এশিয়ান ইউনিভার্সিটি বিশ্বমানের কারিকুলাম তৈরি করেছে

বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

ড. আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেক, প্রতিষ্ঠাতা ও উপাচার্য, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

শিক্ষায় একাধিক পুরস্কার পাওয়া এ শিক্ষাবিদ বলেন, প্রতি বছর হাজার হাজার সার্টিফিকেটধারী বের হচ্ছে। কিন্তু জব মার্কেটে প্রবেশ করতে পারছে না। এসব সার্টিফিকেট দিয়ে লাভ কী? আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মার্কেট ডিমান্ড চিন্তা করে সাবজেক্ট খোলে। জব মার্কেটের দিকে থাকায় না। আমি মনে করি, পাবলিক ডিমান্ড দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে না। এখানে জাতীয়ভাবে যে বিষয়গুলো খুবই দরকার সেগুলো থাকা বাঞ্ছনীয়। একজন মানুষকে পুরোপুরি মানবসম্পদে পরিণত করতে হলে এসব বিষয় পড়ানো খুব জরুরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের এ শিক্ষক বলেন, এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ১৩টি বিষয় রয়েছে। যার মধ্যে ১০টি বিষয় পাবলিক ডিমান্ড নেই। তারপরও আমি এসব বিষয় খুলেছি। কারণ এসব বিষয় ছাড়া পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হয় না। প্রথম দিকে এসব বিষয় চালু রাখার জন্য প্রচুর ভর্তুকি দিতে হয়েছে। তারপরও চালু রেখেছি।

রোটারি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পাওয়া এ শিক্ষক বলেন, প্রথম দিকে বাংলা বিভাগ চালু করার সময় অনেকেই আমাকে পাগল বলেছেন। আমি বলেছি, বাংলা বিভাগ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় হয়, সেটি ভাবা যায়? তাই শুরু থেকেই বাংলা, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞানের বিষয়গুলো খুলেছি। তার মতে, মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার কিংবা গ্রাম থেকে আসার শিক্ষার্থী যারা কম টাকায় পড়তে চায়, তাদের জন্য এ বিষয়গুলো। আমি যথেষ্ট সাড়া পেয়েছি এতে।

মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে প্রফেসর সাদেক বলেন, সেখানকার সরকার আগামী ৫ বছরের একটা টার্গেট নির্ধারণ করে। তারা আগামী ৫ বছরে কোন জায়গায় যাবে এবং কোন সেক্টরে কত লোক লাগবে। সেই টার্গেট করে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিকে ভাগ করে দেয়। সরকার বলে দেয়, তোমরা এবার এত ইঞ্জিনিয়ার ভর্তি করাবে, তোমরা এত ডাক্তার পড়াশোনা করাবে। কিন্তু আমাদের দেশে এ রকম কোন গবেষণা বা পরিকল্পনা নেই। যার ফলে পিঁপড়ার ঝাঁকের মতো সবাই একদিকে ঝুঁকছে। তার গ্র্যাজুয়েশন জব মার্কেটে আদৌ কোন মূল্য আছে কি-না তার কোন নজর নেই। আমাদের মিস প্ল্যানিংয়ে কারণে এসব হচ্ছে। যেমন এক সেক্টরের জব ডিমান্ড আছে কিন্তু সরবরাহ কম। অন্য জায়গায় জব ডিমান্ড কম, সরবরাহ বেশি। এগুলোর একটা জাতীয় পরিকল্পনা জরুরি। আগামী ১৫ ২০ কোথায় যেতে চাই। আর সেখানে গেলে কোন ধরনের শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

আগামী দিনের জব মার্কেটের দিকে তাকিয়ে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি বিশ্বমানের কারিকুলাম তৈরি করেছে। সেই কারিকুলাম ভালোভাবে পড়ানোর জন্য বাংলাদেশের কনটেস্টে ভালো মানের শিক্ষক নেয়ার চেষ্টা করি। শিক্ষকদের পিএইচডি ডিগ্রি না থাকলে টিচিং মথলোজির প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। শিক্ষকরা আফিসে ফুলটাইম থাকেন। লাইব্রেরি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। মাল্টিমিডিয়া রুমে ক্লাস হয়। রাজনৈতিক বা অন্যান্য কারণে ক্লাস পরীক্ষা মিস হলে সঙ্গে সঙ্গে তা কাভার করা হয়। নিয়মিতভাবে পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ হয়। নৈতিকতা ও মূল্যবোধে সমন্বয় করা হয়। এটির কারণে অভিভাবকদের সবচেয়ে উৎসাহিত হয়। একাডেমিক শিক্ষার বাইরে সহশিক্ষার কাজ খুব গুরুত্বসহকারে পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীদের নিজেদের ফোরাম থেকে এসব সহশিক্ষা যেমন শিক্ষামূলক সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, কমিউনিটি সার্ভিস, নৈতিকতা, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে। জব মার্কেটে এখানকার শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে টিকে আছে। শিক্ষাব্যয় খুব কম হওয়াই প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আমরা টানতে পেরেছি। এসব কার্যক্রমের কারণে রোটারি ক্লাবের প্রশংসা করে এশিয়ানকে ক্রেস্ট দিয়েছে। গবেষণার জন্য ইনস্টিটিউশন আছে। শিক্ষকদের প্রচুর গবেষণা করতে হয়। গবেষণার জন্য কোন সীমাবদ্ধতা নেই। নানা বিষয় নিয়ে নিয়মিত ওয়ার্কশপ হয়।

উচ্চশিক্ষার সার্বিক মান নিয়ন্ত্রণ বা মাপকাঠির জন্য অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এ শিক্ষাবিদ বলেন, এটি সম্পূর্ণ পক্ষপাতমুক্ত হতে হবে। সরকারি পর্যায়ে করলে পক্ষপাতপুষ্ট হওয়া ঝুঁকি থাকবে। অবশ্যই সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়কে এর আওতায় আনতে হবে। কোন আবেগ নয়, বরং জাস্টিসের ভিত্তিতে কাউন্সিল করতে পারলে সহজেই উচ্চশিক্ষার কোয়ালিটি নির্ণয় করা সহজ হবে। সংজ্ঞায়িত করা যায় এ রকম কিছু মানদণ্ড থাকতে হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পজিটিভ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট দূর করতে হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্যতা অনুসারে পিএইচডি ডিগ্রি দেয়ার সুযোগ দিতে হবে। এতে অনেক শিক্ষক সংকট কমে যাবে। কোয়ালিটি শিক্ষকদের জন্য পিএইচডি ডিগ্রি খুবই প্রয়োজন। সরকার প্রয়োজনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রেখে সমন্বয়ে করতে পারে। কিন্তু একেবারে বন্ধ করে রাখা উচিত হবে না।

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj