স্মরণ : ভাষাসৈনিক খালেক নওয়াজ খান

শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০১৫

এম আর মাহবুবখালেক নওয়াজ খান ১৯২৬ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানায় আচারগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা এলাহী নওয়াজ খান ছিলেন সাব ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এবং মাতা আলতাফুন্নেছা ছিলেন গৃহিণী। তিনি ১৯৪২ সালে নান্দাইল চণ্ডীপাশা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৮ সালে স্নাতক এবং ১৯৫২ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

পেশাগত জীবনে খালেক নওয়াজ খান ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিক। ১৯৪৪ সালে ছাত্রাবস্থায় ঐতিহাসিক বেকার হোস্টেল ছাত্র সংসদের প্রিমিয়ার (সহসভাপতি) নির্বাচিত হয়েছিলেন। খালেক নওয়াজ খান ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক (৪ জানুয়ারি ১৯৪৮)। ১৯৫২ সালে তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকেটে তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নূরুল আমীনকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। খালেক নওয়াজ খান পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের জন্মের পূর্বেই রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে যুক্ত হয়ে পড়েন।

৩০ ডিসেম্বর ১৯৪৭ সালে প্রথম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ভাষা আন্দোলনের একজন যোগ্য নেতা হিসেবে খালেক নওয়াজ খান ওই সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ গঠিত হয়। তারা ভাষা আন্দোলন কর্মসূচিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। তিনি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এসব কর্মসূচিকে সাফল্যমণ্ডিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

২ মার্চ ১৯৪৮ সালে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। খালেক নওয়াজ খান ওই সংগ্রাম পরিষদেরও অন্যতম নেতা হিসেবে সেখানে অন্তর্ভুক্ত হন। ওই সংগ্রাম পরিষদ ১১ মার্চ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে। এটি ছিল রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে পাকিস্তান-উত্তর প্রথম হরতাল কর্মসূচি। এ হরতালে সেদিন পিকেটিং করতে গিয়ে তিনি গ্রেপ্তার হন।

১৯৫১ সালের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন উপলক্ষে খালেক নওয়াজ খানের ডাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। তিনিই ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন। এ সভা থেকেই আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ’ গঠন করা হয়।

৩১ জানুয়ারি ১৯৫২ সালে ঢাকা বার লাইব্রেরি যে সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, সেই বৈঠকে খালেক নওয়াজ খান উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন। এ বৈঠকে কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। খালেক নওয়াজ খান ওই সংগ্রাম পরিষদেরও অন্যতম সদস্য ছিলেন। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসব্যাপী উত্তাল আন্দোলনের ময়দানে খালেক নওয়াজ খান অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্বদানের অপরাধে ১৯৫২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর নামে হুলিয়া জারি করে সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে একটি আদেশ জারি করা হয়। আদেশটি ঞযব উধপপধ এধুবঃঃব, ঊীঃৎধড়ৎফরহধৎু হিসেবে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। পরে তিনি গ্রেপ্তারবরণ করেন। দীর্ঘ প্রায় এক বছর জেলে থাকার পর খালেক নওয়াজ খান ১৯৫৩ সালের জানুয়ারি মাসে মুক্তিলাভ করেন।

১৯৫৪ সালের নির্বাচনে নূরুল আমীনের পরাজয় এবং খালেক নওয়াজ খানের বিজয়ের পর ইত্তেফাকের সংবাদ ছিল ‘পূর্ব বাংলার ভাগ্যাকাশ থেকে এক অশুভ নক্ষত্রের কক্ষচ্যুতি’। এভাবে খালেক নওয়াজের বিজয়কে ভাষা আন্দোলনের চেতনার বিজয় হিসেবেই দেখা হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২ অক্টোবর মাত্র ৪৫ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। খালেক নওয়াজ খান ২০০৮ সালে একুশে পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত হন।

এম আর মাহবুব : ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক, গবেষক।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আ ব ম খোরশিদ আলম খান

ঘরে বসে তারাবিহ্র নামাজ পড়ুন

ড. এম জি. নিয়োগী

ধান ব্যাংক

মযহারুল ইসলাম বাবলা

করোনার নির্মমতার ভেতর-বাহির

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

শিক্ষা খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

করোনা ভাইরাস এবং আমাদের যতœ

Bhorerkagoj