শক্তিশালী অর্থনীতির বুনিয়াদ গড়তে যা করণীয় : রণেশ মৈত্র

বৃহস্পতিবার, ১০ মার্চ ২০১৬

বাংলাদেশ তার স্বাধীনতা অর্জনের পর ৪৪টি বছর অতিক্রম করল। এই সময়টা খুব দীর্ঘ যেমন নয়, তেমনি তা আবার একেবারে কমও নয় নানাদিক থেকে দেশটিকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে। আন্তর্জাতিক নানা গবেষণা ঘেঁটে যা পাওয়া যায় বা যে সমস্ত সূচক আমরা নানা সময়ে সংবাদপত্র মারফত জানতে পাচ্ছি, তা দেখলে আমাদের অর্থনীতির শনৈঃ শনৈঃ অগ্রগতি ঘটে চলেছে- এমনটাই ধারণা হয়। কিন্তু মাঠ-ময়দানের দিকে তাকালে আবার একেবারেই ভিন্ন ধারণা জন্মে। এই বিষয়টা নিয়ে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক মহলগুলোর কোনো মাথাব্যথা আছে এমনটাও মনে হয় না।

বস্তুত আন্তর্জাতিক মহলগুলো, আমার ধারণা মতে, অত্যন্ত একচোখাভাবে আমাদের অর্থনৈতিক বিকাশ ও তার মাত্রাকে পর্যবেক্ষণ করেছেন বলেই তাদের ধারণা পূর্ণ সত্যকে তুলে ধরতে পারেনি- আংশিক সত্যকে তুলে ধরেছে মাত্র। এ কথা আদৌ ঠিক নয় যে, বাংলাদেশের কোনো অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধিত হয়নি বা হচ্ছে না। বরং বলব- তা অবশ্যই হয়েছে, হচ্ছে এবং আরো হবে। তবে যে পদ্ধতিতে দেশের অর্থনীতি চলছে সেই পদ্ধতিই যদি অব্যাহত থাকে তবে ওই আংশিক বিকাশই ঘটতে থাকবে- তা পরিপূর্ণতা পেতে পারবে না।

মোটা দাগে যদি আমরা আমাদের অর্থনৈতিক বিকাশের চিত্র অবলোকন করি তাহলে যে চিত্রগুলো আমাদের চোখে পড়বে তাহলো:

দেশের শহরগুলোতে বিপুলসংখ্যক বহুতলবিশিষ্ট দালানকোঠা নির্মিত হয়েছে- আজ থেকে ৩০ বছর পূর্বে যা ধারণাও করা যেত না।

তুলনামূলকভাবে সারা দেশে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থারও প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে যদিও যোগাযোগের অপরাপর ব্যবস্থার কোনো উন্নতি সাধিত হয়নি- ক্ষেত্র বিশেষে বরং তার অনেক পশ্চাদগতি সাধিত হয়েছে। যেমন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে পাকিস্তান আমলই নয় শুধু, এমনকি ইংরেজ আমলের চাইতেও মারাত্মকভাবে পিছিয়েছে।

জলপথগুলো ছিল বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে প্রধানতম। আজ তা একেবারেই নিশ্চিহ্ন। কারণ নদীগুলোর নাব্যের অভাবে, সেগুলো অবৈধভাবে ভরাট করে দালানকোঠা নির্মাণের ফলে এবং কোথাও কোথাও বেআইনিভাবে বাঁধ দিয়ে ও শহরের নানা আবর্জনা ফেলে অবস্থাটা এমনই করা হয়েছে যে, নদীগুলো জলহীন। তাই শুধু নয় সেগুলো ভরাট হতে হতে আজ তা পাগাড়ে পরিণত হয়ে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে নতুন উৎপাতের সৃষ্টি করেছে।

আর আকাশপথে যোগাযোগের ব্যাপারটিই আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে। তাই এই নিবন্ধে তা নিয়ে কোনো আলোচনা উত্থাপন করলাম না।

একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশটির উৎপাদন ক্ষেত্রে কতটা অগ্রগতি সাধিত হয়েছে এবং বেকারত্ব কতটা প্রশমিত হয়েছে। সেই নিরীখে বিবেচনা করলে নিশ্চিতভাবেই আমরা সবাই একমত হতে পারব যে উৎপাদন ক্ষেত্রে আমরা এখনো বিস্তর পিছিয়ে আছি কারণ দেশের শিল্পায়ন কার্যক্রম এখনো কার্যত শুরুই হয়নি। স্বাধীনতা-উত্তর প্রথমদিকে সব শিল্প-কারখানা জাতীয়করণ করা হয় পাইকারিভাবে কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনীতির যে পাকিস্তানিকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয় তার পরিণতিতে দেশ এক মারাত্মক পরিণতির সম্মুখীন হয়। আজো সেই ধারা থেকে একেবারে মুক্ত হওয়া যায়নি।

নতুন নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক অব্যাহত বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাপারে যে অনিশ্চয়তা ছিল তা বহুলাংশে দূরীভূত হওয়া সত্ত্বেও অবকাঠামোগত প্রতিক‚লতার দোহাই দিয়ে বাংলাদেশে বিদেশি পুঁজির বিনিয়োগ হচ্ছে না। সাম্প্রতিককালে যুক্ত হয়েছে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের হুমকি। এর যোগফল যা দাঁড়ায় তাহলো এক ধরনের স্ট্র্যাটেজি যা আজো আমাদের অর্থনীতিকে আঘাত করে চলেছে। ব্যক্তি খাত পুনরুদ্ধারের নীতি চালু হলেও ব্যক্তি খাতে দেশীয় পুঁজির বিনিয়োগও পূর্ব লিখিত সেক্টর দুতিনটি বাদে আর দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। ফলে শিল্প ক্ষেত্রে সার্বিক বন্ধ্যত্বই বিরাজ করছে। এটা দূর করতে না পারলে আমাদের আরো বহুদিন অনুন্নত দেশের পর্যায়েই থাকতে হবে। এমন একটা পরিস্থিতি আদতেই মেনে নেয়া যায় না, কারণ অনুন্নত দেশ হলেই সে দেশ/দেশগুলো সা¤্রাজ্যবাদের অবাধ শোষণের ক্ষেত্রেই পরিণত হয়।

হ্যাঁ, অবকাঠামোর সমস্যা উড়িয়ে দেয়া যাবে না এক কথায়। রেলপথের দ্রুত সংস্কার কোনো অবাস্তব কিছু নয়। পণ্যের দ্রুত এবং স্বল্প ব্যয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে রেল অপরিহার্য। পূর্ব রেলের যাও বা উন্নয়ন হয়েছে (সামান্য যদিও) পশ্চিম রেল তো পিছিয়েছে বহুগুণ। সা¤্রাজ্যবাদ তোষণে ব্যস্ত অতীতের সরকার যে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক নীতি অবলম্বন করে বিপুলসংখ্যক রেলকর্মীর বাধ্যতামূলক স্বেচ্ছা অবসর দিল, অনেক রেলস্টেশন তুলে দিল, বহু ইঞ্জিন-বগি মেরামত বা সংস্কারের অভাবে নষ্ট হতে থাকল, রেলপথগুলোতে রেলগুলোরও সংস্কার বন্ধ, পথের পাথরগুলো চুরি হয়ে ধ্বংস হতে থাকল, কাঠের ¯িøপারগুলো একের পর এক চুরি হওয়া, পচে নষ্ট হওয়া প্রভৃতি সত্ত্বেও সেগুলো সংস্কার না করার রেওয়াজ চালু হওয়ায় রেলগাড়িগুলোর চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হতে থাকল। অবশেষে একের পর এক ট্রেন বন্ধ করে দেয়া হলো- যেগুলো থাকল সেগুলোতে বগির সংখ্যা কমিয়ে এনে অধিকসংখ্যক যাত্রী টানা দুরূহ করে তোলা হলো, ট্রেনগুলোতে বসার বেঞ্চ, বৈদ্যুতিক আলো, পাখা এবং জল সরবরাহের অভাবে সেগুলো যাত্রীদের জন্য দুঃসহ করে তোলা হল।

আর এই অবস্থা হওয়াতে দেশের সর্বত্র বাস সার্ভিস চালু হলো- সেগুলো বেসরকারি মালিকানাধীন। তাদের ব্যবসা রমরমা হয়ে উঠল। দিন দিনই পরিবহন সেক্টর শক্তিশালী হয়ে উঠছে- তাদের দোর্দণ্ড প্রতাপে আইনও পশ্চাৎপসরণ করছে। এমন কি বিআরটিসির ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হচ্ছে- ঢাকার বাইরে তাদের দোতলা সার্ভিস বেসরকারি পরিবহন মালিকদের তথাকথিত আন্দোলনে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে যেন রাষ্ট্রটির বেসরকারি মালিক শ্রমিকদের হুকুম মানতে বাধ্য থাকতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের একাংশের দুর্নীতি এই মালিকদের যদৃচ্ছ আচরণকে আরো বেপরোয়া করে তুলছে। এই নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে রেলওয়ে সেক্টরের ধ্বংস সাধন এবং সড়ক পরিবহনে বেসরকারি মালিকদের রমরমা ব্যবসার প্রসার গোটা জাতি অসহায়তার সঙ্গে প্রত্যক্ষ করল। এগুলো বেশ অনেকদিন আগের কথা হলেও কোনো সরকারই এই জায়গায় বিন্দুমাত্র হাত দিচ্ছে না- ফলে নৈরাজ্য ক্রমবর্ধমান।

সরকারি মালিকানাধীনে সব কলকারখানা চলে যাওয়ার পর দেখা গেল মিলগুলোর যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে যাচ্ছে, আর চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্রগুলোও একে একে লুট বা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে এবং এগুলো ঘটল সরকারি কর্মকর্তাদের অসহায়তায় ক্ষেত্রে এক শ্রেণির তথাকথিত শ্রমিক নেতাদের কল্যাণে। আজ ওই শ্রমিক লীগ নেতারা অনেকেই বিপুল সম্পদের মালিক- ওই সম্পদ কোথা থেকে কিভাবে এল দুদক কখনোই তার খোঁজ নেয়নি- নেবে এমন ভরসাও নেই। মাঝখান থেকে চরম অসহায়তা, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের কবলে স্থায়ীভাবে নিপতিত হলেন অসংখ্য সাধারণ পুরুষ ও নারী শ্রমিক।

আমাদের দেশে শিল্প কারখানা বেসরকারিকরণের ফলাফল এমনটাই। এত গেল পাকিস্তানি আমলের তৈরি কলকারখানার ব্যাপার। আর এই দীর্ঘ ৪৪ বছরে বাংলাদেশের সরকারগুলো আদৌ সরকারি উদ্যোগে কোনো কলকারখানা গড়ে না তোলার ফলে এবং দেশি-বিদেশি পুঁজি শিল্প খাতে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে সক্ষম না হওয়ায় বেকার শিক্ষিত-অশিক্ষিত যুবক-যুবতীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকায় দেশে ক্রমশই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক নেতিবাচক চিত্র এঁকে চলেছে যেন।

আমরা এবার চোখ ফেরাতে পারি স্বাস্থ্য সেক্টরের প্রতি। এই সেক্টরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ওষুধ শিল্প। ওই শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। ওই শিল্পের তৈরি পণ্য এখন পৃথিবীর বহু দেশে রপ্তানি হচ্ছে- বিদেশি মুদ্রার জোগান দিচ্ছে আমাদের দেশকে- যেমন দিচ্ছে পোশাক শিল্পও। এই দুই সেক্টরে মিলে কয়েক লাখ নারী-পুরুষ শ্রমিকেরও কর্মসংস্থানের পথ খুলে দিয়েছে।

আর সরাসরি জনস্বাস্থ্যের নানাদিক নিয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করলে দেখতে পাব অজ¯্র নতুন নতুন হাসপাতাল গড়ে উঠেছে- তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গড়ে উঠেছে এবং উঠছে হাজার হাজার ছোট ছোট কেন্দ্র যেগুলোতে বড় বড় সাইনবোর্ডের পেছনে লুকিয়ে একদিকে অবৈধ সন্তান জন্ম প্রতিরোধের সেকেলে ব্যবস্থা এবং এ জাতীয় আরো অনেক কিছু যার সবই চিকিৎসা কেন্দ্রের নামে গোপনে চালানো হয়।

ক্লিনিকগুলো কিছুটা উন্নত হলেও তাতে উপযুক্ত ডাক্তার-নার্সের অভাব। ফলে সবাইকে উন্নততর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় দৌড়াতে হয়। এটা অনেক ব্যয়সাধ্য। ফলে এ আশা অনেককেই পরিত্যাগ করে নিজ নিজ এলাকাতেই প্রায় বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুপথযাত্রী হতে হয়। ভালো ডাক্তার-বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, অভিজ্ঞ ডাক্তাররা আজো জেলা-উপজেলা শহরে যেতে চান না বলেই এই অবস্থা। সেখানে সরকারও তাদের রাখতে সচেষ্ট তবে এখনো সে চেষ্টা বহুলাংশেই ফলবতী হয়নি।

এত কিছু সত্ত্বেও বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে- শিশুমৃত্যু-মাতৃমৃত্যুর হারও কমছে বলে আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় এসেছে- তা পুরোপুরি সত্যি, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু উন্নততর আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সব জেলায় যদি পাওয়া যেত তবে তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মর্যাদার আসন পেত।

এখন যদি হিসাব করি, শতকরা কতজন উন্নততর চিকিৎসার জন্য ঢাকায় দৌড়াতে পারেন- তা কখনোই শতকরা ১০ জনের বেশি হবে না। অপরদিকে গ্রাম থেকে জেলা শহরে চিকিৎসা নিতে ২০ ভাগের বেশি রোগী আসতে পারেন না। সব মিলিয়ে শতকরা ৭০ জন গ্রাম ও শহরের মানুষ স্বাস্থ্যসেবার আওতাবহির্ভূত থেকে যাচ্ছেন আজো। এই যুগে স্বাস্থ্যসেবার এই হাল তৃণমূল পর্যায়ে থাকাটা নেহাতই অবাঞ্ছিত। তাই প্রয়োজন অন্তত ১০ শয্যাবিশিষ্ট গ্রামীণ হাসপাতাল প্রতি ইউনিয়ন হেড কোয়ার্টারে স্থাপন- প্রসূতিদের ৭ মাস থেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে পর্যবেক্ষণ ও উন্নত ব্যবস্থার প্রসারের ব্যবস্থা করা। গাইনি বিশেষজ্ঞ যতটা ইউনিয়ন হাসপাতালগুলোতে নিয়োগ করা যাবে ততই মঙ্গল। জেলা হাসপাতালগুলোর সম্প্রসারণ, ফ্রি বেড- সবার জন্য বিনামূল্যে ওষুধ (পেয়িং বেডের রোগীদের বাদে) উন্নততর পথ্য ব্যবস্থার প্রবর্তন। এসব করার পরেও গ্রামীণ জীবনে ওঝা, বড়ি-ফুঁকের এবং প্রসবের জন্য দুই প্রথার সহসা অবসান ঘটবে না তবে তা ক্রমে ক্রমে কমে আসবে। মানুষ উন্নততর ব্যবস্থার পক্ষেই ক্রমশ ঝুঁকবে।

স্বাস্থ্যসেবার হাল-বেহাল উভয় দিকই দেখলাম। এবারে আসা যাক শিক্ষার প্রসঙ্গে। শিক্ষা ক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে- বিশেষত নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে। যদি সকাল ৮টা থেকে রিকশা বা ভ্যানে চড়ে গ্রাম-গ্রামান্তর পর্যবেক্ষণে যাওয়া যায়, অবশ্যই চোখে পড়বে শত শত মেয়ে পায়ে হেঁটে, রিকশা বা ভ্যানে চড়ে ছুটছে স্কুল-কলেজের দিকে। আজ থেকে ২০ বছর আগেও এমন দৃশ্য চোখে পড়ত না। তেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাও। কলেজগুলোতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা এখন ৫০:৫০ মতো। কোথাও কোথাও সামান্য হেরফের হলেও হতে পারে- নাও পারে। সুতরাং কী বিপুল অগ্রগতি যে সাধিত হয়েছে- তা আমরা যারা ৪০-৫০ দশকে লেখাপড়া করেছি তারা ছাড়া পরবর্তী প্রজন্ম কল্পনাও করতে পারবে না।

নানা সময়ে কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গেও কথাবার্তা হয়েছে। আলাপ করেছি- আমরা তো দেখি এখন গড়ে ৮০ ভাগেরও বেশি ছেলেমেয়ে নানা পাবলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। তার মধ্যে বিপুলসংখ্যায় জিপিএ ৫, গোল্ডেন ৫ প্রভৃতি পায়। ফলে আমরা নিশ্চয়ই ধরে নিতে পারি যে শিক্ষার মানও বেড়েছে দ্রুতলয়ে। তিনি তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বললেন, মান আরো নিচে নেমেছে। পাড়ায় পাড়ায় কোচিং সেন্টারেই তো তার প্রমাণ বহন করে। মনটা খারাপ হলেও এটাই বাস্তব সত্য। তাই সরকারকে বলে দেয়া যায় পাস-ফেল বুঝি না, মানসম্মত শিক্ষা অবশ্যই দিয়ে ছেলেমেয়েদের মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

আসা যাক মাদ্রাসা শিক্ষায়। এখানে সর্বাধিক কারচুপি ও বেআইনি কারবার। অল্পসংখ্যক মাদ্রাসাতেই সরকারি নিয়মে পড়ানো হয়- বেশিরভাগই সরকারের তোয়াক্কা করে না। আবার বহু মাদ্রাসা হলো আসলে জঙ্গি শিক্ষার- অস্ত্র প্রশিক্ষণের আঁতুড়ঘর। আমরা যে নানা স্থানে জঙ্গি হামলা প্রত্যক্ষ করছি তারও উৎস সেখানেই। জামায়াতে ইসলামী আজো মাদ্রাসাগুলোকে দখল করে রেখেছে- সেখানে খুঁজলে ছোট-খাটো অস্ত্রাগারের সন্ধানও পাওয়া যাবে। আর এই ব্যাপারগুলো যতই বাড়ছে- ততই বাড়ছে খুন-খারাবি, ব্লুগার থেকে শুরু করে শিল্পী-সাহিত্যিক-প্রকাশক কেউই বাদ যাচ্ছে না খুন বা খুনের হুমকির হাত থেকে। বাদ যাচ্ছে না মসজিদ-মন্দির-গির্জাও।

এগুলোও কারণ যার জন্য বিনিয়োগ হচ্ছে না। তাই একটি শক্তিশালী অর্থনীতির বুনিয়াদ গড়তে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধকরণ, জঙ্গিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তিদান করে দেশে নিরাপত্তাবোধের সৃষ্টি অপরিহার্য।

:: রাজনীতিক, কলাম লেখক।

'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj