ইংরেজি নাম নিয়ে মাথাব্যথা নেই কারো

শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

দিন যতো গড়াচ্ছে ততোই ঢাকাই ছবির নামকরণ বদলে যাচ্ছে। অথচ প্রায় দেড় বছর আগে নির্মাতাদের ইংরেজি নামের প্রতি আকর্ষণ ঠেকাতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। সেই নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে ইংরেজি নামে অনেকগুলো ছবি মুক্তি পেয়েছে গত বছর। ‘বিগ ব্রাদার’, ‘জিরো ডিগ্রি’, ‘কার্তুজ’, ‘ওয়ার্নিং’, ‘ইউটার্ন’, ‘লাভ ম্যারেজ’, ‘ব্লু্যাক মানি’, ‘ব্লু্যাক’, ‘ব্লু্যাকমেইল’, ‘লাভার নাম্বার ওয়ান,’ ‘দ্য স্টোরি অব সামারা’, ‘রানআউট’, ‘আই লাভ ইউ প্রিয়া’, ‘হিরোগিরি’, ‘ক্রাইম রোড’, ‘রান আউট’, ‘রানা দ্য ফাইটার’ নামের অসংখ্য ছবি। ‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’ ছবিগুলো মুক্তি পেয়েছে। গত বছর জানুয়ারিতে মুক্তি পেয়েছে ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’। সম্প্রতি গত ১২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেয়েছে ‘সুইটহার্ট’ এবং গতকাল শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে ‘হিরো-৪২০’। তথ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেয়ার পর ইংরেজি নামে ছবি বানানোর হার বলা চলে আরো বেড়ে গেছে। বর্তমানে সেন্সর বোর্ড ইংরেজি নামের ছাড়পত্র দিলেও কর্তন করছে নামের ইংরেজি লেজুড়। গত ঈদুল আজহায় মুক্তি পায় বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘রাজাবাবু’। প্রথমে ছবির নাম ছিল ‘রাজাবাবু দ্য পাওয়ার’। ছবিটি জমা দিলে সেন্সর বোর্ড ‘দ্য পাওয়ার’ কর্তন করে দেয়। সম্প্রতি সৈয়দ জাফর ইমামি পরিচালিত ‘রুদ্র দ্য গ্যাংস্টার’ নামে একটি ছবি সেন্সর বোর্ডে জমা পড়ে। বোর্ড ছবিটি থেকে ‘দ্য গ্যাংস্টার’ কথাটি কেটে দেয়। সেন্সর বোর্ড ছবির নাম থেকে ইংরেজি লেজুড় ফেলে দিলেও নির্মাতারা বেপরোয়া। ‘রাজাবাবু’ থেকে ‘দ্য পাওয়ার’ ফেলে দিলেও ছবির নির্মাতা ‘দ্য পাওয়ার’ শব্দটি রেখেই প্রচারণা চালান। ছবির পোস্টারে, বিলবোর্ডে ‘দ্য পাওয়ার’ কথাটি ‘রাজাবাবু’র পাশে লাগিয়ে দেন। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্মাতাদের ইংরেজি নামের প্রতি গা ভাসানো প্রতিযোগিতা ঠেকাতে সেন্সর বোর্ডকে তৎপর হতে হবে। ছবি মুক্তির পরও জারি রাখতে হবে অনুসন্ধান। যাতে কোনো নির্মাতাই আইন লঙ্ঘন করতে না পারেন।

মুক্তির অপেক্ষায় আছে ইংরেজি-বাংলা নামের মিশেলে বেশ কয়েকটি ছবি। স¤্রাট ( দি কিং ইজ হেয়ার), মেন্টাল ( ইট কুড বি ইউর লাভ স্টোরি), দ্য স্পাই (মহানায়ক ), ‘ওয়াও ওয়াও বেবি’সহ আরো অনেক ছবি। বলা যায় এখন বাংলা নাম খুঁজেই পাওয়া যায় না। তার বদলে ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, মোস্ট ওয়েলকাম, ‘আই অ্যাম রাজা’, ‘হোয়াট ইজ লাভ’ ‘লাভ এক্সপ্রেস’-এর মতো ইংরেজি নামের ছড়াছড়ি। কিন্তু সেন্সর বিধানে এমন কোনো নিয়ম নেই। সেখানে স্পষ্ট বলা আছে বাংলা ছবির নাম কোনো কারণেই ইংরেজি হতে পারবে না। ‘হিরো দ্য সুপার স্টার’, ‘ডেঞ্জার লাভার’ থেকে শুরু করে অতীতে ‘আই লাভ ইউ’, ‘নাম্বার ওয়ান শাকিব খান’, ‘মাই নেম ইজ খান’-এর মতো হাজারো উদাহরণ আমাদের চোখের সামনে। কিন্তু এই নামকরণগুলো কি সেন্সর বোর্ডের আইন মেনে হচ্ছে? একদমই না। সেন্সর বিধানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে ছবির নামকরণে কোনো ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। শুধু তাই নয়, যদি কেউ সেটা করে তাহলে সেন্সরেই ছবিটি আটকে দেয়া হবে।

মাত্র দুই-তিন বছর আগেও সেন্সর বোর্ড এই তৎপরতা দেখিয়েছিল। বদিউল আলম খোকনের ‘হান্ড্রেট পারসেন্ট লাভ’ ছবির নাম শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ‘বুক ফাটেতো মুখ ফোটে না’ হয়েই মুক্তি পেয়েছিল। মাঝে সেন্সর বোর্ড একটু কঠোর হওয়ায় অনেকেই ইংরেজি নাম পরিবর্তন করে বাংলা নাম রাখার সাময়িক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এখনো ছবি মুক্তির সময় দেখা যাচ্ছে আবার সেই একই অবস্থা।

ফের নির্মিত হয়েছে ইংরেজি নামে ছবি। গত বছর মুক্তি পেয়েছিলো ‘জিরোডিগ্রি’ এবং ‘বিগব্রাদার’ , ‘ওয়ার্নিং’, ‘গুন্ডা-দ্য টেরেরিস্ট’, অ্যাকশন জেসমিন, ‘ওয়ান ওয়ে’, ‘এক্সকিউজ মি’সহ অসংখ্য ইংরেজি নামের ছবি। আগে থেকে নাম ঠিক করে রাখা এ সব ছবির প্রচারণা থেকে শুরু করে সবকিছুই ইংরেজিতে চলে। ফলে দর্শকরাও নামটির সঙ্গে পরিচিত হয়ে যান। পরবর্তীতে ছবিটি যখন নতুন নামে মুক্তি পায় তখন ব্যবসায়িকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। যার কারণে ইংরেজি নামেই শেষমেষ মুক্তি পাচ্ছে ছবিগুলো। তাহলে শুরুতেই এর কি প্রতিকার নেই! এ প্রসঙ্গে সাবেক সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী বলেন, ‘একটি ছবি তৈরি করার আগে পরিচালককে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির খাতায় ছবিটির নাম লিপিবদ্ধ করতে হয়। সেই সময় যদি সমিতির সদস্যরা ইংরেজি নাম লিপিবদ্ধ করতে অস্বীকার জানায় তখনই তো কেউ সুযোগ পাবেন না। একটি চলচ্চিত্র জাতির দর্পণ স্বরূপ। সেই চলচ্চিত্রে যদি নির্মাতাদের দায়বদ্ধতা না থাকে তাহলে কিভাবে হবে! আমাদের প্রজন্ম পরিবর্তন হচ্ছে। সময়ও বদলে যাচ্ছে। আমাদের উচিত নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষার তাৎপর্য তুলে ধরা। আর কোনো ইংরেজি নাম নয়, এখন থেকে শুদ্ধ, পরিপাটি বাংলা নামই দিতে হবে পরিচালককে। এখন অবশ্য পরিচালক সমিতিতে সরাসরি ইংরেজি নাম দিয়ে ছবির নাম লিপিবদ্ধ করতে দেয়া হচ্ছে না। ফলে পরিচালকরা একটু ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। আর তাদের এ কৌশল হিসেবে রয়েছে ইংরেজি আর বাংলার মিশেল। শুরুতে ইংরেজি নাম দিয়ে ব্রাকেটে বাংলা নাম দেয়ার প্রবণতা কিংবা বাংলা নাম দিয়ে ব্রাকেটে ইউরেজি নাম দেওয়ার প্রবণতা।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj