স্মৃতির পাতায় সপ্তম সমাবর্তন : বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় : আবুল বাশার মিরাজ

বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ ২০১৬

হাঁটি হাঁটি পায়ে অনেকটা পথ এগুনো হলো। পড়ালেখার একদম শেষপ্রান্তে। যদিও মানুষের জীবনে পড়ালেখার কখনও শেষ হয় না, তারপরও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার একটা শেষ বলে কথা। সারাজীবনের সমস্ত অর্জনের স্বীকৃতির স্থান হলো এই সমাবর্তন। হ্যাঁ, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি হয়ে গেল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ৭ম সমাবর্তন। সমাবর্তনে অংশ নেয়া প্রত্যেকেই দিনটিকে কাটালেন একটু অন্য রকম আবহে। স্মৃতির পৃষ্ঠায় দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে যা যা করা প্রয়োজন তার ছিটেফোঁটাও বাদ রাখতে চাইলেন না কেউ।

সমাবর্তনে বিদায় ও বিষাদের কালো রঙের আলখেল্লা গায়ে মেখে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠলেন সবাই। সারাজীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক অর্জনকে বরণ করে নিলেন উৎসাহ উদ্দীপনায়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদে সদ্য ¯œাতক রাইক আরমান বলেন, সমাবর্তনের মধ্য দিয়ে আমরা সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী হয়েছি। যার ফলে সবার এই বাঁধভাঙ্গা আনন্দ। একই মত প্রকাশ করলেন ভেটিরিনারি অনুষদের খালেদ সাইফুল্লাহ। তিনি বললেন, সমাবর্তন দিনটা সবার জন্য একটি আনন্দের দিন। এদিন সবাই অন্যরকম উৎসাহ আর উদ্দীপনা নিয়ে ক্যাম্পাসে আসে। সারাদিন বন্ধুবান্ধব সবাই একসঙ্গে আনন্দফুর্তি করে। এটা অন্যরকম এক মজা। নতুন একটা জীবনে ঝাঁপ দেয়ার আগে পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে এ আনন্দটা প্রয়োজন। শুধু তারা দু’জনই নন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম সমাবর্তনে অংশ নিয়ে সবাই যেন হয়ে উঠলেন আনন্দ উদ্যাপনের সুনিপুণ কারিগর। কিরণ, আরিফুল, সাগর, আতাউল, রাতুল, সোমা, অমিত, সবাই এক একজন আনন্দের এক একটা উৎস হয়ে উঠেছিলেন। কে কত রকমভাবে তাদের আনন্দ অন্যকে জানান দিয়ে তাদের আরও আনন্দিত করতে পারেন, সে মহোৎসবে মেতে উঠলেন সবাই। সমাবর্তনের আরেক নাম হয়ে উঠল উল্লাস আর উদ্যাপন। উচ্ছ¡াসের আলোকছটায় দিনের আলো যেন সন্ধ্যায়ও নিভে গেল না। স্মৃতিগুলোকে সামনে নিয়ে সবাই যেন হারিয়ে গেলেন অন্য কোন জগতে। সে মোহে দিনভর হৈ হুল্লোড় করে মাতিয়ে রাখলেন পুরো ক্যাম্পাস। সুর ধরলেন পুরনো সব গানে। হারানো স্মৃতি খুঁজে বেড়াতে লাগলেন তারা। দিনটাকে উপভোগ করলেন নিজেদের মতো করে। ছবি তোলার মহাযজ্ঞে মেতে উঠলেন সবাই। বিশেষ এ দিনটির পুরোটাই যেন ধরে রাখতে চাইলেন ক্যামেরার ছোট্ট পরিসরে। মনের একদিকে দীর্ঘদিন পর একত্রে মিলিত হতে পারার আনন্দ, অন্যদিকে আবারও কর্পোরেট জীবনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে একটুখানি সতেজতায় নিজেকে রাঙিয়ে নেয়া। এর মাঝেই এক স্মৃতিবহুল দিন, নিজের সারাজীবনের অর্জনের স্বীকৃতি প্রাপ্তির দিন। এই সমাবর্তনের একটি দিনই যেন জীবনের আলাদা এক বিরাট অধ্যায়।

:: লেখক: শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj