সম্পাদকীয়

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০১৫

‘ও ভাই রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার মতো মৃন্ময়ী রূপে মাহে রমজান শেষে ঈদুল ফিতর আমাদের মাঝে হাজির হয়েছে। এক মাস কঠিন সংযম সাধনার পর মুসলিম জীবনে এক অনাবিল আনন্দের মহাসম্মিলন ঘটে ঈদে। বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এ উৎসব বিশ্বজুড়ে মুসলিম সমাজে বিশেষ আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করা হয়। মুলমানদের ঐক্যের পথে, কল্যাণের পথে, ত্যাগ ও তিতিক্ষার মূলমন্ত্রে দীক্ষিত করে ঈদুল ফিতর। এ দিনের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক হলো, সামর্থ্যবানদের দ্বারা ফিতরা-সদকার মাধ্যমে গরিবের হক আদায় করা। এতে অর্থনৈতিক বৈষম্য যেমন দূর হয়, তেমনি সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রকাশ পায়। অন্যদিকে ঈদগাহে ধনী-গরিব নির্বিশেষে এক কাতারে নামাজ আদায় শেষে কোলাকুলির মাধ্যমে স্থাপিত হয় মহান এক সামাজিক বন্ধন। পুরো রমজান মাস আমরা যে সংযমের অনুশীলন করেছি, তা আমাদের জীবন চলার সব ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘনের নেতিবাচক প্রবণতা থেকে রক্ষা করবে। অন্যায়, অবিচার, ঘৃণা, বিদ্বেষ, হিংসা, হানাহানি মানুষের সব নেতিবাচক প্রবণতার রাশ টেনে ধরবে। ঈদ যে আনন্দের বার্তা বয়ে এনেছে, তার মর্মমূলে আছে শান্তি ও ভালোবাসা। ঈদ আমাদের সামষ্টিক জীবনে যে মিলন ও শুভবোধের চর্চার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, তা সঞ্চারিত হোক সবার প্রতিদিনের জীবনযাপনে। নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, ঈদ হোক জীবনকে নবায়ন করার আহ্বান।

ঈদ উৎসব উদযাপনের জন্য বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহর থেকে পরিবার-পরিজনসহ গ্রামের বাড়ি যান। কিন্তু যানবাহনের অপ্রতুলতার কারণে প্রতি বছরই ঘরমুখো মানুষের বেশ ভোগান্তি হয়। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ট্রেন ও বাড়তি বগি সংযোজন করার পরও অনেক মানুষকে ট্রেনের ছাদে চড়ে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। বাস ও লঞ্চের যাত্রীদের টিকেটের জন্য হাহাকার চলে। ভোগান্তি কিছুটা লাঘব হতে পারে টিকেট কেনাবেচা ও যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করার মাধ্যমে। সড়ক-মহাসড়কে যানজট ও দুর্ঘটনার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্কতা খুব জরুরি। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দ্রুত সড়ক থেকে সরিয়ে নেয়া না হলে যে যানজট বেধে যায়, তা অত্যন্ত জটিল ও দুর্ভোগময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। সড়কপথ, রেলপথ এবং নৌপথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঈদের আগে ও পরে বাড়তি নজরদারি দরকার।

ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে দিতে আমাদের দেশে আয়োজনের কমতি নেই। সবগুলো টেলিভিশন চ্যানেলই থাকে সপ্তাহব্যাপী ঈদের নানা অনুষ্ঠান। পত্রিকাগুলো প্রকাশ করে থাকে বর্ধিত কলেবরের ঈদ সংখ্যা। প্রতি বছরের মতো এবারো দৈনিক ভোরের কাগজের ঈদ সাময়িকী সাজানো হয়েছে দুই বাংলার প্রবীণ-নবীন লেখকদের নিয়ে সমৃদ্ধ সংখ্যা। এতে রয়েছে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, সাহিত্য, বিশ্বসাহিত্য, লোকসাহিত্য, রম্য, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, গবেষণা, স্মৃতিকথা, সমকালীন প্রবন্ধসহ নানা ধরনের নানা বিষয়ের লেখা। আমাদের এই আয়োজন ঈদের সব আনন্দ আয়োজনের সঙ্গে বাড়তি আনন্দ যোগ করবে এটাই প্রত্যাশা। সবাই সুন্দর ও সুস্থভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করুন। আমাদের প্রিয় পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট, শুভানুধ্যায়ী সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

শ্যামল দত্ত

'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj