নির্ভর করে দক্ষ প্রশাসকের ওপর। নিজস্ব যুক্তি, বিচারক্ষমতা, দূরদর্শী ভাবনা, বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা এবং বিশ্বপরিস্থিতি পর্যালোচনার পর গৃহীত সিদ্ধান্তটি হতে হয় মৌলিক। বঙ্গবন্ধুর পর এমন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে দ্বিতীয়জন শেখ হাসিনাকে পেয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ান ইলেভেনের সময় কারাগারে থাকাকালে তিনি দেশের উন্নয়নে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা করেছিলেন। দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের যথাযথ মর্যাদা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ২০২১ সালের মধ্যে দেশ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। দূরদর্শী ভাবনায় চারদশকের পরিকল্পনা করা হয়। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ ও পরবর্তী ২০ বছরে উন্নত দেশের স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে পঞ্চ দশক-ওয়ারি ভিশন নির্ধারণ করা হয়। এ পরিকল্পনার আলোকে দেশের উন্নয়নে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহারে প্রাধান্য দেয়া হয়। এখন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অশিক্ষিত মানুষটিও প্রযুক্তির সেবা উপভোগ করতে সক্ষম হচ্ছেন। এরই মধ্যে দেশ স্বীকৃতি পেয়েছে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিকল্পনা করেছিলেন, ২০ বছর পর তিনি দেশকে উন্নয়নের কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চান। এরপর এমন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেন শেখ হাসিনা।

কৃষিখাতে ব্যাপক উন্নয়ন, খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জন, চাল আমদানি বন্ধ এবং রপ্তানিতে নতুন যুগ সূচিত হয়েছে। সম্প্রতি এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশে বার্ষিক খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ তিন কোটি ৭২ লাখ ৬৬ হাজার টন। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক অগ্রগামী দেশের তুলনায় বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা সাম্প্রতিকালে যে মজবুতী অর্জন করেছে তা আমাদের টেকসই উন্নয়নের ধারাকে আরো গতিশীল করছে। সর্বশেষ প্রকাশিত মানবউন্নয়ন সূচক ২০১৪ অনুযায়ী বাংলাদেশ তার অবস্থানকে বিগত বছরের তুলনায় আরো সংহত করেছে, ১৮৭টি দেশের মধ্যে ১৪২তম অবস্থান অর্জন করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক শক্তিশালী দেশকে নানান উন্নয়ন সূচকে পেছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে চলছে আমাদের দেশ। বিশেষ করে, জীবনমান উন্নয়ন, সাক্ষরতা, শিক্ষা ও মাথাপিছু আয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক। বাংলাদেশ সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে নারী-পুরুষের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনার দৌড়ে। একথা নিশ্চিত করে বলা যায় যে, কৃষি খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং খাদ্যে স্বনির্ভরতা না এলে অন্যান্য সূচকের অগ্রগতি কল্পনা করাও মুশকিল। পাটের জীবন রহস্য এবং পাটসহ পাঁচ শতাধিক ফসলের ক্ষতিকর ছত্রাকের জীবন প্রক্রিয়া আবিষ্কার এই সরকারের সময়ে একটি বড় ঘটনা। ২২টি ধান বীজসহ প্রতিক‚লতা সহনশীল ও উন্নত ফলনশীল ১৪৫টি নতুন জাত উদ্ভাবন হয়েছে সরকারের নানামুখী উৎসাহ আর সহযোগিতায়। ঐতিহাসিক এ অগ্রযাত্রায় শেখ হাসিনা সরকারের সিদ্ধান্ত এবং তা বাস্তবায়ন প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কয়েক দফা সারের মূল্য হ্রাস, বোরো ধানের ফলনশীল বীজ সরবরাহ ও রপ্তানি এবং সার, জ্বালানি, সেচ ও বিদ্যুতের উন্নয়ন প্রকল্পে বৃহৎ বরাদ্দ প্রমাণ করছে এই সরকার কৃষি ও কৃষকবান্ধব।

সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গেও বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিকতার সম্পর্ক বিদ্যমান। পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কের কারণে এশিয়া মহাদেশের দেশসমূহের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতিপূর্ণ অর্থনৈতিক চর্চা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিমাণ পূর্বের তুলনায় বেড়েছে। ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ প্রতিপাদ্য নিয়ে সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে। এই পররাষ্ট্রনীতি অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য সহায়ক। সমঅংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যদি বন্ধুত্বের কারণে দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে লেনদেন বেড়ে যায় সেটাই মঙ্গল। সম্প্রসারিত বন্ধুত্বের নীতিমালায় ভারত, চীন, জাপান, রাশিয়া, কোরিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও লেনদেন বেড়েছে।

বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিকারক দেশ। বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে এখন বাংলাদেশের অবস্থান ভারতের ওপরে। একমাত্র চীনের পরেই আমাদের অবস্থান। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত হচ্ছে এই পোশাকশিল্প। মোট রপ্তানি আয়ের ৭৮ শতাংশই আসছে এ খাত থেকে। দেশের সম্ভাবনাময় এ খাতটিকে ধ্বংসের জন্য দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। সামান্য ইস্যুতেই চলে এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতিবাচক প্রচারণা। জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর সত্ত্বেও সরকারের পারদর্শী নেতৃত্বগুণে সমানতালে সামনে এগিয়ে চলেছে এ খাতটি। প্রতি বছরই বাড়ছে তৈরি পোশাকের রপ্তানি। বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ। ২০২১ সালের মধ্যেই এ খাত থেকে রপ্তানিলব্ধ আয় ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। জিএসপি ফ্যাসিলিটিজ বন্ধের পরও বাংলাদেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি করে গত বছর রপ্তানিলব্ধ আয় বেশ বেড়েছে।

প্রতি বছর প্রায় ছয় লাখ কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হচ্ছে। রেমিট্যান্স প্রবাহের দিক দিয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে সপ্তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ আমাদের মোট জিডিপির ১০ শতাংশের বেশি, রপ্তানি আয়ের অর্ধেকের বেশি এবং প্রাপ্ত বৈদেশিক সাহায্যের প্রায় ১০ গুণ। কবছর আগেও বিদেশিদের ওপর নির্ভর করতে হতো আমাদের খাদ্যের চাহিদা মেটানোর জন্য। গত দুবছর ধরে বাংলাদেশ চাল আমদানির ইতি টেনেছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে দেশের বর্তমান খাদ্য মজুদ পরিস্থিতিও ভালো রয়েছে। বাংলাদেশে এখন আর দুর্ভিক্ষ আতঙ্ক নেই। ‘মঙ্গা’ শব্দটিও দেশ থেকে নির্বাসিত।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার সব ধরনের সুযোগ বাংলাদেশের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের পূর্বাভাসে বলেছে, ২০৩০ সাল নাগাদ ‘নেক্সট ইলেভেন’ সম্মিলিতভাবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৭টি দেশকে ছাড়িয়ে যাবে। লন্ডনের জাতীয় দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, ২০৫০ সালে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির বিচারে পশ্চিমা দেশগুলোকেও ছাড়িয়ে যাবে। এছাড়া মুডি’স ও স্ট্যান্ডার্ড এন্ড পুওর’স গত কয়েক বছর ধরে ক্রমাগতভাবে বাংলাদেশের সন্তোষজনক অর্থনৈতিক রেটিং দিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রক্ষেপণও স্থিতিশীল ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের ইঙ্গিত বহন করে। বিশ্বখ্যাত সংস্থাগুলোর এসব পূর্বাভাসই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের সামনে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা।

রূপকল্প ২০২১ প্রত্যাশিত সময়ের বেশ আগেই বাস্তবায়িত হবে। একাত্তরের পর আরো একবার অবাক বিশ্ব তাকিয়ে দেখবে দারিদ্র্যপীড়িত এ দেশটির নব-উত্থান জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের বিস্ময়কর পরিবর্তন। কিন্তু একটি বিষয় লক্ষণীয়, দেশের অগ্রযাত্রা দেখে দেশের ভেতরের একটি অংশ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। রয়েছে আন্তর্জাতিক চক্রান্তও। তবে সব ছাপিয়ে দেশের উন্নয়ন আর সমৃদ্ধি এগিয়ে যাচ্ছে সমানতালে। সমালোচকরা সমালোচনা করুন, নিন্দুকেরা ছড়িয়ে দিক নিন্দাবার্তা- এতে কিছু যায় আসে না। সব ষড়যন্ত্র ও বাধা-বিপত্তি মোকাবেলা করে দেশরতœ শেখ হাসিনার সময়োপযোগী ও অনুপম নেতৃত্বগুণে উন্নয়নের গতিশীল এ ধারা অব্যাহত থাকবে, দেশ এগিয়ে যাবে সমৃদ্ধির শীর্ষে এই-ই আমাদের প্রত্যাশা। কবির ভাষায়, ‘নাই যে সময় নাই আর, ফিরে চাহিবার।’

:: অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির : লেখক, সদস্য, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন, সাবেক উপাচার্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : বিশেষ আয়োজন-২'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj